শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ ।। ২১ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সিলেটের জামেয়া আশরাফিয়া ইসলাম নগর মাটিজুড়ার বার্ষিক মাহফিল ৮ নভেম্বর ইসলামী যুব আন্দোলন খুলনা মহানগরের সভাপতি আব্দুর রশিদ, সম্পাদক মুফতি মঈনুল ইসলাম রাজধানীতে বৈশাখী পরিবহনের বাসে আগুন  বৃষ্টি নিয়ে আবারও সতর্কবার্তা আবহাওয়া অধিদপ্তরের গণভোট নিয়ে জনগণের সঙ্গে গাদ্দারি করেছে সরকার: আমিরে মজলিস জুহাইমানের দখলে কাবা, দুই সপ্তাহ বন্ধ ছিল জুমার খুতবা দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় প্রিমিয়ার লিগের উদ্বোধন বাবুনগর মাদরাসার মাহফিলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ধর্ম প্রতিমন্ত্রী গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবি শ্রমিক মজলিসের জামিয়া কাসিমুল উলূমের ৮৫তম বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল ৭ নভেম্বর  

ধরণ পাল্টে ভয়াবহ রূপে যৌতুক; বিলুপ্ত হচ্ছে না কেনো?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আতাউর রহমান খসরু

দৃশ্য-১ : হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে রীতা। ডাক্তারি পরীক্ষায় দেখা গেলো তার একটি কিডনি নেই। অথচ রীতা এর কিছুই জানেন না।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো, যৌতুকের টাকা না পেয়ে তার স্বামী এবি সরকার দুই বছর আগে অ্যাপেনডিক্স অপারেশনের নামে অভিনব প্রতারণার ফাঁদে ফেলে রীতাকে। অসৎ চিকিৎসকের সহায়তায় তার একটি কিডনি বিক্রি করে দেয় পাষণ্ড স্বামী।

[সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮]

দৃশ্য-২: দুপুরে স্কুল থেকে ফিরেছে মীনা। তার প্রচণ্ড ক্ষুদা লেগেছে। তাই গেটের বাইরে থেকে মাকে ডাকতে ডাকতে ঘরে ঢুকে সে। চিৎকার দিয়ে ওঠে মীনা। তার মা ফ্যানের সাথে ঝুলছে।

প্রতিবেশীরা উদ্ধার করে সাভার এনাম মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশের দাবি মীনার মাদকাসক্ত বাবা আলী আকবর যৌতুক না পেয়ে তার মাকে শ্বাসরোধ হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যায়।

[সূত্র : ১০ মার্চ ২০১৮, বিডি নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম]

দৃশ্য-৩: আবুল কাসেম সরদার। একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা। তিনি খুলনার পৈতৃক ভিটা বিক্রির করে দিয়েছেন। কেননা তাকে মেয়ের ঘর সাজিয়ে দিতে হবে। তিনি চিন্তিত পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া ১০ লাখ টাকায় মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করতে পারবেন কিনা?

আবুল কাসেম সরদারের মেয়ে একজন উচ্চশিক্ষিতা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামী সাবজেক্টে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন। মেয়ের জামাইও উচ্চশিক্ষিত এবং কোনো এক মন্ত্রণালয়ের সরকারি ইঞ্জিনিয়ার।

এ তিনটি দৃশ্য আমাদের সমাজের ৩ স্তরের। উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন। অর্থাৎ সমাজের সবস্তরে এখনও সমানভাবে মেয়ে পরিবারকে নিজের সাধ্য বা সাধ্যের বেশি কিছু দিয়ে মেয়ের জামাইকে সন্তুষ্ট করতে হচ্ছে।

যদিও তা স্তরভেদে চলছে ভিন্ন ভিন্ন নামে। কোথাও যৌতুক নামে, কোথাও ঘর সাজানোর নামে আবার কোথাও উপহার নামে। যৌতুক বিরোধী কঠোর আইন করেও কোনোভাবে তা রোধ করা যাচ্ছে না।

ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলিম সমাজে যৌতুকের যে প্রথা রয়েছে তা মূলত এ অঞ্চলের বিধর্মীয় উত্তরাধিকার। উপমহাদেশের মানুষ ইসলাম ধর্মগ্রহণের পূর্বে হাজার ধরে এ অঞ্চলে হিন্দু ধর্ম আচরিত হয়ে আসছে। হিন্দু ধর্মমতে নারী পিতার উত্তরাধিকার পায় না। পায় যৌতুক।

তাই স্বামী বিয়ের সময় সর্বোচ্চ সুবিধা লাভের চেষ্টা করে। হিন্দু সমাজে এ নিয়ম এখনও বহাল রয়েছে।

হাজার বছরের ঐতিহ্য ও হিন্দু প্রতিবেশের