শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

আপনাকে কে মুজাদ্দিদ বানিয়েছে?

OURISLAM24.COM
এপ্রিল ৩, ২০১৮
news-image

খসরু রহমান: বেশ কয়েক বছর আগের কথা। মুহিউস ‍সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান এক অনুষ্ঠানে ইসলামি ধারার শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, এখন অনেক নবীন আলেমকে বলতে শোনা যায় আমরা সমাজ পরিবর্তন করবো, সমাজে সঠিক সংস্কৃতির চর্চা করবো। অথচ তারা নিজেরাই অপসাস্কৃতির শিকার হয়ে যায়। তাদের টুপি ভালো লাগে না, দাঁড়ি কাটে, বাহারি রঙের উদ্ভট পাঞ্জাবি পরে।

তিনি তাদের প্রশ্ন করে বলেন, আপনাকে কে যুগের মুজাদ্দিদ বানিয়ে পাঠিয়েছে? যে নিজের সংশোধন না করেই জাতি ঠিক করতে লেগে গেলেন? নিজের ঈমান ও আমলের দিকে তাকিয়ে দেখেন তা ঠিক আছে কিনা? না হলে এসব বাদ দেন।

কেয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা সর্বপ্রথম আপনার ঈমান ও আমলের হিসেব নিবেন। তারপর নিজের পরিবার। এরপর সমাজ ও দেশের জন্য কি করলেন জানতে চাইবেন। আপনি যদি জাতিকে ঠিক করতে যেয়ে নিজের ঈমান আমল ধ্বংস করেন তবে তা কেয়ামতের দিন আপনার জন্য কাল হবে।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কিছু নবীন ও উৎসাহী মধ্যবয়সী আলেমকে জাতি উদ্ধারের চেষ্টায় রত দেখা যাচ্ছে। যারা জাতি উদ্ধার করতে যেয়ে নিজের ঈমান, আমল ও মূল্যবান সময় ধ্বংস করছেন।

তাদের প্রায় প্রতিটি শব্দই হিংসা, বিদ্বেষ, পরশ্রীকাতরতা ও মিথ্যার সাক্ষ্যবহন করে। বিবেকবান মানুষ মাত্রই স্বীকার করবেন এমন শব্দ ও ভাষা কোনো আলেমের মুখে মানায় না। এতে অসৎ উদ্দেশ্য ছাড়া আর কিছুই নেই। আন্তরিকতা তো দূরের কথা।

নিজেকে ইতরের পর্যায়ে নামিয়ে জাতি উদ্ধারের দায়িত্ব কে দিলো আপনাকে?

সততা ও ইখলাসের সুঘ্রাণ আছে। তা যদি আপনার ভেতর থাকে আপনার শত্রুও আপনাকে সমীহ করবে। অপ্রিয় হলেও আপনার কথার মূল্যায়ন করবে এবং বিরোধিতা করার পূর্বে দু’বার চিন্তা করবে।

ourislam tv

যারা অর্থহীন ও অসার বিতর্কে নিজেকে অপচয় করছেন তাদের প্রতি অনুরোধ একটু ভেবে দেখুন কি করছেন এবং কেনো করছেন? এর সুফল-ই বা কি আর কুফলই বা কি? আল্লাহ আপনাকে যে অসাধারণ মেধা, মনন ও চিন্তা শক্তি দান করেছেন তা ব্যবহার দেশ ও জাতিকে আরও কতো চমৎকার কিছুই না উপহার দেয়া সম্ভব ছিলো।

সকল বিতার্কিকের প্রতি বিনীত অনুরোধ করে বলবো আসুন নিজেকে এভাবে অপচয় না করে আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করি। নিজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লালন করি এবং অন্যকেও তাতে উৎসাহিত করি।

আল্লাহ আমাদের সঠিক বুঝ দান করুন। আমিন।

‘বাগদাদ যখন ধ্বংস হচ্ছিল আলেমরা তখন বিতর্কে লিপ্ত ছিলেন’