মঙ্গলবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৮

পাকিস্তানে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত অনিশ্চিত: নওয়াজ শরীফ

OURISLAM24.COM
ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৮
news-image

অাওয়ার ইসলাম: পাকিস্তানের বেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ বলছেন, পাকিস্তানের গণতন্ত্রের ভবিষ্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রতিবারই এখানে গণতন্ত্র পাকাপোক্ত হতে গিয়ে হোচট খেয়েছে। মূলত তাকে পিষ্ট করা হয়েছে।

তাই স্বাধীনতার ৭০ বছর পার হয়ে গেলেও এখনও সুষ্ঠু গণতন্ত্র নিয়ে বিশদ আলোচনার প্রয়োজন আছে। কারণ এখানে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত অনিশ্চিত।

করাচিতে আয়োজিত এক সেমিনারে শুক্রবার ০২ ফেব্রুয়ারি তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

নওয়াজ শরিফ বলছেন বলেছেন, পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাস গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। যতবারই গণতন্ত্র নিজের পায়ে দাড়াতে যাচ্ছিল, ততবারই তাকে নিঃশেষ করে দেওয়া হয়েছে।

১৯৫৩ সালে খাজা নাজিম উদ্দিনকে জোর করে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে মোহাম্মদ আলী বগুড়াকে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসানোর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে পদত্যাগী এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, তখন থেকেই এ দেশে প্রধানমন্ত্রীদের খেলনা হিসেবে দেখা হয়।

‘এটা আরও দুর্ভাগ্যজনক যে, গণতন্ত্র আক্রমণের শিকার হলে বিচার বিভাগের কিছু অংশ জনগণ, সংবিধান ও গণতান্ত্রিক শাসনের পাশে না থেকে একনায়কতন্ত্রকে সমর্থন করে।’

১৯৫৬ সালে প্রণীত প্রথম সংবিধান বাতিল ও ১৯৫৮ সালের নির্বাচনে সামরিক আইন জারির প্রসঙ্গও ছিল দুর্নীতির দায়ে প্রধানমন্ত্রীর পদে অযোগ্য ঘোষিত হওয়া নওয়াজের বক্তব্যে।

তিনি বলেন, সংবিধান বাতিলের বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গিয়েছিল। কিন্তু আবারও সেই সামরিক আইন বৈধতা পায়।

‘১৯৯৯ সালে যখন আমাদের সরকার উৎখাত হয় ও সামরিক আইন জারি করা হয়, তখন একজন বিচারক বলেন, একটি মহান কাজ করা হয়েছে,’ যোগ করেন নওয়াজ।

পাকিস্তান মুসলিম লীগের (এন) চেয়ারম্যান নওয়াজ বলেন, অতীতে মেয়াদ শেষ না হলেও বেশ কয়েকজন প্রধানমন্ত্রীকে তাদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

‘দেশের মানুষ জানে আমার সঙ্গে কী করা হয়েছিল, কী ঘটেছে বেলুচিস্তানে, কিভাবে অপসারণ করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীকে।’

উল্লেখ্য, গতবছর পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে দুর্নীতিতে জড়িত থাকার খবর ফাঁস হলে নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এরপর নওয়াজ শরীফ প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

এসএস/