বৃহস্পতিবার, ২৬ এপ্রিল ২০১৮

‘প্রতি রাতে চাউর হতো, মুসলিমদের উপর আক্রমণ হবে’

OURISLAM24.COM
মার্চ ২২, ২০১৮
news-image

[জামিয়া দারুল উলুম করাচির মুখপাত্র ‘ماہنامہ البلاغ মাহনামা আল-বালাগ’ এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত বিশ্বনন্দিত আলেম, স্কলার আল্লামা তাকি উসমানির আত্মজীবনী আওয়ার ইসলামে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে আলহামদুলিল্লাহ।

এ বিষয়ে আল্লামা তাকি উসমানি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ার ইসলামকে ভাষান্তর করে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। গত ২ জানুয়ারি জামিয়া দারুল উলুম করাচির তাখাসসুস ফিল ইফতার শিক্ষার্থী, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকমের শুভাকাঙ্ক্ষি উমর ফারুক ইবরাহীমীর মাধ্যমে আল্লামা তাকি উসমানি ও পত্রিকা কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মজীবনী ‘ইয়াদে’ অনুবাদের অনুমতি চাওয়া হলে তারা খুশি মনে রাজি হন এবং আওয়ার ইসলামকে ধন্যবাদ জানান বাংলাভাষায় ইসলামের প্রচার ও প্রসারের জন্য।

আল্লামা তাকি উসমানির নতুন ধারাবাহিক আত্মজীবনী “یادیں ইয়াদেঁ ” মাহনামা আল-বালাগে সফর ১৪৩৯ হিজরি, নভেম্বর ২০১৭ ইংরেজি মাস থেকে। আওয়ার ইসলামে লেখাটি সপ্তাহে দুদিন ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে। আজ প্রকাশ হলো ১৮ তম কিস্তি। অনুবাদ করেছেন মাওলানা  উমর ফারুক ইবরাহীমী।]

দেওবন্দে আমাদের মহল্লার পূর্বপাশ জুড়ে বিস্তৃত হিন্দু জনবসতি ছিলো। ওটাকে সবাই হিন্দুপাড়া বলতো। প্রতি রাতেই এই ভুল বার্তা চারিদিকে চাউর হয়ে যেতো, আজ রাত হিন্দু বা শিখ কর্তৃক মুসলিমদের উপর আক্রমণ হবে।

এই সম্ভাবনা থেকেই যুবকরা মফস্বলের বিভিন্ন বিপদজনক পয়েন্টে পালাক্রমে সিকিউরিটি বা পাহারা বসাতো। অবস্থাদৃষ্টে বিশেষত শিখদের এহেন খুনোখুনির আলেখ্য আমার শিশুসুলভ স্মৃতিপটে বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছিলো।

আমার চার বছরের মননে একথা ঠাঁই করে নিয়েছিলো যে, শিখ কোনো ভয়ংকর বিপদজনক প্রাণী। একবার কি কারণে যেনো আমি বাসার সবার সাথে অভিমান এবং বয়কট করে রাতে আমাদের ঘরের পূবপাশের দরজার কোণঘেঁষে শুয়ে পড়েছিলাম।

আমার সেই ছোট্ট সময়ের দৃষ্টিতে, ঘরের এই কোণটি দুই কারণে বিপদজনক ছিলো।

প্রথমত: এখানে জ্বালানি, খড়কুটো পড়ে থাকতো, তাই কখনো এতে বিচ্ছুরও দেখা মিলতো।

দ্বিতীয়ত: এই দরজাটি হিন্দুপাড়া অভিমুখী ছিলো এবং এটার পাশদিয়েই শিখদের মিছিল যেতো।

আর এদিক দিয়ে শিখদের আক্রমণের সম্ভাবনাও ছিলো সবচে বেশি। কিন্তু এই দুটো বৃহৎ বিপদজনক সম্ভাবনার কথা জেনেশুনেও আমি ঘরের সবাইকে বুঝিয়ে দিতে চেয়ে ছিলাম, তাদের কোনো কাজ আমার কাছে এতটাই অসহ্যকর যে, বাধ্য হয়েই আমাকে এমন কঠিন এবং ধ্বংসাত্মক প্রতিবাদের পথ বেছে নিতে হয়েছে।

আমার ভাই,বোনরা পালাক্রমে এসে যখন আমার অভিমান ভাঙিয়ে ঘরে ফেরাবার চেষ্টা করছিলেন, আমার তোতলামুখে শুধু একটিই জবাব ছিলো-

چاہے چھتھ آؤ،چاہے بچھو تاتو، ہم تو یہیں پلے لہیں دے!

অর্থাৎ- چاہے کوئ سکھ آجاے، یا کوئ بچھو کاٹ لے، ہم تو یہیں پڑے رہیں گے!
“শিখ আসুক আর বিচ্ছু কাটুক, আমি তো এখানেই পড়ে থাকবো”

অবশেষে আমার এই কঠোর প্রতিবাদ রুখতে সবাই যখন ব্যর্থ, তখন হযরত আব্বাজান রহ. এর হস্তক্ষেপ করতে হলো। তিনি এসে আমাকে কোলে নিয়ে আদর দিলেন এবং উঠিয়ে ঘরে নিয়ে গেলেন। স্বভাবত এরপর আমার দাবীগুলোও মেনে নেয়া হয়েছে।

পাকিস্তান হিজরত

সে সময়ে ঘরে এ কথার চর্চা খুব বেশি হতো যে, আমাদের পাকিস্তান যাওয়া উচিত কিনা? হযরত আব্বাজান রহ. স্বীয় শায়েখ হাকিমুল উম্মত হযরত আশরাফ আলি থানবি এবং তার উস্তাজ শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানি রহ. এর ইশারায় পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছিলেন।

শাইখুল ইসলাম আল্লামা শাব্বির আহমাদ উসমানি রহ. তখন পাকিস্তান চলে এসেছিলেন।

পাকিস্তানের কায়দে আজম মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ সাহেব পাকিস্তানের সর্বপ্রথম পতাকা উত্তোলনের জন্য তাকেই অনুরোধ করেছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর হযরত শাব্বির আহমাদ উসমানির প্রথম প্রচেষ্টা এটাই ছিলো, এদেশের জন্য ইসলামি সংবিধান প্রণয়ন করা হোক।

সুতরাং এই মানসে তিনি মরহুম জিন্নাহ সাহেব এবং ততকালীন প্রধানমন্ত্রী নবাবজাদাহ লিয়াকত আলি খান সাহেবকে ইসলামি সংবিধান প্রণয়নের জন্য তখনকার বড়বড় উলামায়ে কেরামের সাহায্য নিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে এই কাজের জন্য আমার আব্বাজান হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ শফি, হযরত মাওলানা মানাজির আহসান গিলানি এবং জনাব ডক্টর হামিদুল্লাহ রহ.কে নির্বাচন করা হয়েছে এবং তাদের পাকিস্তান আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বলা হয়েছিলো- তারা যেনো তিন মাসের মধ্যে ইসলামি সংবিধানের খসড়া বানিয়ে রিপোর্ট আকারে পেশ করেন। চলবে ইনশাআল্লাহ…

পূর্ব পাঞ্জাবে শিখ কর্তৃক মুসলিমদের উপর রক্তক্ষয়ী উপাখ্যানের সূচনা হলো

আরআর