বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

মুসলিমদের ৫ টি অজানা আবিষ্কার

OURISLAM24.COM
মার্চ ২২, ২০১৮
news-image

সাখাওয়াত উল্লাহ : ইউরোপ সম্পর্কে আমরা অনেকেই অনেক কিছু জানি। তবে এই মহাদেশ সম্পর্কে অনেক কিছুই রয়ে যায় জানার বাইরে, যেগুলো শুনলে যত না আপনারা অবাক হবেন, তার চেয়ে বেশি হবেন বিমোহিত! এরকম ৫টি অজানা তথ্য এবার তুলে ধরা হল –

১. কন্টিনেন্টাল ব্রেকফাস্ট : অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে থাকাকালীন আমি তাদের ইতিহাস সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করলে তারা আমাকে একটি মজাদার তথ্য দেন। পশ্চিমা বিশ্বতে আমরা যা কন্টিনেন্টাল ব্রেকফাস্ট বলে জানি, তা মূলত অস্ট্রিয়াতেই আবিষ্কৃত হয়েছিল।

একটি প্রাচীন গল্পের মতে, এই রকমের খাবার ভিয়েনার মুসলিম রাঁধুনিরা আবিষ্কার করলেও এটা তুর্কিদের প্রচেষ্টার ফলেই এটি ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে যায়।

২. শ্যাম্পু : বিশ্বের যেকোনো বাসার বাথরুমে ঢুঁ মারলেই একটা জিনিস সচরাচর দেখা যাবে – আর তা হল শ্যাম্পু। এই শ্যাম্পুর আবির্ভাব এমনি এমনিই ঘটেনি। এটিকে এনেছিলেন একজন বাঙালি-ভারতীয় মুসলিম যার নাম ছিল শেখ দ্বীন মোহাম্মদ।

ভারতের পাটনার এক মুসলিম পরিবার থেকে উঠে আসা শেখ দ্বীন মোহাম্মদ ১৭৫৯ সালে ইংল্যান্ডের প্রথম হাম্মাম প্রতিষ্ঠা করেন। ঠিক সমুদ্র সৈকতের সামনেই ছিল তার ‘মোহাম্মদস ইন্ডিয়ান ভ্যাপোর বাথ’।

বর্তমানে এই জায়গাটি কুইন্স হোটেল নামে পরিচিত। এই গোসলখানাগুলো তুর্কি হাম্মামের অনুরূপ হলেও এটিতে ছিল এক নতুন সেবা যা ইংল্যান্ড আগে কখনো দেখেনি। তার এই গোসলখানায় একজন ব্যক্তিকে একটি নলের নিচে বসানো হত এবং তার মাথার ওপরের নল থেকে একজন মানুষের দুটো হাত বেরিয়ে আসতো এবং মাথায় শ্যাম্পু লাগিয়ে মাথা মালিশ করে দিত।

ইংল্যান্ডে এটিই ছিল প্রথম শ্যাম্পুর ব্যবহার, এবং এটির প্রচলন ধীরে ধীরে ছড়িয়ে যেতে থাকে। তার এই অভূতপূর্ব পদ্ধতির জন্য তিনি রাজা জর্জ চতুর্থ এবং উইলিয়াম চতুর্থের ‘শ্যাম্পুর ডাক্তার’ হিসেবেও কাজ করেছেন।

৩. ক্যামেরা : বর্তমান যুগে ক্যামেরা ছাড়া আমরা ফোন চিন্তাও করতে পারি না। তবে এই ক্যামেরা আবিষ্কার করা হয়েছিল কোথায়? ইতিহাস ঘাঁটলে অল্প কিছু বলা থাকলেও তেমন বিস্তারিত বলা নেই।

১১ শতাব্দীতে ইবনে আল হায়থামের হাত ধরেই এই ক্যামেরার আবিষ্কার। সেসময়ে কায়রোর খলিফার কাছে নিজের বড়াই করার জন্য তাকে গৃহবন্দী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন খলিফা।

তবে কেই বা জানতো যে এই শাস্তি বিশ্বের জন্য এক অনন্য আবিষ্কার এনে দেবে? একদিন অন্ধকার একটি কক্ষে থাকাবস্থায় তিনি ছোট একটি ফুটো থেকে আলো দেখতে পান, এবং এটা লক্ষ্য করেন যে বস্তুতে আলো পড়াতে তিনি দেখতে পারছেন, তাছাড়া আসে পাশের সবকিছুই নিছক অন্ধকার।

এই কক্ষের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ক্যামেরা অবস্কুরা । এটি নিয়ে তিনি বেশ কয়েকবছর গবেষণা চালিয়ে যান, এবং তিনি তার নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করেন। এই তত্ত্ব থেকেই আধুনিক যুগের ক্যামেরার আবির্ভাব।

৪. বিশ্ববিদ্যালয় : বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় মুসলিমদের হাত ধরেই আসে। মরক্কোর ফেস নামক স্থানে ৮৫৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আল-কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়কে পৃথিবীর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ছিল মুসলিম বিশ্বে নেতৃত্বদানকারী অন্যতম একটি আধ্যাত্মিক ও শিক্ষাবিষয়ক কেন্দ্র। এটি মূলত ইসলাম শিক্ষাবিষয়ক ধর্মভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়।

মধ্যপ্রাচ্যে আল-কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়টি ইসলামিক বিশ্ব এবং ইউরোপের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। মানচিত্রকার মোহাম্মদ আল ইদ্রিসী, যাঁর মানচিত্র রেনেসাঁর সময় ইউরোপিয়ানদের গবেষণা করতে সাহায্য করেছিল; তিনি এখানে পড়ালেখা করেছিলেন।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক পণ্ডিত ও বুদ্ধিজীবী পড়ালেখা করেছিলেন, যাঁরা মুসলিম ও ইহুদি বিশ্বকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছিলেন।

মহাপণ্ডিতদের মধ্যে অন্যতম হলো ইবনে রাশেদ আল-সাবতি, মোহাম্মদ ইবনে আলহাজ আল আবদারি আল-ফাসি, আবু ইমরান আল-ফাসি, বিশিষ্ট তাত্তি্বক মালিকী, বিখ্যাত পর্যটক ও লেখক রাবি্ব মুসিবিন মায়মন।

৫. কফি : আমাদের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে একটি হচ্ছে কফি। এই কফিরও আবির্ভাব মুসলিমদের হাত ধরে। কথিত আছে, প্রায় ১২০০ বছর আগে এক আল খালিদ নামের এক মুসলিম মেষপালক প্রতিদিনের মতই তার মেষের দেখভাল করছিল।

হটাত করেই সে লক্ষ্য করে যে একটি নির্দিষ্ট ফল খাওয়ার পর তার মেষ অস্বাভাবিক আচরণ করছে, তাদের মধ্যে অনন্য এক চাঙ্গা ভাব চলে এসেছে। এই থেকেই সে সেই ফলটি নিয়ে সেদ্ধ করে খায়, এবং সে নিজেও চাঙ্গা অনুভব করে এবং ঘুম কম পেত।

এরপর এই যুগান্তকারী ফলের উপকারীতা নিয়ে পুরো ইউরোপ জুড়ে তোলপাড় পরে। সেসময়ে মুসলিমরা রাতের তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য জাগ্রত থাকার জন্য এই পানীয় পান করতো। এভাবে করেই কফি পুরো বিশ্ব দরবারে ছড়িয়ে যায়।

সূত্র : মুসলিম ভিলেজ