বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

ads

স্বীকৃতির চলমান প্রক্রিয়া : অাবারও কি থেমে যাবে?

OURISLAM24.COM
নভেম্বর ১০, ২০১৭
news-image

কাউসার মাহমুদ
পাঠক ও মাদরাসা শিক্ষার্থী

কওমি মাদরাসা স্বীকৃতির চলমান প্রক্রিয়া নিজেদেরে অনৈক্য ও ভুল বোঝাবুঝির কারণে আবারও কি থমকে দাঁড়াবে?

প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ কওমি শিক্ষার্থীদের মনে। বিএনপি জোট সরকারের আমলে আলেমদের মতপার্থক্য ও একটি বিশেষ দলের গভীর ষড়যন্ত্র ইত্যাদি কারণে আটকে গিয়ে ছিল বহুকাঙ্ক্ষিত কওমি স্বীকৃতি প্রক্রিয়া। তখন সরকারের ভেতরের আরও একটি সরকার কওমি সনদের স্বীকৃতি চায়নি। আলেমদের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি করে তারা সফল হয়েছেন।

আলেমরা তাদের জালে পা দিয়ে  স্বীকৃতির সামান্য সম্ভাবনাকেও তখন গলাটিপে হত্যা করেছিলেন। শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ.সহ শতশত আলেম স্বীকৃতির দাবির  কোন ফলাফল না দেখেই  মনের কষ্ট নিয়ে কবরে গেছেন।

আজ কওমি সনদের স্বীকৃতি বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব, বাংলার আধ্যাত্মিক রাহবার আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে আলেমদের ঐক্যের প্রাচীর গড়ে ওঠার পরও হঠাৎ অজানা কারণে কওমি স্বীকৃতির আকাশে কেন কালো মেঘের আনাঘোনা দেখা যাচ্ছে?

কোন ব্যক্তি বিশেষ বা কারও একক আধিপত্য কিংবা জানা-অজানা যে কোন কারণেই আবারও যদি কওমি মাদরাসার লাখো আলেম-উলামা বা শিক্ষার্থীকে হতাশ করে থমকে যায়- কওমি সনদের স্বীকৃতির চলমান প্রক্রিয়া! তাহলে কারা বেশি উপকৃত হবে? আমরা কি নিজেরাই নিজেদের সঙ্গে যুদ্ধ করছি?  না কি নিজেদের খামখেয়ালিপনাকে পুঁজি করে ভিন্ন একটি মহলকে ফায়দা নেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছি?

একজন মাদরাসার সাধারণ ছাত্র হিসাবে মনে করি সবার মধ্যে ঐক্য, পরামর্শ এবং সম্প্রীতিমূলক আচরণের মাধ্যমে স্বীকৃতির চলমান কাজটি এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

আমরা ৬ বোর্ড কিংবা ৫ বোর্ড বুঝি না। বাংলার আত্ম্যাতিক রাহবার, আল্লামা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বে কোন ফাটল তৈরি হলে! কারও আচরণ কিংবা কয়েকজনের  অাধিপত্যের কারণে যদি পুরো জাতি ক্ষতিগ্রস্থ হয় তাহলে ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না!

জাতির রাহবার উলামায়ে কেরামের কাছে ছাত্রসমাজের পক্ষ থেকে বিনীত অনুরোধ, নিজেদের ঐক্য ঠিক রাখুন, উম্মাহর দরদি হয়ে লাখো লাখো ছাত্র শিক্ষকের চোখের দিকে তাকিয়ে শুধু নিজের মতকে প্রাধান্য না দিয়ে সবাইকে নিয়ে কাজ করুন। আমরা চাই, পারস্পারিক মতবিরোধগুলো পরামর্শ করে সমাধান, জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার এবং বৃহত্তর ঐক্য বজায় রাখা করা হোক।

-শিক্ষার্থী, ইফতা বিভাগ, ঢাকা।