বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

শামীম-আইভীকে কাদেরের তলব, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোন

OURISLAM24.COM
জানুয়ারি ১৭, ২০১৮
news-image

আওয়ার ইসলাম : নারায়ণগঞ্জ শহরে হকার ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সমর্থকদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনায় আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

এই মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ বুধবার সকালে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

কাদের বলেন, ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ওখানে যদি অস্ত্রের ব্যবহার হয় এবং গোলাগুলি হয় তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানিয়েছি। তিনি খোঁজখবর নিচ্ছেন, তদন্ত করে এ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।’ সেই সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাংসদ শামীম ওসমান এবং মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ঢাকায় তলব করা হয়েছে বলেও জানান কাদের।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে।

এদিকে, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে শান্ত থাকতে বুধবার ফোন দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকে সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের নারায়ণগঞ্জের দুই জনপ্রতিনিধিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে কঠোর বার্তা জানিয়েছে আওয়ামী লীগ।

‘আজ (বুধবার) আমি দু’জনকেই ফোন দিয়েছি’ বলেন আসাদুজ্জামান কামাল।

হকার উচ্ছেদের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দিয়েছেন কিনা- জানতে চাইলে গনমাধ্যমকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘হকার উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নারায়ণগঞ্জের মেয়রের, আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না। শামীম ওসমান সাহেব জনপ্রতিনিধি। আমরা যতটুকু শুনেছি এ কারণেই একটা বিরোধ আছে। তারা বসে সিদ্ধান্ত নেবেন এটা কীভাবে সেটেলড করবেন। এটাই আমি উপদেশ দিয়েছি।’

 

নারায়ণগঞ্জ শহরে ফুটপাতে হকার বসানো ও উচ্ছেদ নিয়ে মেয়র আইভী ও এমপি শামীম ওসমানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জ নগর ভবন থেকে বের হয়ে নগরীর বঙ্গবন্ধু রোডের ফুটপাত দিকে হাঁটতে শুরু করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বেশ কিছু সমর্থক ছিলেন। পুলিশও তাঁদের সঙ্গে থাকে।

একপর্যায়ে আইভীর সমর্থকরা ফুটপাতে হকারদের বসতে নিষেধ করলে প্রথমে হকাররা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। তখন হকারদের সঙ্গে আইভীর সমর্থকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। চাষাঢ়া এলাকায় শামীম ওসমানের সমর্থকরা হকারদের সঙ্গে যোগ দেয়। সংঘর্ষের একপর্যায়ে হকার ও শামীম ওসমান সমর্থকদের হামলার মুখে মেয়র আইভী বঙ্গবন্ধু সড়কে অনড় অবস্থান করেন। এ সময় তারা মেয়র আইভীর ওপর হামলা চালালে সমর্থকরা মানবদেয়াল তৈরি করে তাঁকে ঢেকে রাখেন। এ সময় তাদের ছোড়া ঢিলে মেয়র আইভী আহত হন।

পরে হকারদের সমর্থনে সংসদ সদস্য শামীম ওসমান রাজপথে নেমে আসেন। তিনি হকারদের পক্ষ নিয়ে বঙ্গবন্ধু সড়কে অবস্থান করেন। এ সময় আহত আইভী নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে অবস্থান নেন। পুলিশ প্রায় ৩০০ ফাঁকা গুলি ও বেশ কিছু কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আরএম/