বৃহস্পতিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭

ads

নবীন আলেমদের যেসব গুণ থাকা উচিত

OURISLAM24.COM
নভেম্বর ১৮, ২০১৭
news-image

মুফতী হাফিজ্জুদ্দীন 

মুহাদ্দিস, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগ

মুফতি সাঈদ আহমাদ পালনপুরীকে খেদমতের শুরুতে তাঁর উস্তাদ মাওলানা মাহদী হাসান সাহেব তিনটি নসিহত করেন। এক. তোমাকে উর্দু কিতাব দেয়া হলেও তুমি সেটা ফন্নি হাইছিয়াতে পড়াবে। শরাহ মুতায়ালা করে নয়। দুই. সুন্নতের ইত্তেবা করবে। তিন. কারো থেকে টাকা-পয়সা ধারে নিবে না।
আমি বলি, যদি একান্ত প্রয়োজনে তোমাকে ধার নিতেই হয় তাহলে কোন আওয়ামের (সাধারণ মানুষ) থেকে নিবে না, বরং সহপাঠী বা কোনো আলেমের থেকে নিবে। কোনোভাবেই সাধারণদের সঙ্গে লেনদেন করবে না!
আমার পক্ষ থেকে তোমাদের (নবীন আলেম) প্রতি নসিহত হলো, মাদরাসায় পড়ানোর ক্ষেত্রে কয়েক ধরনের মুয়ামালাত হবে। যেমন-

কমিটির লোকদের সাথে সম্পর্ক

সাধারণ উস্তাদদের জন্য এদের সাথে শুধু সালাম-কালাম হবে, এরচেয়ে বেশি কিছু হবে না। এদের সাথে কোনো ধরনের সম্পর্ক করার প্রয়োজন নেই। শুনতে আশ্চর্য লাগলেও সত্য, মালিবাগ জামিয়ার অনেক কমিটি আমাকে চিনে না এবং আমিও তাদের চিনি না। এদেরকে চেনারও প্রয়োজন নেই আমার।

সহকর্মীদের সাথে সম্পর্ক
তাদের সাথে আমরা ইসলাহের সম্পর্ক করবো না। অর্থাৎ তাদের কোনো ভুল আমরা সংশোধন করতে যাব না, তাদেরকে তুমি ইসলাহ করতে গেলেও তারা তোমাকে মানবে না। কাজেই তাকে তার ওপরই ছেড়ে দাও। তাকে ইসলাহ করার দায়িত্ব তার মুরব্বীর; তোমার না।

মুহতামিমের সাথে সম্পর্ক
সবসময় তার ইতাআত করবে যদি মাসিয়াত না হয়। মাসিয়াতের ক্ষেত্রে তার থেকে হিকমতে পাশ কেটে যাবে। হিসাব নিকাশের ক্ষেত্রে হলে বলবে, আমি হিসাব কম বুঝি।

অনেকে মনে করে আলেমদের জিল্লতি শুধু টাকা পয়সা না থাকার কারণে। আসলে এমনটা নয়, বরং আমাদের জিল্লতি আমানতে খিয়ানাত, তাকওয়া, তাহারাত ইত্যাদি না থাকার কারণে। আমাদের আকাবিরদের টাকা-পয়সা ছিল না কিন্তু তাঁদের ইজ্জত সম্মান ছিল, এই গুণগুলো থাকার কারণে।

ছাত্রদের সাথে সম্পর্ক
উস্তাদ-ছাত্রের সম্পর্ক হবে মুহাব্বতের। ভালোবাসার। তবে সে মুহাব্বতটা হবে বন্ধুসূলভ।
একাকি থাকা অবস্থায় কোনো ছাত্রকে রুমে আসতে দিবে না। আসতে হলে আরেকজনকে সাথে নিয়ে আসতে বলবে। একজনের সঙ্গে এমন মুহাব্বত করবে না, যাতে করে অন্যরা মনে করে হুজুর মনে হয় শুধু তাকেই মুহাব্বত করে, বরং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো আখলাক দেখাবে, যেমন সাহাবায়ে কেরাম মনে করতেন যে হুজুর আমাকেই সবচেয়ে বেশি মুহাব্বত
করেন। এই আখলাকটা গ্রহণ করবে। যাতে সব ছাত্র মনে করে তুমি তাদের সবাইকে মুহাব্বত করো। কমপক্ষে পনের বিশ বছর পর্যন্ত বাদানি ( শারিরিক) সেবা নিবে না। সম্ভব হলে কোনোপ্রকারের খেদমত না নিয়ে নিজের কাজ নিজে করবে।

ছাত্রদের বেত্রাঘাত করবে না, এটা মনে করো না যে, না মারলে ভয় পাবে না। বরং নিজের মুতায়ালা ঠিক রেখে পড়ালে আর আমল ঠিক থাকলে ছাত্ররা বেতের চেয়েও বেশি ভয় করবে তোমাকে। নিজের আমলকে ঠিক রাখবে।

মাদরাসা থেকে যে কিতাব দেয়া হবে সেটাই গ্রহণ করবে। চাই সেটা উর্দু কিতাব হোক। নিজের থেকে বলবে না যে অমুক বড় কিতাবটা আমাকে দেন।

অধিকপরিমাণে আমল করবে। কারণ আমল মানুষকে অনেক উপরে উঠায়। দিনদিন মাকাম বাড়তে থাকে। মাকাম বাড়া মানে বেশি বেতন পাওয়া, এমনটা নয়। অমুকে বিশ হাজার টাকা পায়, এটা তার মাকাম বাড়া না। অনেক যোগ্যতাসম্পন্ন ছাত্র ভালো পড়ায় কিন্তু আমল না থাকায় তারা একটা সময় গিয়ে থেমে যায়। সুতরাং তোমরা বেশি বেশি আমল করবে। এতে তোমাদের মাকাম দিনদিন বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।

অনুলিখন : আব্দুর রহমান সফওয়ান