২০১৮-০২-১৭

রবিবার, ২০ জানুয়ারি ২০১৯

বরুণা মাদরাসার বার্ষিক মাহফিলে ধর্মপ্রাণ মুসল্লির ঢল

OURISLAM24.COM
news-image

এহসান বিন মুজাহির: সিলেট বিভাগের সর্ববৃহৎ বার্ষিক ইসলামী মহাসমাবেশ ঐতিহ্যবাহী বরুণা মাদরাসার আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন আজ শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাদ ফজর বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। সালানা ইজলাস (বার্ষিক মাহফিলে) দেশের বিভিন্ন জেলাস প্রত্যন্ত অঞ্চলের লাখো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি, ভক্ত-মুরিদ, আলেম-ওলামা, লেখক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষাবিদ, জনপ্রতিনিধিসহ বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের ঢল ছিল।

শুক্রবার সকাল দশটায়, আমীরে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলাম ও বরুণার পীর শায়খুল হাদিস আল্লামা শায়খ খলীলুর রহমান হামিদীর সভাপতিত্বে ও হাফিজ মাওলানা শফিউল আলমের সঞ্চালনায় সালানা ইজলাসের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভারত থেকে আগত মেহমান-আওলাদে রাসূল আল্লামা সায়্যিদ আসজাদ মাদানী। তিনি বলেন-মুসলমানদের মাঝে ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে হযরত শায়খে বর্ণভীর (রাহ.) মিশনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। মুসলিম উম্মাহর সংকটময় মুহুর্তে বরুণা মাদরাসার খেদমত জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইংল্যান্ড থেকে আগত মেহমান প্রখ্যাত মিডিয়া ব্যক্তিত্ব বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, আল খায়ের ফাউন্ডেশ ইউকের চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম কাসিম রাশিদ আহমদ। তিনি বলেন-বাংলাদেশে আলেমদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। বাংলাদেশের উলামায়ে কেরাম মানবতার কল্যাণে আত্মনিয়োগ করতে পারলে সেদিন বেশি দূরে নয় যে, ইসলাম ও ইসলাম পন্থীদের সুদিন ফিরে আসবে। আলেমদের কাজ বিভেদ নয়, ঐক্যবদ্ধ চেতনায় উম্মাহর জন্য কাজ করতে হবে।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আঞ্জুমানে হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মী ও সুধীদের আগমন শুরু হয়। হককানী আলেম ও আল্লাহর ওলীদের মুখ থেকে কোরআন ও হাদিসের বাণী শোনার জন্যে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন লাখো ধর্মপ্রাণ মানুষ। শত শত গাড়ীর বহরে যানজটে রূপ নেয় ভৈরবগঞ্জ বাজার থেকে হামিদনগর পর্যন্ত। প্রায় ৫ কিলোমিটার সড়ক হেটে হেটে মানুষ বরুণায় পৌছেন।

শুক্রবার সকাল থেকে আজ শনিবার ফজর পর্যন্ত ধারাবাহিক আলোচনা, কুরআন তিলাওয়াত, তারানায়ে হেফাজতের আওয়াজে প্রাণের বন্যা শুরু হয়েছিলো। জনসমূদ্রে রূপ নিয়ে ছিলো মহাসমাবেশস্থল ও আশপাশ এলাকা। বরুণার ছাত্র-শিক্ষক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যদের সুশৃঙ্খলিত ব্যবস্থাপনা ছিল প্রশংসনীয়।

মহাসম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন-বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের (বেফাক) শায়খুল হাদিস আল্লামা আব্দুল বারি ধর্মপুরী, আল্লামা মুফতি রশিদুর রহমান ফারুক বর্ণভী, দারুল আরকাম বি-বাড়িয়ার প্রিন্সিপাল আল্লামা সাজিদুর রহমান, আল খলীল এডুকেশন অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার ইউকের চেয়ারম্যান ও বরুণা মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা শেখ বদরুল আলম হামিদী, সেইভ হিউম্যানিটি ইউকের চেয়ারম্যান ও বরুণার সদরে নায়েবে মুহতামিম মাওলানা শেখ নূরে আলম হামিদী, হাফিজ মাওলানা ওলীউর রহমান বর্ণভী, শায়খ নূরুল ইসলাম বিশ্বানাথী, শায়খুল হাদীস মাকবুল হুসাইন আসগরী, শায়খুল হাদীস মুখলিছুর রহমান কিয়ামপুরী, শায়খুল হাদীস আব্দুস শহীদ গলমুকাপনী, শায়খ মাওলানা মমতাজ উদ্দীন বড়দেশী, মাওলানা মেরাজুল হক কাসিমী, মাওলানা শাহ নজরুল ইসলাম, অধ্যক্ষ আবদাল হুসেন খানসহ শতাধিক আলেম।

উক্ত সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য রাখেন-সাবেক চীপ হুইফ উপাধ্যক্ষ ড. মো: আব্দুশ শহীদ এমপি, সিলেট সিটি মেয়র জনাব আরিফুল হক, মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব আজিজুর রহমান, মৌলভীবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান, কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুর রহমান, শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কেএম নজরুল ইসলাাম, মাওলানা মুহাম্মদ মুনতাসির আলী, অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ আব্দুস সবুর, মাওলানা আহমদ বিলাল প্রমুখ।আজ বাদ ফজর মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যেমে ইসলামী মহসম্মেলন শেষ হয়।