মাওলানা মামুনুল হক
মুহাদ্দিস ও গবেষক
গত কয়েকদিন ধরে কওমি সনদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়টি নতুন করে আবার আলোচিত হচ্ছে৷ স্বীকৃতি বাস্তবায়নপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যপক টানা-পোড়েন থাকবে, বিষয়টি পূর্বেই অনুমান করা হয়েছিল৷ এ বিষয়ে হটকারিতামুক্ত চিন্তাশীল সাহসী ভূমিকাই সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কাম্য৷
আল্লাহ না করুন, ব্যত্যয় ঘটতে দেখলেই কোষবদ্ধ সেই তরবারি আবার উঁচিয়ে ধরে বলতে হবে, ‘নেতৃত্ব যদি ভুল পথে পরিচালিত হয়, তবে এই নাঙ্গা তরবারি দিয়ে পথে ফেরাবো ইনশাআল্লাহ’৷
তবে তার আগে অবশ্যই চোখ-কান খোলা রাখতে হবে ৷ বিগত দিনগুলোতে ধারাবাহিক পরম্পরায় যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, সেগুলোর সঠিক তথ্য ও উপলব্ধি নিয়েই সামনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে-
এক.
অনেক তর্ক-বিতর্ক, দেন-দরবারের পর বিগত ১১/০৪/১৭ গণভবনে শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে এই মর্মে ঘোষনা দেন যে, ‘কওমী মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে ও দারুল উলূম দেওবন্দের মূলনীতিসমূহকে ভিত্তি ধরে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিসের সনদকে মাস্টার্স (ইসলামিক স্টাডিজ এবং আরবি) এর সমমান প্রদান করা হল৷’
প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা কওমি ওলামাদের প্রত্যাশা মোতাবেকই হয়েছিল এবং কওমির প্রায় সব আলেম এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছিলেন ৷
স্বীকৃতির ঘোষণা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও দিয়েছিলেন, তবে এবারের ঘোষণায় পূর্বেকার চেয়ে অগ্রগতি এই ছিল যে, স্বীকৃতির রূপরেখা ও প্রস্তাবনা তৈরির জন্য কেবলমাত্র ওলামায়ে কেরামের সমন্বয়ে এবং বোর্ডগুলোর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে "সনদের মান বাস্তবায়ন কমিটি নামে" একটি কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়েছিল এবং একদিনের মাথায় সেই কমিটিকে "সনদ বিষয়ক যাবতীয় কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহনকারী" বিবেচনা করে স্বীকৃতি ঘোষণার প্রজ্ঞাপন জারি করার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল ৷
১৩/০৪/১৭ তারিখে উক্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি হয় ৷ অনুমোদিত সেই কমিটিই ১৬/০৪/১৭ তারিখে হাটহাজারী মাদরাসায় বৈঠকে মিলিত হয় এবং স্বীকৃতির মান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ নামে সর্ববোর্ডীয় একক বোর্ড গঠন করে৷
হাইআতুল উলয়া গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে কওমী মাদরাসার একক প্লাটফর্মে আসার দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ হয় ৷
দুই.
আল-হাইআতুল উলয়া গঠিত হওয়ার পর ২০১৭ সালের দাও