বুধবার, ২৩ মে ২০১৮

‘মুগ্ধতা কাটে না এখনও’

OURISLAM24.COM
এপ্রিল ২০, ২০১৮
news-image

মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ : সাতিশয় অতিরঞ্জণ হয়ে গেল? গুণমুগ্ধ ভক্তের উচ্ছ্বল কণ্ঠস্বর বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে? কাছ থেকে যারা তাকে দেখেছেন, তার সজীব সংস্পর্শে আসার সুযোগ যাদের হয়েছে, তার প্রতীভা ও মনীষা বোঝার বোধ যাদের তৈরি হয়েছিল, তাদের দৃষ্টিতে এ শিরোনাম তার ব্যক্তিসত্তার তুলনায় অনেক কম মনে হবে।

তার প্রতিভা ও মনীষার যথাযথ সুন্দর জ্বলজ্বলে ছবি আঁকার মতো যুতসই তুলি যাদের হাতে আছে, তারা হয় লিখছেন না, সময় পাচ্ছেন না, হয় তারা লিখবেন পরে। সময় হলে, স্মৃতিছবি আঁকবার বয়সপর্ব ঘনিয়ে আসলে, আত্মীজীবনী লেখার অন্তর্তাড়না শুরু হলে তারা লিখবেন, এ আশা রাখতেই পারি। কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে তাহলে।

এমন একজন ব্যক্তির কথা কি বলব, যার দু’চার বাক্যে মূল্যায়নেও আমরা সচকিত হব, রোমাঞ্চিত হব? মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ সাহেব। চিনছেন তো? যুগবিরল প্রতিভা, সময়প্লাবী মনীষা ও স্রোতবিরোধী শুভ্র রুচির এক কিংবদন্তি নাম।

মেপে মেপে লিখেন। মেপে মেপে বলেন। এতটুকুই রঞ্জন নেই। অতিকথন নেই। বাড়বাড়ন্তি ভাব নেই। নীতি-রুচির দেয়াল ডিঙোবার অভ্যাস নেই। পছন্দও করেন না। তাই বলেই তো তার প্রতি অনেকের মুখবাঁকানি, চোখ রাঙানি। আমি কিছুটা জানি। এ জীবনে তিনি ব্যক্তিত্ব নিয়ে লিখেছেন অল্পই, অল্প ক’জন নিয়ে।

এই তিনিই বেশ মুগ্ধতা ছড়িয়ে লিখেছেন মাওলানা হারুন ইসলামাবাদী রহ. কে নিয়ে। আমি তার কিছু বইয়ের ভূমিকা বা আল-কাউসারে কিছু লেখায় পেয়েছিলাম। উদ্ধার করব, সামনের পোস্টে যোগ করব ইনশাআল্লাহ। এখন হাতের কাছ থেকে একটি উদাহরণ দিচ্ছি।

মুসলিম উম্মাহর পতনে বিশ্বের কী ক্ষতি হলো? ধরতে পারছেন তো? ‘মাযা খসিরাল আলামু বিনহিতাতিল মুসলিমীন’ এর অনুবাদ। তারই কৃত অনুবাদ। কেমন অনুবাদ হয়েছে বলতে হবে? থাক। প্রসঙ্গ আসুক, পরে।

উচাটন অপেক্ষার রোমাঞ্চই আলাদা। এ অনুবাদ সম্পর্কে আমি খোদ হজরত মিসবাহ সাহেবের মুখ থেকে শুনেছি– তখন আমি মাদরাসাতুল মদীনায় তার সুহবতে আছি- আমার অনুবাদ যদি একশত এক নাম্বারটাও হয়, তবু এ কিতাবের অনুবাদ আমি করব ইনশাআল্লাহ।

কী আবেগ- ভালোবাসা ও অন্তর্তাগিদে স্পৃষ্ট হয়েই না তিনি এ অনুবাদ করেছেন! এ অনুবাদের ভূমিকায় কেন হজরত হারুন ইসলামাবাদী রহ.-এর কথা আসবে? সে রোমাঞ্চিত কৌতূহলের দিকেই তো পাঠকদের নিয়ে যাচ্ছি।

কী এমন মোহনীয় মনীষাকিরণ ছিল, যার কারণে মিসবাহ সাহেবের মতো ব্যক্তির ভেতর ঝিলিক দিয়ে ওঠত হারুন ইসলামাবাদীর মতো হওয়ার বাসনা? কেন তিনি তাকে এত ভালোবাসতেন, এত শ্রদ্ধা করতেন? একটু পড়ে দেখি, ‘মাওলানা মুহম্মদ হারুন ইসলামাবাদী’।

যার স্নেহ-সান্নিধ্য পেয়ে একসময় মনে হতো, আমি তার মত হবো, তিনি তার কর্মস্থল আবুধাবি থেকে দেশে এলেন। দেখা করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গেলাম। দেখি তার হাতে একটি কিতাব।

নামটিও দেখা যাচ্ছে (ما ذا خسر العالم بانحطاط المسلمين) নিচে জ্বলজ্বল করছে (تأليف السيد أبي الحسن علي الحسني الندوي) মনে তখন কেমন আনন্দ অনুভূতি হলো! যেন নাগালের মধ্যে সাতরাজার ধন! আমার প্রিয়তম আলি মিয়াঁর কিতাব! হাত বাড়ালেই স্পর্শ পাবো।

আলতো করে কিতাবটি মাওলানা হারুন ছাহেবের হাত থেকে নিলাম এবং কিতাবটিব আমার হয়ে গেলো! এমনই ছিলো তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা-ভালোবাসা এবং আমার প্রতি তার স্নেহ-মায়া যে, কোনকিছু তার হাত থেকে নেয়ার অর্থই ছিলো আমার হয়ে যাওয়া। এটা আমি যেমন জানতাম, তিনিও জানতেন। সুতরাং কিতাবটি তিনি আর ফেরত চাইলেন না।’ (গ্রন্থের ভূমিকা, পৃ. ১৫)।

এসব দিয়ে বড় ভারি কিছু একটা বোঝাতে চাচ্ছি? এটুকু অন্তত বুঝতে পারি, বিভিন্ন দিক বিবেচনায় আমাদের ঘরানার ‘মহিরুহ’ মিসবাহ সাহেবের জীবন ও মানসগঠনেও একজন হারুন ইসলামাবাদীর কী পরাক্রান্ত ভূমিকা! কী সঞ্জীবনী প্রভাব! একজন মহীরুহের মুগ্ধতার তুলনায় আমাদের মুগ্ধতা নিতান্তই অস্ফুট, অপ্রতিভ।

হারুন ইসলামাবাদীকে তাহলে আমাদের চিনতে হবে, জানতে হবে, আমাদেরই স্বার্থে। স্বপ্নের সেই জোসনালু ভূবনে পদার্পণ করতে হলে এই মনীষীর জীবনচর্চা করতেই হবে।

একজন কিশোরীর ডায়েরিতে পাওয়া আদীব হুজুর

-রোরা