শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮

প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি নয়?: হাইকোর্ট

OURISLAM24.COM
ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০১৮
news-image

আওয়ার ইসলাস,ডেস্ক: শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা মহামারি আকার ধারণ করেছে এবং মাদকের মতো তা তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে বলে মন্তব্য করেছেন হাইকোর্ট। সেই সঙ্গে ওই ঘটনা খতিয়ে দেখতে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি আর সমাধান খুঁজতে একটি প্রশাসনিক কমিটি গঠন করে দিয়েছেন আদালত।

বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এস এম কুদ্দুস জামানকে। আর প্রশাসনিক কমিটির প্রধান করা হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদকে। এ ছাড়া প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধ করার ক্ষেত্রে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে।

বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে আদেশ দেন। ওই আদেশের কপি পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে  কমিটিকে কাজ শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

এ ছাড়া শিক্ষা, আইন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বরাষ্ট্র, তথ্য-প্রযুক্তিসচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ৯টি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ ২০ বিবাদীকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার সিদ্দিকা, শিকদার মাহমুদুল রাজী, মোহাম্মদ রাজু মিয়া ও নুর মুহাম্মদ আজমীর করা এক রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে আদেশ দেন আদালত। রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এস এম মনিরুজ্জামান।

প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা বাতিল চেয়ে ওই রিট আবেদনটি করা হয়। গতকাল সকালে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা তদন্তে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। ওই সময় আদালত কমিটির অগ্রগতি জানতে চান এবং রুল জারি করেন।

এর আগে আদালত প্রশ্নপত্র ফাঁস বিষয়ে মন্তব্য করেন। এ ছাড়া দুপুর ২টায় পরবর্তী আদেশের জন্য সময় নির্ধারণ করেন আদালত। পরে নির্ধারিত সময়ে আদালত আলাদা দুটি কমিটি গঠন করে আদেশ দেন।

পাঁচ সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির অন্য চার সদস্য হলেন নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার মুখ্য মহানগর হাকিম এবং আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পর্যায়ের একজন করে কর্মকর্তা। এই কমিটি প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে।

প্রশাসনিক কমিটির অন্য চার সদস্য হলেন বুয়েটের অধ্যাপক সোহেল রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ কম্পিউটার সোসাইটি থেকে একজন আইটি বিশেষজ্ঞ এবং সিআইডির একজন ডিআইজি।

আদালতের আদেশ দেওয়ার পর রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের জানান, আদালত বলেছেন যে শিক্ষাব্যবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা মহামারি আকার ধারণ করেছে। মাদক যেমনভাবে তরুণ সমাজকে ধ্বংস করছে, তেমনি প্রশ্নপত্র ফাঁসও দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করছে।

আজ যারা এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তারাই তো ৫-১০ বছর পরে দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের অবস্থা যদি আজ এ রকম হয় তাহলে জাতি ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় আদালত নীরব দর্শকের মতো বসে থাকতে পারে না। যেভাবেই হোক এটা বন্ধ করতে হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস সব সময় অন্যায়। আমি আদালতকে বলেছিলাম, এটা কিভাবে রোধ করা যায় তার একটি পন্থা বের করার জন্য। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষাবিদসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি গঠন করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। আদালত কমিটি গঠন করে আদেশ দিয়েছেন।’

ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, বিচার বিভাগীয় কমিটির কাজ হবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কারা জড়িত, কী কী উপায়ে, কার কার মাধ্যমে এবং কোন মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে সেগুলো চিহ্নিত করা। এ বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত সে বিষয়ে সুপারিশ দেবে।

তিনি বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় এবং কী পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভবিষ্যতে আর কোনো পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না, সে বিষয়ে সুপারিশ দেবে প্রশাসনিক কমিটি।

বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেরও দাবি উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. ইউনুছ আলী আকন্দ স্বেচ্ছায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন।

এ অবস্থায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে চার আইনজীবী রিট আবেদনটি করেন। সুত্র: কালের কন্ঠ।

এসএস/