বুধবার, ২৩ মে ২০১৮

উইঘুর মুসলিম, বাস্তবতার দাবি ও একটি আহবান

OURISLAM24.COM
অক্টোবর ২৬, ২০১৭
news-image

মুসা আল হাফিজ
কবি ও কলামিস্ট

চীন তার জনগণের অাত্মার তৃষ্ণা মেটাতে পারবে না আবার জোর করে দমাতেও পারবে না। সেটাই চীনের দুর্বলতার জায়গা। সেটাই মুসলিম সভ্যতার শক্তির জায়গা। চীন উদারবাদী নয়। বিদেশীদের জন্য উন্মুক্ত নয়, হবেও না তেমন। তার জনগণকে আলো দিতে হলে ভেতর থেকেই দিতে হবে, প্রধানত।

অতএব উইঘুর মুসলিমরা আগামী দিনে চীনের ভেতরে ইতিবাচক ভূমিকার মাধ্যমে ইসলামি সভ্যতার আত্মিক পথ্যের কত বড় বাহক হতে পারে, সেটা যদি চীন জানতো, উইঘুরদের এখনই স্বাধীন করে দিতো।

তারা কি জানে না বিষয়টি? জানে। কিন্তু সভ্য পথে, উইঘুরদের স্বাধীনতা মেনে নিয়ে এর মুকাবিলা করবে না, করবে অসভ্য পথে, একেবারে জনগোষ্ঠীটাকে শেষ করে দিয়ে। উইঘুরদের পাশেই পড়েছে পাকিস্তান।

তাদের স্বাধীনতা চায় না পাকিস্তানও। ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড তাই উইঘুর এলাকা দিয়েই গেছে এবং সেখানকার ‘অস্থিতিশীলতা’ প্রতিরোধে পাকিস্তান চীনকে সব ধরনের সাহায্য দানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তারা যদি চীন থেকে উইঘুরদের পৃথক হতে কোনো ধরনের সহায়তা করে, তাহলে চীনের সাথে তাদের বন্ধুত্ব পরের দিন থেকে শত্রুতায় গড়াবে। পাকিস্তানপ্রশ্নে ভারত-চীন একই কাতারে খাড়া হবে। সে পরিস্থিতি দেশটি কোনোভাবেই চায় না।

উইঘুরদের পাশে তাহলে কে থাকবে? কেউই না। ইউরোপ-আমেরিকা তাদের সহায়তার নামে খেলবে, যাতে চীন ভয়াবহ বর্বরতা চালায় এবং তারা ‘ভালো না, ভালো না’ বলে বিবৃতি দিয়ে চীনকে চাপে রাখতে পারে।

তাদের এক শত্রু চীন চাপে থাকলো, আরেক শত্রু মুসলিম নিশ্চিহ্ন হতে থাকলো। বিষয়টা যদি উইঘুরদের কাছে স্পষ্ট থাকতো, তারা সেই নরকেও স্বাধীনতা চাইতেন না। ভিন্নভাবে ঘুরে দাঁড়াতেন।

উইঘুরদের বিষয় কেবল তাদের বিষয় নয়, গোটা মুসলিম সভ্যতার ভবিষ্যৎ সংগ্রামে প্রতিপক্ষ সভ্যতার ঘরের ভেতরে নিজেদের ক্রিয়াশীলতার বিষয়। সেই ক্রিয়াশীলতার জায়গাটায় নজর দেয়ার কেউ নেই!

উইঘুর ও হান মুসলিমদের নিয়ে মহাপরিকল্পনা নিতে পারতো যে ওআইসি, রাবেতা ইত্যাদি- তাদের চেতনক্ষমতার জানাজা সম্ভবত হয়ে গেছে অনেক আগে!

উইঘুরদের মধ্যে ভৌগলিক ও নৃতাত্ত্বিক জাতীয়তা নয়, জাগ্রত করতে হবে দ্বীনি দায়িত্ববোধ। খোদাবিমুখ মানুষের হিদায়াত ও কল্যাণের উদগ্র অভিপ্রায়ে জ্ঞান, মহত্ব ও ইতিবাচকতা দিয়ে গণচীনে সত্যের মশালচী হবার জন্য চীনা মুসলিমদের অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ তৈরি এবং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে ভূমিকা রাখার দায়িত্ব মুসলিম জাহানের।

দ্বীনি প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, নেতা, দা’য়ী, সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও চিন্তাবিদরাও এতে এগিয়ে আসবেন। এ দায়িত্ব পালনে কসুর করলে পরে পস্তাতে হবে।

ইসলাম প্রশ্নে চীনের চরিত্র