বৃহস্পতিবার, ২৪ মে ২০১৮

আমার নাস্তিক বন্ধুকে যেভাবে আস্তিক বানালাম!!

OURISLAM24.COM
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৮
news-image

তারেকুল ইসলাম
রাজনৈতিক প্রবন্ধকার

একদিন আমি আর আমার নাস্তিক বন্ধু একান্তে বসে খুব তর্ক করছিলাম। তাকে আমি যুক্তির পর যুক্তি দিয়ে বুঝাচ্ছিলাম যে সৃষ্টিকর্তা বলে একজন অবশ্যই বিরাজ করেন। কিন্তু সে কোনো যুক্তিই গ্রাহ্য করতে চাচ্ছিল না, বরং তার খোঁড়া ও গোঁড়া যুক্তিতে সে হিমালয়সম অটল রইলো।

যেহেতু সে আমার বন্ধু। তাই ইহকাল ও পরকাল- দোজাহানেই আমি তার কল্যাণকামী। এই কামনা থেকেই হঠাৎ মাথায় একটা বুদ্ধি আসলো।

তো, সে যখন কোনো যুক্তিই মানতে চাচ্ছিল না, তখন বললাম, দোস্ত তোর চোখ দুটো কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ কর।

সে তার চোখ দুটো বন্ধ করলো।

তারপর আমি তার গালে ঠাস করে একটা চড় দিয়ে স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বসে রইলাম।

সে চোখ খুলে হতভম্ভ হয়ে বললো, কিরে দোস্ত, তুই আমাকে থাপ্পর মারলি ক্যান?

আমি অবাক ভঙ্গিতে বললাম, না তো! কই থাপ্পর মারলাম?! কখন?

সে বলল, এইমাত্র তুই থাপ্পর মারছোস। তুই চোখ বন্ধ করতে বললি আর আমিও বন্ধ করলাম। এরমধ্যেই থাপ্পর মারলি আমাকে।

আমি আবারও সিরিয়াস ভঙ্গিতে অস্বীকার করলাম এবং বললাম, এটা হতেই পারে না। আমি তোর বন্ধু। বন্ধু হয়ে তোকে কেন অকারণে থাপ্পর মারবো বল? আচ্ছা, থাপ্পরটা যে আমি মারছি এর প্রমাণ কী?

সে তো পুরাই বেকুব আমার কথা শুনে। বলল, চোখ বন্ধ থাকায় থাপ্পরটা কে মারছে দেখি নাই ঠিক। কিন্তু থাপ্পরটা কেউ-না-কেউ তো মারছেই। আর তোরই মারার সম্ভাবনা বেশি। কারণ, তুই ছাড়া আমার সামনে আর কেউ নাই। তাহলে তুই ছাড়া আর কে থাপ্পরটা মারলো? আমার সাথে ঢং করিস না কিন্তু! কেন মারলি বল?

আমি আবারও তার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে নাকচ করে বললাম, আরে ব্যাটা, আমার সামনে তো তুইও বসে আছিস। সম্ভাবনা এটাও তো হতে পারে যে, তুই নিজের গালে নিজে থাপ্পর মেরে আমার ওপর দোষ চাপাচ্ছিস এখন। হাত তো তোরও আছে, তাই না?

ইতোমধ্যেই আমার নাস্তিক বন্ধুটির মাথা মনে হয় আউলাইয়া গেলো। সে ঘটনার আকস্মিতায় কিছুই মালুম করতে পারছিল না।

তার এই অসহায় অবস্থা দেখে আমি আরেকটু খিচে ধরে বললাম, প্রথম কথা, কে থাপ্পরটা মেরেছে তুই দেখস নাই। দ্বিতীয়ত, তোর কথা অনুযায়ী যদি তুই থাপ্পর খেয়েই থাকোস, তাহলে সেটা হয়ত প্রকৃতিগতভাবেই খেয়েছিস। সুতরাং, তোকে থাপ্পর মারার পেছনে ‘কর্তা’ বলে কেউই নাই, থাকতে পারে না।

যেমন, তুইই তো বলিস, স্রষ্টা বলে কিছু নাই। যা বস্তুগুণে চোখে দেখা যায় না, সেটার অস্তিত্ব নাই। এই মহা প্রকৃতি ও সৃষ্টিজগত নিজ গতিতে চলে, কারো দ্বারা পরিচালিত না। আমি তো তোর নাস্তিকতার লাইনেই কথা বলতেসি।

সুতরাং, যেহেতু তুই নিজ চোখে দেখস নাই তোকে থাপ্পরটা কে মারলো এবং এটা প্রমাণও করতে পারবি না। সেহেতু, থাপ্পরটা তুই এমনি এমনি খেয়েছিস। এর পেছনে কেউ নাইক্কা। বুঝলি তো?

সে বুইঝা ফেলছে, তার যুক্তিতেই তারে আমি ফাঁদে ফেলছি। এখন কোনো উপায় না দেখে অভিমানের সুরে বললো, তুই থাপ্পর মেরে কাজটা মোটেও ঠিক করিস নি।

এবার আমি কৃত্রিমভাবে মেজাজ গরম করে রাগত স্বরে বললাম, এখন তোর বাম গালে আরেকটা কষাইয়া চড় দিমু কইলাম।

সে বলল, মানে কী?!!

এবার আমি বাম হাত তুলে চড় দেওয়ার জন্য উদ্যতভঙ্গি করে বললাম, এবার বল, আল্লাহ আছে নাকি নাই?

সে একটু চাপে পড়ে বললো, হ আছে আছে।

বললাম, আর কোনোদিন আল্লাহ নাই- এমন ফাউল কথা কইবি?

সে বলল, না। কইতাম না।

-তওবা কর।
-করলাম।

-আমার সামনে কালেমা পড় এখন।
-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ।

-এখন থেকে নিয়মিত মসজিদে যাবি কইয়া দিলাম। নইলে এই বাম হাতের চড় কিন্তু ঝুইলা থাকলো।

-যামু যামু দোস্ত। নিয়মিত নামাজও পড়ুম এখন থেইকা। শয়তানে ধোঁকা দিসিলো। তওবা তওবা, আর কোনোদিন ভুলেও নাস্তিকতা করুম না।

-চল তাইলে। এখন উঠি।

চলছে বেফাকের কেন্দ্রীয় কাউন্সিল; গুরুত্বপূর্ণ ৪ সিদ্ধান্ত