রবিবার, ১৯ আগস্ট ২০১৮

স্মরণে মননে জুনায়েদ জামশেদ

OURISLAM24.COM
ডিসেম্বর ১২, ২০১৭
news-image

জসিম বিন শফিক

জুনায়েদ জামশেদ রাহিমাহুল্লাহ। একাধারে রেকর্ডিং শিল্পী, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, ফ্যাশন ডিজাইনার, প্রকোশলী ও গায়ক-গীতিকার।

১৯৬৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের করাচিতে জন্ম। বাবা জামশেদ আকবর খান ও মা নাফিসা আকবরের ৩ ছেলে ১ মেয়ের মাঝে তিনি প্রথম।

জুনায়েদ জামশেদের জীবনে দুটি ধারা ছিল। উভয় ক্ষেত্রেই তিনি প্রশংসনীয়ভাবে সফল। ১৯৮৭ সালের ১৪ আগষ্ট পাকিস্তানের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তে দেশাত্মবোধক গান ‘দিল দিল পাকিস্তান’ গাওয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন দেশের প্রথম পপ ব্যান্ড ‘ ভাইটাল সাইন’। এ যেন দূর্দান্ত সূচনা। প্রথম এ্যালবাম ‘দিল দিল পাকিস্তান’ তাকে এনে দেয় আকাশচূম্বী খ্যাতি। এ্যালবামটি দেশের সংগীত চ্যানেল তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। প্রথম Vital Sings গায়ক ভোকালিস্ট হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পান।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সংগীত ‘কসম উস ওয়াক্ত কি’ এবং বিমানবাহিনীর ‘পালাটনা ঝাপাটনা’রও শিল্পী তিনি। এ ছিল এক জুনায়েদ জামশেদ।

২০০৩ সালে সংগীতের ঈর্ষনীয় এই সফল ক্যারিয়ারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘না’ বলেন তিনি। রঙ্গিন দুনিয়ার ইতি টানেন। অর্থ আর খ্যাতির বদলে বেছে নেন ঈমানের পথ। তার পথ পরিবর্তনের অনুভূতি ছিল এ রকম, তিনি বলেন, ‘আমার আগের জীবনযাপনের কোনো দৃষ্টিভঙ্গী এখন আর অবশিষ্ট নেই। আমার নতুন জীবন খুব সরল, পবিত্র ও সুন্দর। ‘

সেদিন থেকে পৃথিবী পেল এক নতুন জুনায়েদ জামশেদকে। এ জন্য অবশ্য তাকে কম মূল্য দিতে হয়নি। বেতন দিতে না পারার কারনে ছেলে-মেয়ের পড়ালেখা বন্ধ  হয়। বিক্রি করতে হয় গাড়ি, বাড়ি। নগদ যা ছিল তাও এক সময় ফুরিয়ে আসে।

পরীক্ষার শেষ সীমায় এসে আল্লাহর অবারিত রহমতের দুয়ার খোলে। উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে তিনি পোশাক কারখানা গড়ে তোলেন। পাকিস্তান জুড়ে দাঁড় করান ৪৫ টা শো রুম। নিজেকে পুরোপুরি নিয়োজিত করেন দীন প্রচারের কাজে। দাওয়াতের কাজে চষে বেড়াতে থাকেন পৃথিবীময়।

এবং দ্বীনের পথে এসেও তিনি আল্লাহ প্রদত্ত অসাধারণ কন্ঠকে কাজে লাগাতে পারলেন। তার জন্য গান লিখলেন মুফতি তাকী উসমানি, জুলফিকার আহমাদ নকশবন্দিসহ কিংবদন্তিজন। হৃদয়ের গভীর থেকে আসা কথামালা তাঁর দরদী কন্ঠে হয়ে উঠে অসাধারণ! আবেদনীয়!  ফলে তিনি পাকিস্তান এমনকি সারা বিশ্বকে ইসলামী গান দিয়েও তাক লাগিয়ে দিলেন। নতুন করে কোটি মানুষ জানলো দ্বীনের দাঈ ও হামদ-নাত শিল্পী জুনায়েদ জামশেদকে।

তিনি একেএকে অসামান্য হিট এ্যালবাম উপহার দিতে থাকলেন। ১৯৯৯ তে ‘উস রাহ পর’, ১৯৯৩ তে ‘মেরা দিল’, ২০০৫ সালে ‘মুহাম্মদ কা রওজা’, ২০০৬ সালে ‘মেহবুবে ইয়াজদান’, ২০০৮ সালে ‘ইয়াদে হারাম’, ২০১২ সালে ‘দিল দিল পাকিস্তান’, ও ২০১৬ সালে ‘উম্মাতি’ ছিল তাঁর আলোচিত এ্যালবাম।

জুনায়েদ জামশেদ দ্বীনের জন্য দুনিয়াকে কোরবানি করার অতুলনীয় উদাহরণ। নিজ মহিমায় ইসলামী গানের হাজার শিল্পীর স্বপ্নের মানুষ তিনি। অনুপ্রেরণা ও আইডল। ৭ ডিসেম্বর ২০১৬ তিনি চলে গেছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁর ইসলামী গানগুলো মানুষের মুখেমুখে জারি আছে, থাকবে। তাঁর গেয়ে যাওয়া অসামান্য গানগুলোর জন্য তিনি থেকে যাবেন কোটি মানুষের অন্তরে অন্তরে। আল্লাহ তাঁর প্ররিশ্রম কবুল করুন। আল্লাহর কাছে তিনি আরামে থাকুন। সুত্র: কালের কন্ঠ।

এসএস/