সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

ads

আমির না শূরা? ইসলাম কোন পদ্ধতি কীভাবে সমর্থন করে?

OURISLAM24.COM
নভেম্বর ২২, ২০১৭
news-image

ড. সাইয়্যেদ সালমান হোসাইনী আন নদভী
ভারতের ইসলামিক স্কলার ও গবেষক

আমির নির্বাচন কে করবেন? আমির যদি শূরা গঠন করতে চান, তাহলে কি যাকে তাকে শূরায় অন্তর্ভুক্ত করার অধিকার আছে?

ইসলামি নীতিমালা অনুযায়ী, শূরা কমিটির জন্য অবকাশ রয়েছে যে তারা নিজেদের মধ্য থেকে অথবা বাইরের কাউকে আমির নির্বাচন করবেন।এমন আমির যিনি উম্মতের ফিকির করেন, তাদের চাওয়া-পাওয়ার প্রতি খেয়াল রাখেন। উম্মতরাও তার অনুসরণ করতে প্রস্তুত।

মূলনীতি হলো, এমন ব্যক্তিকেই আমির নিযুক্ত করা হবে, যে ব্যক্তির আমির হওয়াকে সবাই সমর্থন করবেন।
আমির যদি এমন হয় যে তাকে জোরপূর্বক বসানো হয়েছে বা নিজে জোর করে ইমারত গ্রহণ করেছেন, তাহলে সে ইমারতের হক আদায় করতে সক্ষম নয়।

কারণ, ইসলাম জোরপূর্বক ইমারত গ্রহণ করাকে সমর্থন করে না। জোরপূর্বকভাবে আমির হওয়া ব্যক্তি অধিকাংশ সময় জুলুম করতে শুরু করে। আর জুলুমকারী আমির কোনদিন ইনসাফ করতে পারে না। অথচ, ইসলাম তো ইনসাফের জন্যই নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

এমনকি ‘ঐক্য’ বা ‘একতা’ ইসলামের মৌলিক বিষয়ের বাইরে নয়। এই বিষয়ে হযরত ওমর রা. বলেন, لَا إِسْلَامَ إِلَّا بِجَمَاعَةٍ ، وَلَا جَمَاعَةَ إِلَّا بِإِمَارَةٍ ، وَلَا إِمَارَةَ إِلَّا بِطَاعَةٍ

অর্থ: “জামায়াত ছাড়া ইসলাম নেই, ইমারাহ ছাড়া জামায়াত নেই, আনুগত্য ছাড়া ইমারাহ নেই”।

এই হলো তারতীব। একতার জন্য আমির জরুরি, আমির বহাল রাখার জন্য তার অনুসরণ করাটাও জরুরি।পরামর্শ করার ব্যাপারেও ইসলামের দিক-নির্দেশনা রয়েছে।

আল্লাহ তার রাসুল সা. কে হুকুম করেছেন, وَشَاوِرْهُمْ فِي الْأَمْرِ ۖ فَإِذَا عَزَمْتَ فَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَوَكِّلِينَ

অর্থ: এবং দীনের ব্যাপারে বিভিন্ন পরামর্শে তাদেরকে অন্তরভুক্ত করো৷ তারপর যখন কোন মতের ভিত্তিতে তোমরা স্থির সংকল্প হবে তখন আল্লাহর ওপর ভরসা করো৷ আল্লাহ তাদেরকে পছন্দ করেন যারা তাঁর ওপর ভরসা করে কাজ করে। সুরা আল ইমরান ১৫৯

নীতিমালা হিসেবেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে। এছাড়াও, আল্লাহ পাক আম্বিয়ায়ে কেরামকে নিজে নির্বাচন করেছেন। তারা কাজ করেছেন এবং তাদের সাথে যারা কাজ করেছেন- আহলে শূরা, মন্ত্রী, গভর্নর তাদেরকে নবীরা নির্বাচন করেছেন।

নবী কারীম সা. এই মাকাম যাদের দিয়েছেন তাদের মধ্যে হযরত আবু বকর সিদ্দীক রা., ওমর রা., উসমান রা. আলি ইবনে আবি তালিব রা., সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রা. আরো অনেকে ছিলেন। তাদের এই ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

নবী কারিম সা. এর ওফাতের পর তারা একত্রিত হয়ে হযরত আবু বকর রা. কে খলিফা হিসেবে নির্বাচন করেন এবং তার ওপর একমত হয়েছেন।

হযরত ওমর রা. আবু বকর রা. কে নির্বাচন করেন এবং সবাই তার সাথে একত্মতা পোষণ করেন।

ধারাবাহিকভাবে হযরত আবু বকর রা. এর ইন্তেকালের পর শূরা সদস্যগণ পরামর্শের ভিত্তিতে হযরত ওমরে ফারুক রা. কে পরবর্তী আমির হিসেবে পছন্দ করেন এবং সাহাবীদের মতামত তলব করেন।

শূরা সদস্যদের নির্বাচন এবং সব সাহাবীর একমত হওয়ার মাধ্যমে হযরত ওমর রা. কে আমির হিসেবে নির্বাচন করা হয়।

তারপর, যখন ওমর রা. এর ওপর হামলা হয়, তখন তিনিও একটি শূরা গঠন করে যান এবং হযরত ওমর রা. এর ওফাতের পর শূরা সদস্যগণ পরামর্শ করে হযরত উসমান ইবনে আফফান রা. কে আমির নিযুক্ত করেন। ঠিক এইভাবেই হযরত আলী রা. কেও আমির নিযুক্ত করা হয়।

এই হলো ইসলামের নেযাম। এভাবেই তারা আমির নিযুক্ত করেছেন। এখানে শূরা গঠনকারী ব্যক্তির ভূমিকা এবং বিচক্ষণতা সবচেয়ে বেশি থাকা দরকার। কারণ, শূরাই আমির নিযুক্ত করেন এবং উম্মতকে পথ প্রদর্শন করেন।

আমিরের দায়িত্ব হলো কোন বিষয় ফয়সালা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে শূরার সাথে আলোচনা পরামর্শ করা এবং তাদের মতামতকে সামনে রেখে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা। আমির যদি নিজে নিজে কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন এবং তা কুরআন হাদিসের সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং ইসলামবিরোধী না হয় তাহলে শূরা সদস্যদের উচিৎ হলো আমিরের অনুসরণ করা তার সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়া।

এই হলো মূলনীতি। এভাবেই আমল করা চাই। এই আমল আপনি মাদরাসাগুলোতে দেখতে পাবেন। মাদরাসায় মাদরাসায় শূরা আছে এবং শূরা সদস্যরা মিলে এই সিদ্ধান্ত নেয় যে কে মুহতামিম হবে আর কে আমির।

ড. সাইয়্যেদ সালমান হোসাইনী আন নদভী: ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা সাইয়্যেদ আবুল হাসান আন নদভীর নাতি ও জমিয়ত সাবাব আল ইসলাম হিন্দের প্রেসিডেন্ট

ভিডিও থেকে বয়ানটি অনুবাদ করেছেন রকিব মুহাম্মদ

এ জাতীয় আরও খবর