বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

ads

‘গুয়ানতানামো বে’ কারাগারে মুসলিম শিল্পীদের সাড়াজাগানো ৬ শিল্পকর্ম

OURISLAM24.COM
জানুয়ারি ১৪, ২০১৮
news-image

আবরার আবদুল্লাহ
বিশেষ প্রতিবেদক

আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের বাইরে কিউবার ‘গুয়ানতানামো বে’ বন্দী শিবিরকে বলা হয় মার্কিনী ও মানব সভ্যতার জন্য লজ্জা।  ২০০১ সালে ১১ সেপ্টেম্বর হামলার পর তাড়াহুড়া করে গড়ে তোলা হয় এ কারাগারটি।

২০০২ সালে জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করা হয় কুখ্যাত কারাগারটি।  ১১ জানুয়ারি ২০০২ সালে প্রথম বন্দী আসে এখানে।  এরপর অমানবিক নিযাতনের জন্য পৃথিবীতে কুখ্যাতি অর্জন করে কারাগারটি।

এ কারাগারে বন্দীদের বিনা বিচারে আটক রাখা হয় এবং তথ্য আদায়ের লক্ষ্য নিয়ে বন্দীদের ওপর যৌন অত্যাচার, ‘ওয়াটার বোর্ডিং’-সহ বিবিধ আইনবহির্ভূত উপায়ে নির্যাতন চালানো হয়।  নির্যাতনের প্রকার ও মাত্রা এতই বেশি যে এই কারাগারকে ‘মর্ত্যের নরক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।

বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ সত্ত্বেও এই কারাগারটিকে অব্যাহতভাবে নির্যাতনের জন্য ব্যবহার করা হয় যদিও এখন সেখানে বন্দীর পরিমাণ মাত্র ৫০ জন।

পৃথিবীর নরকে বসে নজরকারা চিত্র অঙ্কন করেছেন মুসলিম বন্দীরা।  সম্প্রতি আঁকা সাড়াজাগানো পাঁচটি ছবি প্রকাশ করেছে জার্মান গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে।

Hands Holding flowers through bars from the exhibition Art from Guantanamo
গারদের হাতে ফুল (২০১৬)

ইয়েমেনের বাসিন্দা মহম্মদ আল-আনসি৷ ১৫ বছর আটক ছিলেন গুয়ানতানামো বে’তে৷ অভিযোগ, জেলে থাকার পর্বে তাঁর উপর যথেচ্ছ অত্যাচার হয়েছে৷ ভয়াবহ সেই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেয়ার জন্যই হাতে রঙ-তুলি তুলে নিয়েছিলেন তিনি৷

দৈনন্দিন জীবন থেকে মুক্তি খুঁজতে তিনি আঁকতেন ল্যান্ডস্কেপ আর ফুলের ছবি৷

Vertigo at Guantanamo by Ammar Al-Baluchi from the exhibition Art from Guantanamo
গুয়ানতানামোয় ভার্টিগো
পাকিস্তানের কয়েদি আম্মার বালুচির আঁকা ছবি ‘ভার্টিগো অ্যাট গুয়ানতানামো’৷

১০ বছর গুয়ানতানামোয় বন্দী ছিলেন তিনি৷ তার আগে আরো তিন বছর আটক ছিলেন সিআইএ-র বিভিন্ন জেলে৷ কারাগারের যন্ত্রণা সরাসরি উঠে এসেছে তাঁর ছবিতে৷

Still life by Ahmed Rabbani from the exhibition Art from Guantanamo
স্থিরচিত্র
পাকিস্তানের আরেক কয়েদি আহমেদ রব্বানি৷ সিআইএ-র বেশ কয়েকটি জেলে কিছুদিন কাটানোর পর গুয়ানতানামোয় পাঠানো হয় তাঁকে৷  তার ছবি বলছে তিনি নির্মল মনের মানুষ।

Titanic by Khalid Qasim from the exhibition Art from Guantanamo
টাইটানিক
রং ফুরিয়ে গেলে গুয়ানতানামোর বন্দিরা দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনসকেও ছবি আঁকার সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করেন৷

কফি পাউডার আর বালি দিয়ে ‘টাইটানিক’ এঁকেছেন খালিদ কাসিম৷ এখনও গুয়ানতানামো বে’তে বন্দি তিনি৷

Cityscape by Abdel Malik Al Rahab from the exhibition Art from Guantanamo
শহরচিত্র
গুয়ানতানামোর বন্দিদের অনেকের ছবিতেই সমুদ্র একটি মুখ্য বিষয়৷ অনেকের ছবিতেই ধরা পড়েছে ঢেউ ভাঙার শব্দ৷

আবদুল মালিক আল রাহাবি গুয়ানতানামো থেকে ছাড়া পেয়েছেন ২০১৬ সালে৷ ১৫ বছরের জেল জীবনে সমুদ্রের ধারে শহরের ছবি এঁকেছেন তিনি৷

Drowned Syrian Refugee Child by Muhammad al-Ansi from the exhibition Art from Guantanamo
সিরিয়ার শিশু
জলে ভেসে আসা সিরিয়ার শিশুর মৃতদেহ ২০১৫ সালে ভাইরাল হয়েছিল৷ গুয়ানতানামোর জেলেও সেই বি পৌঁছেছিল৷ কারণ ২০০৮ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বন্দিদের টেলিভিশন দেখার সুযোগ করে দিয়েছিলেন৷

ইয়েমেনের বন্দী মুহম্মদ আল-আনসি সেই ছবিটিই এঁকেছিলেন জেলে বসে৷ পরবর্তীকালে তাঁকে অবশ্য পাঠানো হয় ওমানের জেলে৷

Exhibition Ode to the Sea: Art from Guantanamo (picture-alliance/dpa/J. Schmitt-Tegge)
প্রেসিডেন্ট গ্যালারি, নিউ ইয়র্ক
’ওডে টু দ্য সি: আর্ট অফ গুয়ানতানামো’ দেখানো হচ্ছে নিউ ইয়র্কের ‘প্রেসিডেন্ট গ্যালারি’-তে৷ ম্যানাহাটানের জন জে কলেজ অফ ক্রিমিনাল জাস্টিস একটি নাম করা প্রতিষ্ঠান৷ সেই কলেজেরই একটি গ্যালারি এটি৷ প্রদর্শনীটি নিয়ে অবশ্য অ্যামেরিকায় প্রুর বিতর্কও হয়েছে৷ ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জন্য খোলা থাকবে প্রদর্শনীটি৷