শনিবার, ২৬ মে ২০১৮

মুসলিম বিজ্ঞানী ইবনে সিনা সম্পর্কে ৫ তথ্য

OURISLAM24.COM
মার্চ ১০, ২০১৮
news-image

রকিব মুহাম্মাদ
আওয়ার ইসলাম

‘দ্য প্রিন্স অব ফিজিশিয়ানস’ নামে খ্যাত আবু আলী আল হোসাইন ইবনে সিনা সংক্ষেপে ইবনে সিনা হিসেবে পরিচিত। প্রাচ্যে তাকে আভিসিনা (Avicena) ডাকা হয়।

৯৮০ খ্রিস্টাব্দে এ মনীষীর জন্ম বোখারার নিকটবর্তী আফসানা নামক গ্রামে। ইবনে সিনার বাবা আবদুল্লাহ ও মা সিতারা ছিলেন তুরস্কের ‘বলক’ প্রদেশের অধিবাসী এবং ইসমাঈলি মুসলিম। আসুন,মুসলিম এই বিজ্ঞানী সম্পর্কে পাঁচটি চমৎকার তথ্য জেনে নেই।

১. ‘ইবনে সিনা’ শব্দের অর্থ হলো ‘সিনার পুত্র’। কিন্তু আসলে কিন্তু তাঁর পিতার নাম ‘সিনা’ ছিল না! তাঁর পুরো নাম ছিল আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল হাসান ইবনে আলী ইবনে সিনা।

অর্থাৎ তাঁর অনেক ঊর্ধ্বতন পুরুষ ছিলেন সিনা নামের একজন। কিন্তু এই বিশাল নামকে মানুষ ছোট করতে করতে কেবল শেষের ‘ইবনে সিনা’ (ابن سینا) নামেই ডাকা শুরু করে।

আর লাতিনে সেই নামের আরো বিকৃতি সাধিত হয়, নামটা হয়ে যায় Avicenna! তবে ইতিহাসের পাতায় তিনি ইবনে সিনা নামেই পরিচিত হয়ে আছেন অনন্তকালের জন্য।

২. মাত্র ১০ বছর বয়স হবার আগেই ইবনে সিনা কুরআন হেফজ করেন। ছোটবেলায় তিনি কোরআন, ফিকাহ, সাহিত্য এবং ভারতীয় হিসাববিদ্যা শেখায় কিছুটা সময় কাটান এবং দশ বছর বয়সেই পুরো কোরআন আয়ত্ত করে ফেলেন।

ইসমাইল আল জাহিদ নামের একজন সুন্নি হানাফি শিক্ষকের কাছ থেকে তিনি ইসলামি ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।

৩. ইবনে সিনা ছোট বেলাতেই কুরআনে হাফিজ হন। তিনি কুরআনের সুরার ব্যাখ্যা নিয়ে ৫টি পুস্তিকা লিখেন, এর মাঝে একটি ছিল ‘নবীত্বের প্রমাণ’ শিরোনামে। তিনি যুক্তিবিদ্যা দিয়ে কুরআনের ব্যখ্যাও দিয়েছিলেন।

‘আল বুরহান আল সিদ্দিকিন’ নামে একটি যুক্তির সাহায্যে তিনি ঈশ্বরের অস্তিত্ব প্রমাণ করে তৎকালীন সময়ে স্রষ্টায় অবিশ্বাসীদের দাঁত ভাঙা জবাব দিয়েছিলেন।

৪. ষোলো বছর বয়সেই এই মহান মনীষী বিখ্যাত একজন ডাক্তার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। অনেক বড়ো বড়ো ডাক্তারও তাঁর চিকিৎসাবিদ্যার গভীরতার সামনে নিজেদেরকে অত্যন্ত ছোট্ট বলে মনে করত।

১৮ বছর বয়সেই পুরোদমে ডাক্তার হয়ে গেলেন তিনি! তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল দূর-দূরান্তে, বিনা পয়সাতেও চিকিৎসা করতেন ইবনে সিনা।

৫. ইবনে সিনা ‘আল কানুন ফি আত-তিব’ (The Canon of Medicine) নামে যুগান্তকারী একটি গ্রন্থ রচনা করে গেছেন। কানুন পাঁচটি গ্রন্থের সমন্বিত সংকলন। তাঁর পাঁচ খণ্ডের এই আল কানুন আল ফিত-তিবকে বলা হয় মেডিক্যাল শাস্ত্রের বাইবেল।

বইগুলো সব লেখা শেষ হয় ১০২৫ সালে। এই বই এতই বহুমুখী ছিল যে, মধ্যযুগীয় ইউরোপে একে আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং অষ্টাদশ শতকে পাঠ্যবই হিসেবে পড়ানো হতো।১৯০৫ সালে এ বইটি ফ্রান্সে এবং ১৯৩০ সালে ব্রিটেনে অনূদিত হয়। এছাড়াও একশ’রও বেশি বই ইবনে সিনা লিখে গিয়েছিলেন।

তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট

আরও পড়ুন: ১৩ দেশে নাস্তিকতার শাস্তি মৃত্যুদণ্ড