শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮


জাফর ইকবালের উপর হামলা এবং তসলিমা নাসরিনের উস্কানি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কাজী হামদুল্লাহ

গত শনিবার লেখক ও সাহিত্যিক মুহম্মদ জাফর ইকবালের উপরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। যা এখন টপ অব দ্যা কান্ট্রি। সর্বত্র এ নিয়ে আলোচনা চলছে। চা-চক্রেতাও গবেষণা করছে এ নিয়ে।

হামলাকারী কে, কেন হামলা করেছে, হামলা করে ভালো করেছে না মন্দ করেছে ইত্যাদি। তবে দেশের প্রায় সর্বস্তরের মানুষ এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে, হামলাকারীর উপযুক্ত শাস্তি এবং তার সাথে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারেরও দাবি করেছে।

কিন্তু একদল অতিউৎসাহী লোক দুটি পৃথক মেরুতে দাঁড়িয়ে তর্কে লিপ্ত হয়ে গেছে।

প্রথমত ধার্মিক দল, দ্বিতীয়ত ধর্ম তথা ইসলামবিদ্বেষী দল। ধার্মিকদের অতিউৎসাহী একটা দল বলছে, এ হামলা যেই করুক, ভালো করেছে। কারণ চেতনাবিক্রেতারা দেশে না থাকলে, দেশ কিছুটা হলেও এগিয়ে যাবে। এরা দেশ-ধর্ম এবং সমাজের জন্য হুমকি স্বরূপ।

অনেকে ট্রল করছে তার উপরে হামলা নিয়ে। যাদের ট্রলবাজি আমার চোখে পড়েছে তাদের আমার ঘৃণা লাগে আরো আগ থেকেই। কারণ তাদের পদ্ধতি আর ভাষাগুলো এতোটাই বিকৃত যে, রুচিশীল কেউ ওদিকটায় যাবার কথা নয়।

তবে দুঃখজনক হলেও বলতে হচ্ছে, কিছু সেলিব্রেটি আলেমও এতে জড়িয়ে গেছে। তারাও বাজে সব শব্দের হাট বসিয়ে বাট লাগাচ্ছে আলেমসমাজের।

মনে রাখা দরকার, একজন আলেমের কাজ ট্রলবাজি নয়। আরো বড় কোন কাজের জন্য তাদের পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া এসব ট্রল করে কোনো লাভই হচ্ছে না। বরং ক্ষতি হচ্ছে।

কী ক্ষতি হচ্ছে, এতোটুকু না বুঝলে তাদের নিয়ে কথা বলাটাই ক্ষতিকর। অরণ্যে রোদনের শক্তিশালী উপমা।

তাছাড়া তারা মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে অন্যের নাম বিকৃত করে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে তথাকথিত ধর্মবিদ্বেষী ব্লগার এবং এদের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।

কারণ আমরা যেমন ওদের প্রিয় ব্যক্তিদের যাচ্ছে তাই বলে যাচ্ছি, নামের ঘাম ছোটাচ্ছি, ওরাও আমাদের প্রিয়দের নিয়ে এমন করে। উপরন্তু আমাদের দেখে তারা একটু মাত্রা বাড়িয়ে দেয়।

ধর্মের লেবেল লাগিয়ে যারা এসব করছে, তারা বলতে পারবে; ধর্মের কোথায় এসবকে বৈধ বলা আছে? উল্টো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আছে এসবের প্রতি।

একজন সুস্থ বিবেকবান এবং একজন সচেতন ধার্মিক; কোন দিক থেকেই এগুলো সমর্থনযোগ্য নয়। বরং ঘৃণিত-ধিকৃত। হয়তো এগুলো ছাড়ুন নয়তো ধর্মের লেবেলটা খুলে রাখুন। এতে অন্তত আপনাদের পূর্বপুরুষের ধর্ম কিছুটা হলেও পরিত্রাণ পাবে।

কেউ একজন ফেসবুকের কোনো এক পোস্টের কমেন্টে ট্রল করে বা কৌতুক করে অথবা গোস্বা ঝেড়ে বলেছে, ‘জাফর ইকবালককে মেরে ফেললেই ভালো হত