শাহনূর শাহীন
‘রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই’ এই শ্লোগানকে বুকে ধারন করে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষার জন্য ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ঢাকার রাজপথে নেমে এসেছিলো বাংলার দামাল ছেলেরা। বাংলায় সেই দিনটি ছিল ১৩৫৯ সালের ৮ই ফাল্গুন বৃহস্পতিবার।
সে দিন ছাত্র জনতা ভাষার জন্য ফুলের মত বুকে ধারন করেছিল ঘাতকের বুলেট। পাকিস্তানি ঘাতকের বুলেটের আঘাতে প্রাণ দিয়েছিলো সালাম, বরকত, রফিক, শফিক জব্বর সহ আরো অনেকে। তারা প্রাণ দিয়েছিলো বাংলা ভাষার জন্য।
অথচ আজ সে ভাষা চরমভাবে অবহেলিত। বাংলা সনে সে দিনটি কত তারিখ ছিল আজকের বাঙ্গালিদের তা জানা নেই বা জানা থাকে না। গৌরবের দিনটি আজকে শুধুমাত্র ২১ ইংরেজিতে উদযাপন করি।
হ্যাঁ, সারা বিশ্বের মানুষ তো আর বাঙ্গালি নয় যে, তারা বাংলায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযান করবে। মাতৃভাষা বাংলার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী বীর শহীদদের মহান আত্মদানের দিনটিকে শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্ববাসিও যে মাতৃভাষা দিবস হিসেবে উদযাপন করে এটাই আমাদের জন্য গর্ব।
সুতরাং ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন নিন্দনীয় নয়, বরং ৮ ফাল্গুনকে অবহেলা করাটা নিন্দনীয়। ভাষার প্রতি অবহেলা করা ভাষার অবমাননা করাটা চরম নিন্দনীয়।
শুধুমাত্র শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে নিরবতা পালন করার জন্য এতোগুলো তাজা প্রাণ নিশ্চয়ই ঝড়ে পড়েনি। সেদিন প্রান ঝড়েছিলো ভাষার স্বাধীনতার জন্য, ভাষাকে মুক্ত করার জন্য। অথচ স্বাধীন বাংলাদেশে আজ বাংলা ভাষা দিবসের কুঠিরে বন্দি হয়ে আছে।
ঘোষণা করা হোক ‘জাতীয় ভাষা শহীদ দিবস’। একসাথে পালন করা হোক ‘জাতীয় ভাষা শহীদ দিবস’ এবং ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’।
শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে নিরবতা পালন করে বাংলা বর্ণমালা খচিত পোষাক পরে একদিনের জন্য তাও সম্পূর্ণ বিজাতীয়দের অনুকরণে ভাষা শহীদদের স্বরণ করে গান গেয়ে আনন্দ উৎসব করে দিনটিকে উদযাপন করে নিজেদের দায়িত্বকে আমরা শেষ মনে করি।
ভাষার দিনে রাস্তায় আঁলপনা আঁকি। বাংলা বর্ণমালার পসরা সাজিয়ে জুতা পায়ে মাড়িয়ে যাই; আবার শহীদ মিনারে জুতা পায়ে উঠে অনুপস্থিত শহীদদের অবমাননা করি।
এ যেন এক প্রকার তামাশা ছাড়া আর কিছুই না। যেই লোকটা দিনের বেলায় ভাষার জন্য মায়া কান্না করে সেই আবার রাতের বেলায় হিন্দি গানের আসর বসায়। এটা কি মাতৃভাষার অপমান নয়?
