বুধবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৮

ads

তাবলিগ জামাত: খুলে যাক সম্প্রীতির পুরনো কপাট

OURISLAM24.COM
জানুয়ারি ৫, ২০১৮
news-image

কাউসার লাবীব : আঁধারকালো আর অমানিশার পথযাত্রীদের পিঠে হাত বুলিয়ে, হাতে ধরে, অনুরোধ করে আলোরপথে নিয়ে আসছেন কিছু দুনিয়াত্যাগী উম্মতে মুহাম্মাদি। যাদের আমরা চিনি ‘তাবলিগ জামাতের সাথী’ হিসেবে।

তাদের নিরলস মেধা ও পরিশ্রম আমাদের সমাজকে দিচ্ছে, দীনের প্রাণবন্ত এক ছোঁয়া। তাদের মমতা ও ভালবাসায় ভরে উঠছে আমাদের আশপাশ।

তারা বলেন, আমার কোনো ভাইকে জাহান্নামের পথে রেখে আমি একা একা মহান প্রতিপালকের হুকুম পালন করবো? তা হতে পারে না। তারা বিশ্বাস করেন, ‘এক মুসলমান অপর মুসলমানের ভাইৎ [সহিহ বুখারি : ২৪৪২]। একভাই অপর একভাইকে দেখাবেন সফলতার পথ, এটাই তো মানবতা।

হজরতজি ইলিয়াস রহ. যে উদ্দেশ্যগুলো নিয়ে ইসলামি দাওয়াতের এ অভিনব পদ্ধতি সমাজে প্রবর্তন করে ছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল একজন দীনি ভাইয়ের সঙ্গে আরেকজন ভাইয়ের সৌহার্দ্য আর সম্প্রীতি পূনপ্রতিষ্ঠা করা। যা আমাদের আসলাফদের মাঝে বিদ্যমান ছিল।

হজরতজিকে তাবলিগ জামাতের সাথীগণ এ ব্যাপারে আশাহত করেননি। যুগযুগ ধরে তারা তার এ মহৎ ও মহান উদ্দেশ্যকে প্রাধান্য দিয়ে সবাই ছিলেন একই ডোরে বাঁধা। তাদের দিকে তাকালেই আমরা দেখতে পেতাম এ আয়াতের প্রতিফলন-

‘হে ইমানদারগণ আল্লাহকে যেমন ভয় করা উচিত ঠিক তেমন ভয় করতে থাক এবং অবশ্যই মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ কর না। আর তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে সুদৃঢ় হস্তে ধারণ কর; পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না।’ [সুরা আল ইমরান : ১০২, ১০৩]

তাদের একতা, মমতা, সম্প্রীতি, উদারনীতি, মায়া আর ভালোবাসায় আমরা ছিলাম বিমোহিত ও আশান্বিত। কিন্তু বিচ্ছিন্ন কিছু কারণে আজ আমরা আশাহত।

পিতামাতার মনমালিন্য বা বাকবিতণ্ডা যেমন সন্তানদের ভাবিয়ে তোলে। প্রাণাধিক তাবলিগ জামাতের দায়িত্বশীলদের মনমালিন্য ও বাকবিতণ্ডাও আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে।

যাদের ছোঁয়ায় মানুষ পেয়েছে সঠিক পথের দিশা। যাদের মমতা পথের ধারের মাস্তানকে বানিয়েছে নিরাপত্তার চাদর। যাদের নিরেট ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে লাখ তরুণ অস্ত্র ছেড়ে হাতে নিয়েছে কুরআন ও তসবিহ। যাদের প্রণয় ও সম্প্রীতি লাখ যুবকের মনে যুগিয়েছে প্রভুর ভালোবাসা ।

সেই তাদের দায়িত্বশীলদের সম্প্রীতির সেতুবন্ধনে ফাঁটল, মমতার সাগরে খরা আর উদারনীতির সংবিধান হারিয়ে ফেলা কি আমাদের নিরোৎসাহিত করে না? আমাদের বিভিন্ন মহলে প্রশ্নের মুখোমুখি করে না?

আমাদের মমতার বন্ধনে চিড় ধরাতে লাখ প্রেতাত্মা ব্যাপৃত। তারা চায় আমাদের বিচ্ছিন্নতা হবে তাদের হাসির খোরাক। আমাদের মনমালিন্য হবে তাদের সফলতার পাথেয়।

কোথায় আমরা তাদের এ ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সচেতন হবো। তা না হয়ে আজ নিজেদের মাঝেই কাঁদা ছোড়াছুড়ি করছি। নিজেরাই নিজেদের হাসির পাত্র বানাচ্ছি। আস্থা হারাচ্ছি সাধারণ মানুষ থেকে।

দুনিয়াত্যাগী এ তাবলিগ জামাত যেভাবে যুগযুগ ধরে দলমত নির্বিশেষে সকলের আস্থা কুঁড়িয়ে আসছে।

তাবলিগ জামাতের একজন নগণ্য খাদেম ও শুভাকাঙ্ক্ষি হিসেবে আমরা মনে করি সেপথে আবারও মনোযোগী হওয়া দরকার বলে। আর এর জন্য দায়িত্বশীলদের একটু সচেতনতা ও সহমর্মিতাই যথেষ্ট। তাদের সচেনতাই প্রাণ ফিরিয়ে আনতে পারে মহান এ দীনি দাওয়াতি কার্যক্রমে।

একসঙ্গে বসবাস করে, একদীনের খেদমত করে, একই কথার দাওয়াত দিয়ে যদি একেকজন ভিনগ্রহের বাসিন্দা হয়ে বসে থাকে। তা কি মানায়?

নিঃসার্থ ও নিরলস দাওয়াতি কার্যক্রম তাবলিগ জামাত। এ জামাতে নিঃসার্থভাবে কাজ করে কিছু আল্লাহপ্রেমি সাথী। এ সাথীদের ও তাদের দায়িত্বশীলদের মাঝে ফিরে আসবে আগের সেই সম্প্রীতি এবং তা ফিরে আসবে খুব শিগগির। কিংবা এখন থেকেই। এ প্রত্যাশা তো আমরা করতেই পারি।

আশা করি আমাদের প্রত্যাশা দায়িত্বশীলগণ পূরণ করবেন। আমাদের তারা আর আশাহত করবেন না। তারা খুলে দিবে সম্প্রীতির পুরনো সে কপাট।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক কাল; ইজতেমা নিয়ে আসতে পারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত