শনিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৭

ads

‘জমিয়ত সঠিক নিয়মেই চলছে; দলীয় ফোরাম ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত গৃহিত হবে না’

OURISLAM24.COM
অক্টোবর ২২, ২০১৭
news-image

আলেমদের অন্যতম রাজনৈতিক প্লাটফরম জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাদের মধ্যে চলছে সম্পর্কের টানাপোড়েন। গঠনতন্ত্র থেকে নির্বাহী সভাপতির পদ বাতিল ও ভিন্ন দল থেকে নতুন কয়েকজন নেতার অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে চলছে এ সংকট।

এর মধ্যেই পরশু দলের সহ সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাসের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে জমিয়ত সুরক্ষা কমিটি।  সুরক্ষা কমিটি বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। বিষয়টিকে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেছেন জমিয়তের মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

আওয়ার ইসলামের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জমিয়ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী চলছে এবং আজীবন তাই চলবে। এখানে অসাংগঠনিক কিছু হবে না। নির্বাহী সভাপতি পদ নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে সেটা সবাইকে জানিয়ে মিটিংয়েই করা হয়েছে। ওই পদ বাতিলের প্রস্তাবে মুফতি ওয়াক্কাসও স্বাক্ষর করেছেন।

চলমান সব বিষয়গুলো নিয়ে জমিয়তের মহাসচিব বারিধারা জামিয়া মাদানিয়ার প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদিস আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আওয়ার ইসলামের সম্পাদক হুমায়ুন আইয়ুব

জমিয়তের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি…

আলহামদুল্লিাহ জমিয়ত আগের চাইতে অনেক ভাল অবন্থানে আছে। সুন্দর-সুষ্ঠভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। জমিয়তের গঠনতন্ত্র রয়েছে, মজলিশে সুরা এবং আমেলা রয়েছে।

সারাদেশে জমিয়তের দলীয় কার্যমক্রম সাংগঠনিক তৎপরতা কেমন এগুচ্ছে?

সারাদেশে জমিয়তের সংগঠন করার চেষ্টা করছি। ইতিমধ্যে অনেকগুলো সংগঠন হয়েছে। কিছু জেলা এখনো বাকি আছে আমরা সেখানেও আমাদর কাজ করার চেষ্টা করছি।

কয়েকমাস আগে তো কাউন্সিল হয়ে গেল। নতুন কমিটির কাজের গতি কেমন দেখছেন?

বর্তমান কাউন্সিল তো বাৎসরিক কাউন্সিল। এখানে গঠনতন্ত্র পাশ করা হয়, জেলা প্রতিনিধীদের রিপো্র্ট নেয়া সহয়েছে এবং নির্বাচনের বছর তাই নির্বাচনের প্রস্তিুতি নিতে বলা হয়েছে। এবং প্রার্থীদের ব্যাপারে তৃণমূল পর্যায়ে রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে।

নির্বাচনের কেমন প্রস্তুতি আছে জমিয়তের?

আমরা বিভিন্ন জেলা কমিটির দায়িত্বশীলদের বলেছি, তৃণমূলের রিপো্র্ট নিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা পেশ করতে। কয়েকটি জেলার তালিকা আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। যারা এখনো দেয়নি তাদের শিগগির জমা দেয়ার জন্য আহবান জানিয়েছি। এক মাসের ভেতরে জমা দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

সম্ভাব্য কত আসনের প্রস্তুতি আছে আপনাদের? আগামী নির্বাচনে কত আসনে সপ্রতীকে প্রার্থী দেবে জমিয়ত?

আমরা তো ২০ দলের সাথে আছি, আর তাদের সাথেই নির্বাচনে যাবো। ৫০ আসনের টার্গেট আছে জমিয়তের।

২০ দলীয় জোটে আপনাদের অবস্থান কেমন? সিট ভাগাভাগিতে…

ভাল অবস্থানে আছি। আসন ভাগাভাগির আলোচনা এখনো আসেনি, তবে আমরা ৫০ সিটের আলোচনা করবো। আশা করি দাবি অনুযায়ী আমরা সন্তোষজনক ফলাফল পাব। ২০ দলের সাথে এই নিয়ে এখনো আলোচনা হয়নি। আমরা আলোচনা করে আপনাদের জানাবো।

কতটা সিট পাবেন বলে আশা করছেন?

আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এটা এখনো বলা যাচ্ছে না।

ইসির সংলাপে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আপনাদের উল্লেখযোগ্য দাবি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি।

তত্তাবধায়ক সরকার, সেনাবাহিনী মোতায়নসহ ১১ দফা দাবি জানিয়েছে জমিয়ত।

জোট তাদের তত্তাবধায়কের দাবি থেকে সরে এসে সহায়ক সরকারের দাবি জানিয়েছে। এ ব্যাপারে আপনাদের দাবি কী ছিল?

আমরা তত্তাবধায়কের দাবিই জানিয়েছি। উদ্দেশ্য একটাই, নির্বাচনকালীন সময় জনগণ যেন স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দলীয় সরকারেরর পক্ষে এই সুযোগ জনগণ পায় না। সুতরাং আসল কথা্ হলো, যেভাবেই হোক সহায়ক কিংবা তত্তাবধায়ক সরকার জনগণ যেন তাদের ভোট দিতে পারে সেই ব্যবস্থা করা।

আপনাদের দাবি ইসি কতটুকু গুরুত্ব দেবে বলে মনে করেন?

ইসি বলছে, যে সমস্ত দাবি তাদের ক্ষমতার বাইরে তারা তা সক্ষমদের কাছে সুপারিশ আকারে পেশ করবে।

কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৩০ ভাগ নারী সদস্য রাখার ব্যাপারে কথা উঠেছে…

দেশের নারী সংখ্যা পুরুষের অর্ধেক তাই প্রত্যেক দল নিজেদের স্বার্থে নারীদের সদস্য করবে। কিন্তু ৩০ শতাংশ এটা অবান্তর মেনে নেওয়া যায় না।

আপনারাও কি কমিটিতে নারী সদস্য রাখছেন?

হ্যাঁ, আমাদের নারী সদস্য সংগ্রহের কাজ চলছে।

কাউন্সিল হওয়ার চার মাসে হয়ে গেল, আপনারা কি কেন্দ্রীয় পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করেছেন?

আমাদের কমিটি তো আগে থেকেই চলে আসছে।

নতুন যে পরিবর্তন এসেছে কমিটিতে সেগুলো, বিশেষত নির্বাহী সভাপতির পদ বাদ দেওয়ার বিষয়টি?

নতুন পরিবর্তন বলতে শুধুমাত্র গঠনতন্ত্রের পরিবর্তন। আর নির্বাহী সভাপতি তো স্থায়ী কোন পদ না, অস্থায়ী পদ। প্রয়োজনবোধে সহ সভাপতি থেকে নির্বাহী সভিাপতি বানানো যায়। এই নিয়ম ছিল আগের সংবিধান অনুযায়ী, বর্তমান সংবিধানে এমন কোন পদই রাখা হয়নি।

মুফতি ওয়াক্কাস সাহেব যেহেতু নির্বাহী সভাপতির পদে ছিলেন, সে পদ থেকে বাদ দেওয়ার আগে তার সাথে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা? কিংবা জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি, এমন কিছু কি…?

তিনি জেলে থাকাকালীন গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্য সাব কমিটি করা হয়। জেল থেকে বের হওয়ার পর বললনে, ‘আমি সদস্য হব’ পরবর্তীতে তাকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

সে সময় সাব কমিটির মিটিংয়ের পরে একটি খসড়া তৈরি করে এক আমেলায় পেশ করা হয়। সে খসড়া সবাইকে পড়তে দেয়া হয়। সেখানে নির্বাহী সভাপতি পদটি ছিল না। এটি মুফতি ওয়াক্কাসসহ অন্যান্য সবাই দেখেছেন।

পরবর্তী আমেলার বৈঠকে সংশোধিত কপি পেশ করা হয়। মাওলানা শাহিনুর পাশা খসড়া পড়ে শোনান। আমেলায় গৃহীত হয়। আর আমেলায় খসড়া অনুমোদনের ১৪ মাস পরে কাউন্সিল হয়।

নতুন খসড়ায় নির্বাহী সভাপতির পদ রাখা হয়নি, মুফতি ওয়াক্কাস এটা পড়ার পরও এবং নির্বাহী সভাপতি পদ থেকে বাদ পড়ছেন জানার পরও তখন কোন প্রতিবাদ করেননি। অথচ তিনি দুটি আমেলার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। আর এখন এর প্রতিবাদ করছেন। এটা তো ঠিক নয়।

অভিযোগ করা হচ্ছে বাৎসসরিক কাউন্সিলে দলীয় নেতাদের বাদ দিয়ে আপনার পরিচিত কাছের মানুষকে পদ দেয়া হয়েছে এ সম্পর্কে আপনার মতামত কি?

এটা অবাস্তব কথা।

তাহলে এটা কেন বলছে?

যারা বলছে তাদের জিঙ্গেস করেন।

আরকেটি অভিযোগ করা হচ্ছে যে বহিরাগতদের কারণে জমিয়তে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে, এ সম্পর্কে কী বলবেন?

সংগঠনে আবার বহিরাগত কী জিনিস? সবাই তো সংগঠনে অন্তর্ভূক্ত হতে পারবে। সবাই এখানে বহিরাগত ছিল। সদস্য ফরম পূরণ করে সংগঠনের নিয়ম মেনে যে কেউ জমিয়তে অংগশগ্রহণ করতে পারবে।

বহিরাগত বলতে হঠাৎ করেই কারও কারও গুরুত্বপূর্ণ পদে চলে আসার কথা বলা হচ্ছে…

আমার যাদের পদায়ন করছি, তারা দুইটা বড় দল থেকে আসা। সেখানে তারা বড় পদে ছিলেন। যেমন আবদুর রবি ইউসুফী উনি খেলাফত মজলিসের সিনিয়র সভাপতি ছিলেন। আমরা তাকে সহ-সভাপতির পদ দিয়েছি। জুনাইদ আল হাবিব তিনি ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ছিলেন, আমার তাকে সহ-সভাপতি বানিয়ছি।

ইতিপূর্বে দুইজনই অন্য দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। তাদের তো অবমূল্যায়ণ করতে পারি না।

আপনি হয়রেতা শুনেছেন, দলের সদ্য বিদায়ী নির্বাহী সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস দীর্ঘ মিটিং করে ৩১ সদস্যের জমিয়ত সুরক্ষা কমিটি করেছেন এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?

এ বিষয়ে আমি ভাসাভাসা শুনেছি, বিস্তারিত জানা হয়নি। জমিয়তের নিজস্ব ফোরাম রয়েছে দলের যে কোন সিদ্ধান্ত সেখানেই হবে। এর বাইরে কোন কিছু বা কমিটি করার সুযোগ নেই।

এই সুরক্ষা কমিটি কি দলের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে, দলের শৃঙ্খলা কতটুকু নষ্ট হবে বলে মনে করছেন?  

আমাদের মজলিশে সুরা, গঠনতন্ত্র, আমেলা রয়েছে, সুতরাং যে কোন আলোচনা জমিয়তের নিজস্ব ফোরামে হবে। বাইরের কোন কিছু ধর্তব্য হবে না। সুরক্ষা কমিটি দলীয় নীতির বাইরে করা হয়েছে, এটা অবৈধ।

সুরক্ষা কমিটির দাবি বিশেষত দলীয় মহাসচিবের পদত্যাগ, এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?

বললাম তো, যে কোন বিষয় ফোরামে আলোচনা করতে হবে। এর বাইরে তো কিছু হতে পারে না।

ওই কমিটি দাবিগুলো নিয়ে দলের চেয়ারম্যানের কাছে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে…

কেউ চাইলে যে কোন দাবি নিয়ে আমিরের কাছে যেতে পারেন। এজন্য কোন কমিটি করার প্রয়োজন নেই।

যদি মহাসচিবের পদত্যাগের বিষয়টি আসে সে ক্ষেত্রে কি আপনি পদত্যাগ করবেন?

আমি কোনদিন পদের লোভী ছিলাম না। পদের জন্য রাজনীতি করিনি কোন সময়। ইতিপূর্বের কাউন্সিলগুলোতে আমাকে দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য জোর করা হয়েছে, আমি কোন সময় দায়িত্ব নিতে চাইনি।

আমার শায়েখ মাওলানা আবদুল মুমীন সাহেব আমাকে নির্দেশ করেছেন এজন্য আমি দায়িত্ব নিয়েছি। তিনি যদি বলেন, আমাকে পদ থেকে সরে যেতে হবে তাহলে আমি এখনই প্রস্তুত আছি।

সামনে নির্বাচনে আপনার অংশগ্রহণ করার কথা শোনা যাচ্ছে?

আমি অসুস্থ মানুষ। এ বিষয়ে ভাবছি না।

সারাদেশের ইসলামী দলগুলোর ঐক্য নিয়ে কিছু ভাবছেন?

আমি সারাদেশের ইসলামী দলগুলো একসাথে কাজ করুক এ বিষয়ে কাজ করছি। আমরা চাই যে সবাই একসাথে কাজ করুক।

পল্টনের একটি বৈঠক ছাত্র কর্তৃক ঘেরাও করার অভিযোগ উঠেছে…

না, সেটা আমেলার বৈঠক ছিল আর যাদের কথা বলা হচ্ছে তারা সবাই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে ওখানে ছিল।

ব্যক্তিগতভাবে মুফতি ওয়াক্কাস সাহেবের সঙ্গে আপনার কোন দ্বন্দ্ব আছে কি?

না, উনার সাথে আমার কোন দ্বন্দ্ব নেই।

তাহলে তো আপনারা দুজন একসাথে বসে এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। সংকট সৃষ্টি হচ্ছে কেন?

সবসময় তো বসতেছি।আমাদের মাঝে কোন দূরত্ব থাকলে তো বসব, দূরত্বই তো নেই।

দলের কর্মীদের জন্য আপনার কোন আহবান আছে কি?

আমি সকলের প্রতি আহবান জানাই তারা যেন, দলের নিয়মনীতি মেনে চলেন এবং তার যেন কোন অশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় না দেন।

শ্রুতি লেখন: রকিব মুহাম্মদ