শুক্রবার, ২৫ মে ২০১৮

সমানাধিকারের স্বপ্ন দেখছেন সৌদি নারীরা

OURISLAM24.COM
জানুয়ারি ১৭, ২০১৮
news-image

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ

নারী অধিকারের ক্ষেত্রে পরিবতর্নের হাওয়া বইছে পৃথিবীর সব থেকে রক্ষণশীল দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরবে।

এক সময় যেখানে নারীরা ঘর থেকে বের হতেই পড়তেন বাধার মুখে সেখানে এখন স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে দেখা যাচ্ছে মহিলা দর্শকদের।

ভোটাধিকার পাওয়ার মাত্র দুই বছরের মধ্যে পেয়েছেন গাড়ি চালানোর অনুমতি। রাষ্ট্রীয় নীতির এমন পরিবর্তনে ভবিষ্যতে সমানাধিকারের স্বপ্ন দেখছেন সৌদি নারীরা।

সৌদির নারীরা মাঠে গিয়ে খেলা দেখবে এমন কথা ভাবাও ছিলো অকল্পনীয়। কিন্তু এখন তারা খেলার মাঠে প্রিয় দলকে সমর্থন জানানোর সুযোগ পাচ্ছেন সৌদি নারীরাও ।

আধুনিক যুগে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা হয়তো তেমন কোনো অর্জন নয়। কিন্তু পুরনো দিনের রীতিনীতি ভঙ্গ করতে পারার কারণে এই ছোট ছোট বিষয়কেই বড় অর্জন মনে করছেন সৌদির নারীর।

একজন সৌদি নারী বলেন, আমাদের এখনো একা একা চলাফেরা কারার অধিকার নেই কিন্তু এখন আমরা মাঠে খেলা দেখতে আসতে পারি এটাই আমাদের কাছে বড় পাওয়া। আমরা এখন অনেক স্বপ্ন দেখছি। আশা করছি আমাদের সব স্বপ্নই ধীরে ধীরে পুর্ণ হবে।

অন্য একজন নারী বলেন, গত কয়েক বছরে আমাদের সমাজে অনেক পরিবর্তন এসেছে। আস্তে আস্তে কট্টরপন্থী অবস্থান থেকে সরে আসছে সৌদি আরব। নারী-পুরুষ মিলেই ভবিষ্যতের সৌদি আরোব গড়ে তোলার বিষয়ে আমরা আশাবাদি।

এক সময় ইসলামী বিধি-বিধান লঙ্ঘনের কারণে নারীদের বিভিন্ন প্রকার শাস্তি প্রদান করা হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে শিথিল হচ্ছে সেই সকল বিধি-নিষেধ। মূলত পরিবর্তনের শুরু হয় গত শতকের মাঝামাঝি থেকে।

১৯৫৫ সালে প্রথম স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায় সৌদি নারীরা। যদিও পরিচয় পত্র পেতে লেগে যায় আরো পঞ্চাশ বছর। তবে এই পরিবর্তনের ধারা গতি পায় নতুন বাদশা সালমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর। এবং সেই বছরই নারীরা প্রথম ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। আর দুই বছরের ব্যবধানে এলো নারীদের ড্রাভিং ও স্টেডিয়ামে খেলা দেখার অনুমতি।

এখনো সৌদি নারীদের জন্য রয়ে গেছে বেশ কিছু বাধা। যেমন তারা এখনো অভিভাবক ছাড়া একা বের হতে পারেন না। বোরকা ছাড়া বের হতে পারেন না। এমনকি অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহও করতে পারেন না। তবে সৌদি নারীদের আশা অতি শিঘ্রই কেটে যাবে এই সকল বাধা।

একজন সৌদি নারী বলেন, আমি আশা করি ভবিষ্যতে সমাজের সকল ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে। রাজনীতি, অর্থনীতি এমনকি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতেও আমরা নারীরা এগিয়ে আসেবো।

বর্তমানে আমাদের নারীদের অধিকারগুলোকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। আর এই কারণেই নারীর অগ্রগতির আশা বাড়ছে। আমাদের অধিকারগুলো নিশ্চিত হলে আমরা বিভিন্ন কাছে সফল হবো।

সৌদি সরকারের এই সকল সংস্কারকে আন্তর্জাতিক মহল অভিনন্দন জানাচ্ছে। কিন্তু সমালোচনাও আছে অনেক। অনেকেই সাভাবিকভাবে নিচ্ছেন না নারীদের এই অগ্রগতিকে।

সূত্র: যমুনা টিভি

এসএস/