রবিবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৮

একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার ১০ উপায়

OURISLAM24.COM
ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭
news-image

রকিব মুহাম্মাদ 
আওয়ার ইসলাম

আপনি ব্যবসা শুরু করতে চান কিন্তু বুঝতে পারছেন না যে কোথা থেকে শুরু করবেন, চিন্তার কোনও কারণ নেই। উদ্যোক্তা হতে হলে প্রয়োজন অদম্য সাহস, ঝুঁকি গ্রহণের মানসিকতা, দুর্বার ইচ্ছাশক্তি ও প্রচণ্ড অধ্যবসায়। উদ্যোক্তা তার অদম্য পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করতে পারেন।উদ্যোক্তা হওয়ার বিশেষ কোনও মুহূর্ত নেই, নেই কোনও কাল। একজন ব্যক্তি যেকোনো সময় নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। উদ্যোক্তা হওয়ার নানা কৌশল আছে।  আজকের নিবন্ধে আলোচনা করবো সফল উদ্যেক্তা হওয়ার ১০টি কার্যকরী উপায়।

১. সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা
অধিকাংশ মানুষের ব্যর্থতার কারণ হচ্ছে পরিপূর্ণ পরিকল্পনার অভাব। তাই একটি পরিকল্পনা দার করান। এটি আপনাকে আপনার ব্যবসা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দিবে এবং আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে। পরিকল্পনাটি খাতায় লিখুন। আপনার উদ্দেশ্য, কৌশল এবং পদক্ষেপগুলো পরিকল্পনার অংশ। পরিকল্পনাটি ১ পেজের বেশি হওয়ারও প্রয়োজন নেই।

২. কঠোর পরিশ্রমী
উদ্যোক্তা হতে হলে কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে। তিল তিল করে গড়ে তোলা বিজনেস এক সময় বিশাল শিল্প সামাজ্য করে সাজাতে সততা আর পরিশ্রমের বিকল্প নেই। এরপর আপনাকে হতে হবে ডায়নামিক এবং চৌকস। কেননা উদ্যোক্তা হতে আপনাকে পিওন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় প্রধানের সঙ্গে পর্যন্ত কথা বলতে হবে। অধিক পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকতে হবে। কোনো কারণে কাজে সফল না হতে পারলে হাল ছেড়ে দিলে চলবে না। অধিক মনোবল নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।

৩.ধৈর্যশীলতা
কঠোর ধৈর্যশীলতার মাধ্যমে ব্যবসার পথকে অধিকতর মসৃণ করতে হবে। ব্যবসায় সফলতার পাশাপাশি ব্যর্থতা নামক শব্দটি থাকে। ব্যর্থতা নামক শব্দটিতে ধৈর্যশীলতার মাধ্যমে মোকাবেলা করতে হবে। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে ব্যবসার সুদীর্ঘ পথ অতিক্রম করে সফল উদ্যোক্তা হতে অবশ্যই ধৈর্যশীলতার পরিচয় দিতে হবে।

৪.ঝুঁকি গ্রহণ
ব্যবসা শুরু করতে গেলে প্রথমেই মনে রাখবেন আপনাকে ব্যবসায় ঝুঁকি গ্রহণের মন-মানসিকতা থাকতে হবে। ইংরেজিতে একটা কথা আছে-No risk no gain. যার কোনো বিকল্প নেই।

৫. উদ্ভাবনী ক্ষমতা
সফল উদ্যোক্তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য উদ্ভাবনী ক্ষমতা। উদ্যোক্তাকে প্রতিনিয়ত সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটাতে হবে এবং নতুনত্ব সৃষ্টি করতে হবে। তাহলে ব্যবসায় দ্রুত সফল হওয়া সম্ভব হবে। অন্যকে অনুসরণ না করে, অনুকরণ না করে নিজের মত করে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হয়ে সামনের পথে এগিয়ে যেতে হবে।
ডেল কার্নেগি বলেছেন, “অনুকরণ নয়, অনুসরণ নয়, নিজেকে খুঁজুন, নিজেকে জানুন, নিজের পথে চলুন।”

৬. আত্মবিশ্বাস
প্রত্যেক মানুষের কিছু গুণ থাকে। সফল উদ্যোক্তার প্রধান গুণ হচ্ছে আত্মবিশ্বাস। যার আত্মবিশ্বাস যত বেশি তার সাফল্য তত বেশি। যদিও এটি অর্জন করা কঠিন। সফল উদ্যোক্তা তার আশপাশের আত্মবিশ্বাসী লোকদের মধ্যে অন্যতম। আপনাকে হতে হবে স্থির ও দূরদৃষ্টি সম্পন্ন, যা আত্মবিশ্বাসকে আরও বৃদ্ধি করে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবে।

৭. অন্যদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ
উদ্যোক্তা হিসেবে চারপাশের মানুষ, পরিবেশ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। অন্যের একটি বা অনেক ভাল গুণাগুণ থাকতে পারে যা আপনার নেই। তার সেই ভালো গুণাগুন বা কাজের দক্ষতা কিংবা কাজের প্রক্রিয়া আপনিও অনুসরণ করতে পারেন।

এতে আপনার ব্যবসায়ের উন্নতি হবে বৈকি অবনতি হবে না। শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে যিনি আপনাকে সফলতা ও ব্যর্থতার কারণগুলো বিশদভাবে বর্ণনা করবে। হতে পারে আপনার প্রতিবেশী একজন উদ্যোক্তা যিনি আপনার চেয়েও কম বয়সী কিন্তু ব্যবসায়ে সফল আপনি তাকেই অনুসরণ করতে পারেন। কারণ নিশ্চয়ই তার ব্যবসায়িক কৌশল আপনার কৌশলের চেয়ে অধিকতর শ্রেয়।

৮. আত্মোন্নয়ন
উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত আত্মোন্নয়ন করতে হবে। বাচনভঙ্গি, বিক্রির কৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে। ভয়কে দূরে ঠেলে দিয়ে বুকে সাহস নিয়ে কাজে এগিয়ে যেতে হবে। প্রযুক্তিজ্ঞান, কারিগরিজ্ঞানে দক্ষ হতে হবে।

৯. টিম গঠন
টিম গঠন করে কাজ করলে অতি দ্রুত সফল হওয়া যায়। একক ভাবে কাজ করার চেয়ে টিম গঠন করে কাজ করলে সফলতা সুনিশ্চিত। টিমের সদস্যরা কর্মঠ হলে আপনার উপর কাজের চাপ কমবে। ব্যবসায়ের অনেক কাজ টিমের সদস্যরা সম্পন্ন করতে পারবে। টিমের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন, বাজারজাতকরণ প্রভৃতি কাজগুলো খুব সহজেই করা যায়।

১০. উদ্দেশ্য
সব কাজেই একটা উদ্দেশ্য থাকে, উদ্দেশ্যবিহীন কাজ ভালো কিছু বয়ে আনতে পারে না। বিশ্বাস করতে হবে আপনি ব্যতিক্রমী কিছু করতে সক্ষম।

ইয়ুথ কার্নিভাল অবলম্বনে/আরএম