বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৮

ads

ইসলামী ব্যাংক এখন নারী ও সব ধর্মাবলম্বীর জন্য উন্মুক্ত

OURISLAM24.COM
জানুয়ারি ১০, ২০১৮
news-image

আওয়ার ইসলাম: ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর চেয়ারম্যন আরাস্তু খান বলেছেন, ইসলামী ব্যাংক এখন নারী ও সব ধর্মাবলম্বীর জন্য উন্মুক্ত।

ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট ধর্ম বা নারী কর্মী নিয়োগ নিয়ে কেউ বিশেষ দৃষ্টি দিতে পারেন না। তাই ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড এখন সব ধর্ম ও নারী কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত।

এখানে সবাই স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে কাজ করতে পারছেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে ইসলামী ব্যাংকের বড় অবদান রয়েছে। বর্তমানে এই ব্যাংকের এক কোটি ২৫ লাখ গ্রাহক। এই সংখ্যা যে কোনো ব্যাংকের চেয়েও বেশি।

ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য একটি স্বল্পমেয়াদি কমিশন দরকার। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকিং আইন তৈরি করাও এখন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

আরাস্তু খান  বলেন, দেশের বেসরকারি খাতের ব্যাংক হিসেবে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। ব্যাংকটি ইতিমধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ১০০০ ব্যাংকের তালিকায় বাংলাদেশের একমাত্র ব্যাংক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। ব্যাংকটিতে নানা ঘটনার মধ্যে একটি পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে আলাপচারিতার এক পর্যায়ে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সৌজন্যে সম্পূর্ণ সাক্ষাতকারটি আওয়ার ইসলাম পাঠকদের জন্য তুলে করা হলো।

প্রশ্ন: ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। এ সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই।

আরাস্তু খান : ব্যাংকের মালিকানা নিয়ন্ত্রিত হয় শেয়ার ধারণের পরিমাণের ওপর। ব্যাংক কোম্পানি আইনানুযায়ী যাদের শেয়ারের পরিমাণ বেশি তারা ব্যাংকের বোর্ডে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। এখানে একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের কথা বলা হচ্ছে। এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। আর মোট শেয়ার হোল্ডারদের মাত্র ১৫ ভাগ শেয়ার তারা ধারণ করেন। এতে নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে যাবে এবং অনিয়ম হতে পারে এমন আশঙ্কার কোনো ভিত্তি নেই।

এ ব্যাংকের মালিকানা পরিবর্তন বাংলাদেশ ব্যাংক, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ সব নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার নিয়মনীতি পরিপালন ও অনুমোদন সাপেক্ষেই হয়েছে। ফলে যেসব প্রশ্ন উত্থাপন হয়ে থাকে তার কোনো  যৌক্তিকতা নেই।

ইসলামী ব্যাংক পরিচালিত হয় শরিয়ার মূলনীতি, আদর্শ, ইথিকসের ওপর নির্ভর করে, ব্যাংকিং আইন পরিপালন করে। আমাদের ব্যাংকের এখন পর্যন্ত ঋণ অনিয়ম, কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। এর কারণ ব্যাংকিং পদ্ধতিতে আমরা কোনো আপস করিনি।

প্রশ্ন: আপনি আসার পরে ইসলামী ব্যাংকে কী কী পরিবর্তন হয়েছে?

আরাস্তু খান : আমাদের প্রথম সাফল্য শরিয়াহভিত্তিক একটি ইথিক্যাল বা নৈতিকতাভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে এটিকে প্রতিষ্ঠিত করেছি। আমরা বোর্ডে আসার পর থেকে শরিয়াহ পরিপালনের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছি। দেশের শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও ইসলামী অর্থনীতিবিদদের নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন শরিয়াহ বোর্ড গঠন করেছি।

এ ছাড়া তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে আমরা আমূল পরিবর্তন করেছি। ইসলামী ব্যাংক জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সব মানুষের ব্যাংক। এ ব্যাংকের অনেক আমানতকারী এবং ব্যবসায়ী আছেন, যারা অন্য ধর্মের অনুসারী। আমরা জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে সবার জন্য ইসলামী ব্যাংকে চাকরি পাওয়ার সমান সুযোগ সৃষ্টি করেছি।

তবে তাদের ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে ইসলামী শরিয়াহ পরিপালনের কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ব্যাংকিং কার্যক্রমে শরিয়াহ পরিপালন বাধ্যতামূলক। ইসলামী ব্যাংকে নারী কর্মী নিয়োগ দেওয়া হতো না। এখন ইসলামী ব্যাংকে নারী কর্মী নিয়োগ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাধারণ নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সব ধরনের নিয়োগ হয়ে থাকে।

প্রশ্ন: ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কে মানুষের মাঝে এক ধরনের প্রশ্ন আছে। সেটা সম্পর্কে আপনার মতামত কী?

আরাস্তু খান : বাংলাদেশে প্রায় একই সময়ে ইসলামী ব্যাংকসহ আরও তিনটি ব্যাংক কার্যক্রম শুরু করে। আজ ইসলামী ব্যাংকের ডিপোজিট ৭৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিনিয়োগ প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা।

যে ব্যাংকগুলো একই সময়ে কার্যক্রম শুরু করেছে তারাসহ আরও কয়েকটি ব্যাংক মিলেও এই পরিমাণ ডিপোজিট ও বিনিয়োগ করতে পারেনি। ইসলামী ব্যাংকের মূল চালিকাশক্তি হলো শরিয়া। বোর্ডের হস্তক্ষেপমুক্ত বিনিয়োগ, বিনিয়োগে পেশাদারিত্ব, পরিচালন কৌশল, শরিয়াহ নীতির পরিপালন ও কর্মীদের আন্তরিক সেবার ফলেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সাফল্য সূচকে শীর্ষমান ও বিশ্ব-পরিসরে স্বীকৃতি এই ব্যাংকটিকে জনগণের কাছে অধিক আস্থাশীল করেছে।

প্রশ্ন: পরিবর্তনের পর কোনো চাপে পড়েছিল কিনা ইসলামী ব্যাংক?

আরাস্তু খান : শুরুতে কিছুটা চাপ থাকলেও বর্তমানে সেটা নেই। গ্রাহকদের পক্ষ থেকে কিছু  ডিপোজিট উত্তোলন শুরু হওয়ায় ডিপোজিট হ্রাস পেয়েছিল। আমরা সে অবস্থার উত্তরণ ঘটিয়ে গত এক বছরে অতিরিক্ত সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ডিপোজিট সংগ্রহ করেছি। এ ব্যাংকের বছর শেষের মুনাফা ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রিতে শীর্ষে। যা কয়েকটি ব্যাংক মিলেও করতে পারেনি।

এই সাফল্যের মূল কারণ হচ্ছে শরিয়াহর নীতিমালা অনুসরণ এবং ব্যাংকের প্রতি মানুষের আস্থা। মানুষের এই আস্থার কারণে দেশের সব অঞ্চলের মানুষের পক্ষ থেকে ইসলামী ব্যাংকের শাখা খোলার দাবি রয়েছে কিন্তু আমাদের পক্ষে একত্রে দেশের সব অঞ্চলে শাখা খোলা সম্ভব নয়। এর বাইরে আমাদের কোনো চাপ নেই।

প্রশ্ন: রাজনৈতিক চাপ নিয়েও অনেক সময় কথা হয়?

আরাস্তু খান : আমাদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক চাপ ছিল না, এখনো নেই। প্রধানমন্ত্রী আমাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন। তিনি আমাদের বলেছেন, ব্যাংক পরিচালনা হবে ব্যাংকিং পদ্ধতিতে। এখানে কোনো ধরনের ছাড় না দিয়ে আপনারা চালান। আমরা সেভাবে চালিয়েছি। ফলে ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের চাপ কেউ দেয়নি। যে প্রশ্ন বা অভিযোগ ছড়িয়েছে সেগুলো পুরোপুরি ভিত্তিহীন।

আমাদের বোর্ড সদস্যদের যোগ্যতা, সততা ও পেশাদারিত্ব অনন্য। আমরা ব্যাংক কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও সহযোগিতা পাচ্ছি। আমরাও কাউকে চাকরিচ্যুত বা শাস্তিমূলক কিছু করিনি। কোন পরিচয়ে তারা চাকরি পেয়েছে সে সব বিবেচনায় আমরা নেইনি। ভালো কর্মী কিনা সেটাই বিবেচ্য। অপরাধ বা অনিয়ম করলে পরিচয় বিবেচনা করা হচ্ছে না।

ব্যাংকার হিসেবে সবার দক্ষতাই প্রধান। ফলে আমরা কখনো কোনো ধরনের চাপের মুখোমুখি হইনি। এমনকি মালিক পক্ষ থেকেও কোনো ধরনের চাপ নেই। তবে যদি কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন, সে ব্যাপারে ব্যাংকের মানবসম্পদ নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশ্ন: দেশে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে অবদান কতটুকু?

আরাস্তু খান : জাতীয় অর্থনীতির প্রধান দুই স্তম্ভ তৈরি পোশাক ও বৈদেশিক রেমিটেন্সে ইসলামী ব্যাংক পথিকৃৎ। ইসলামী শরিয়া অনুমোদিত দেশের সব খাতে আমরা বিনিয়োগ করেছি। বাংলাদেশে এখন যে গার্মেন্ট খাতের সাফল্য তা একক বিনিয়োগের শীর্ষে ইসলামী ব্যাংক। স্পিনিং মিল, এসএমই, বিভিন্ন ভারী শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা প্রথম। দেশের এই অর্থনীতির সমৃদ্ধিতে ইসলামী ব্যাংকের বড় অবদান রয়েছে।

বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ যা ব্যাংকিং খাতে সর্বোচ্চ। ইসলামিক ব্যাংকিং ইন্ডাস্ট্রি দেশের পুরো ব্যাংকিং খাতের ৫ ভাগের ১ ভাগ শেয়ার ধারণ করছে। সেপ্টেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত দেশে মোট ১০৮২টি বিভিন্ন ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখা রয়েছে। আমি মনে করি, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার অগ্রগতিতে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে এবং করবে।

প্রশ্ন: ইসলামী ব্যাংকের পরিধি বাড়ছে, নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে কিনা?

আরাস্তু খান : এটা ঠিক, ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে বিশ্বাস জড়িত আছে। দেশের সিংহভাগ মানুষ এই বিশ্বাস ধারণ করায় ইসলামী ব্যাংকিংয়ের পরিধিও বাড়ছে। একটি ইথিক্যাল ব্যাংক হিসেবে ডাচ ব্যাংক ত্রিওদার কার্যক্রম শুরু করেছিল। এটাই পথিকৃৎ হিসেবে অন্যান্য দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

মুসলিম বিশ্বে বাহরাইন, মালয়েশিয়া ইসলামী ব্যাংকিং শুরু করে। আজ তাদের সাফল্য আমরা দেখতে পাচ্ছি। সেখানে নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ আছে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ে আলাদা আইন আছে। আমাদের এখানে সেটা নেই। আমাদের দেশে পৃথক ইসলামী ব্যাংকিং আইন চালু করা যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইসলামী ব্যাংকিং বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা।

প্রশ্ন: দেশে আরও কয়েকটি ব্যাংকে পরিবর্তন হয়েছে, এতে ব্যাংক খাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কিনা?

আরাস্তু খান : আমি আগেই বলেছি, শেয়ার ধারণ নিয়ে মালিকানা পরিবর্তন হয়। এখানে নেতিবাচক কোনো প্রভাবের কিছু নেই। প্রশ্ন হচ্ছে ব্যাংকের কার্যক্রম কীভাবে চলছে, বোর্ড সদস্যদের কর্মকাণ্ড সঠিক আছে কিনা তা নিয়ে। সেখানে যদি কোনো সমস্যার সৃষ্টি হয় সেটা ব্যাংকের কার্যক্রমে সংকট তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া আর কোনো নেতিবাচক প্রভাবের কিছু নেই। অন্য ব্যাংকগুলোতে পরিবর্তনের বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট ব্যবসায়ী গ্রুপের কথা বলা হচ্ছে। যাদের কথা বলা হচ্ছে, তারা ব্যাংকের বেশির ভাগ শেয়ারের মালিক নন। এখনো সাধারণ শেয়ারধারীরাই মালিক। ফলে তারা নিজেদের মতো করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া বা অনিয়ম করতে পারেন এমন অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন।

প্রশ্ন: নতুন ব্যাংকের জটিলতা, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি, সুশাসনের অভাব নিয়ে পুরো খাতে এক ধরনের অস্থিরতা চলছে, এটা থেকে বের হওয়ার উপায় কী?

আরাস্তু খান : ব্যাংক ব্যবসার মূল ভিত্তি হচ্ছে গ্রাহকদের আস্থা। আমি মনে করি, নতুন ব্যাংকগুলোর নিপুণতা দেখানোর আরও সুযোগ রয়েছে। তারা যদি গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে পারে তাহলে তারা সমস্যায় পড়বে না। খেলাপি ঋণ সব ব্যাংকেরই মাথা ব্যথার কারণ।

তবে এক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেশি।  খেলাপি ঋণের অন্যতম কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পুরোপুরি পরীক্ষা-নীরিক্ষা না করে প্রকল্প বাছাই করা, ব্যাংক কোন ব্যক্তিকে টাকা দিচ্ছে; তার সম্পর্কে কোনো কিছুই না জানা, সেই ব্যক্তির টাকা ফেরত দেওয়ার প্রবণতা আছে কিনা সেটা যাচাই না করা। এরপরে যেখানে বিনিয়োগ করছে, ঋণ দিচ্ছে তার মনিটরিং না করা। ঋণখেলাপি সমস্যাযুক্ত ব্যাংকগুলোতে এ বিষয়গুলো যথাযথ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

অবশ্য এই পরিস্থিতির এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে। নতুন ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে সম্ভবত অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। এ ছাড়া পরিচালকরা তাদের দায়িত্ব যথাযথ পালন করেননি। ফলে একটি সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সংকট নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক সঠিক ভূমিকা রেখেছে। পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

প্রশ্ন: ব্যাংক খাতের উন্নয়নে আলাদা কমিশন গঠনের প্রয়োজন আছে কিনা?

আরাস্তু খান : ব্যাংক খাতের উন্নয়নে এই মুহূর্তে আলাদা কমিশন গঠনের প্রয়োজন নেই। তবে খেলাপি ঋণের বিষয়ে আলাদা একটি কমিশন গঠন করা যেতে পারে। সেই কমিশন অবশ্যই বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে গঠিত হতে হবে। ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ কমিশন বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, অর্থনীতিবিদ, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, সাবেক ব্যাংকারদের সমন্বয়ে গঠন করা যেতে পারে। কমিশনটি তিন মাস থেকে ছয় মাস মেয়াদি হতে পারে। খেলাপি ঋণ সমস্যা সমাধানে কমিশন বেশি গুরুত্ব দেবে। তবে নির্বাচনের বছর না করে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর শুরু করলে সবচেয়ে বেশি ফলপ্রসূ হবে। তাহলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ।

প্রশ্ন: ইসলামী ব্যাংকিংয়ের ওপর আলাদা কোনো কর্তৃপক্ষের দরকার আছে কী?

আরাস্তু খান : ব্যাংকিং খাত নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা মুখ্য। তবে ইসলামী ব্যাংকিংয়ের জন্য আলাদা ধরনের কিছু নেই। এজন্য অবশ্যই পৃথক আইন করা উচিত। ইসলামী ব্যাংকগুলোর জন্য ইসলামী ব্যাংকিং আইন এখন খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। বাহরাইন ও মালয়েশিয়ায় আলাদা আইন রয়েছে। বাংলাদেশে শরিয়া নীতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রত্যেক ব্যাংকে আলাদা বোর্ড রয়েছে।

এ ছাড়া একটি কেন্দ্রীয় শরিয়াহ বোর্ড রয়েছে। কিন্তু সেটা কোনো আইনগত নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান নয়। আইন হলে এই খাতের আরও উন্নয়ন হবে। আমরা এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও আগ্রহ দেখিয়েছে।

প্রশ্ন: মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ও এটিএম সার্ভিসে ইসলামী ব্যাংক অনেক পিছিয়ে?

আরাস্তু খান : আগামী দিনের ব্যাংকিং হবে ভার্চুয়াল ব্যাংকিং। এই ব্যাংকিংয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা মোবাইল ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং ও এটিএম সার্ভিসের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছি। আমরা গত এক বছরে এগুলো নিয়ে অনেক কাজ করেছি। ইতিমধ্যে ইসলামী ব্যাংকের ৩৩টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট উদ্বোধন করেছি। এই খাতে আরও কাজ হচ্ছে। এ বছর আরও শতাধিক এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট চালু করা হবে।

প্রশ্ন: সার্বিক ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় সুশাসন নিয়ে এই মুহূর্তে করণীয় কী?

আরাস্তু খান : সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে ব্যাংক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি ব্যাংক একই সময় কার্যক্রম শুরু করে আজ আমরা শীর্ষে। এর কারণ শুধু ব্যাংকারদের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা নয় বরং এই ব্যাংকের প্রতি মানুষের এত আস্থার অন্যতম কারণ হলো আমাদের কার্যক্রম পুরোপুরি স্বচ্ছ।

ইসলামী ব্যাংক যেসব প্রকল্পে বিনিয়োগ করে সেটা কোনো কাগজ নয়, বরং সম্পদ। সম্পদের ভিত্তি দেখেই আমরা বিনিয়োগ করেছি। মানুষের আস্থা অর্জনের জন্য যে কথা আমরা বলছি সেটাই বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছি। এই স্বচ্ছতা সুশাসন নিশ্চিত করতে পারে।

বোর্ড গঠন থেকে শুরু করে কর্মী নিয়োগ পর্যন্ত সব কিছুতেই স্বচ্ছতা থাকতে হবে। ব্যাংকের হাতে প্রচুর তরল অর্থ থাকে। এই অর্থ ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সততা ও ব্যাংকিং পদ্ধতি নিশ্চিত করা গেলেই সুশাসন ফিরে আসবে।

এসএস/

এ জাতীয় আরও খবর