বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬ ।। ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২৩ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
গণঅভ্যুত্থান দিবসে ইফাদাতুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের খতমে কুরআন ও দোয়া মাহফিল গণভোটের রায়ের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চায় খেলাফত মজলিস ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের ফসল’ দেশব্যাপী ইসলামী আন্দোলনের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালন শুক্রবারে বায়তুল মোকাররমে জুমার খুতবাপূর্ব বয়ান করবেন দেওবন্দের মুহতামিম ইমরান খানের মুক্তি দাবিতে বিক্ষোভ পাকিস্তানে, ব্যাপক ধরপাকড় জুলাইয়ের কাছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে বায়তুল মোকাররমে কুরআন খতম ও বিশেষ দোয়া মাহফিল চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থান ও মাদরাসাপড়ুয়াদের অবিস্মরণীয় ভূমিকা হজযাত্রীদের জন্য নতুন ছাতার নকশা আহ্বান সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের

জমিয়তে নেতাদের দূরত্ব মেটাতে সভাপতির কাছে যাচ্ছেন ৬ নেতা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

হামিম আরিফ
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের উলামায়ে কেরামের আস্থার সংগঠন উলামায়ে ইসলামের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে চলমান কিছু মতানৈক্য ও বিরোধ মেটাতে সভাপতির দ্বারস্ত হচ্ছেন কেন্দ্রীয় ৬ নেতা।

মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ৬ সদস্যের টিম সিলেট যাবেন জমিয়তের সভাপতি শায়খ আবদুল মুমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে। সেখানে জমিয়তের বর্তমান অবস্থা ও নেতাদের মধ্যে চলমান দূরত্ব বিষয়ে আলোচনা করবেন।

জানা গেছে, জমিয়তের সর্বশেষ কাউন্সিলে নির্বাহী সভাপতির পদ বাতিল করা হলে এ দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। এমনকি জমিয়তের নির্বাহী সভাপতি ও দলের সিনিয়র পারসন মুফতি ওয়াক্কাস যখন জেলে ছিলেন তাকে জানানো ছাড়াই দলীয় গুরুত্বপূর্ণ অনেক সিদ্ধান্ত নেয়া হলে এসব দূরত্ব তৈরি হয়।

যার ফলে দল থেকে অনেক নেতা বের হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়। শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মধ্যে তৈরি হয় মনোমালিন্য।

এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী ও ইসলামী ঐক্যজোট থেকে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব গত বছর জমিয়তে যোগ দিলে তাদেরকে তাৎক্ষণিক পদ দেয়ায় সৃষ্টি হয় জটিলতা।

দলের ভেতর এসব দূরত্ব ও মতানৈক্য দূর করতেই ৬ সদস্যের টিম আজ সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা যায়।

৬ সদস্যের টিমে রয়েছেন, কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মাওলানা মনসুরুল হাসান রায়পুরী, মাওলানা আবদুর রহীম ইসলামাবাদী, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি শেখ মুজিবুর রহমান, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফ বিল্লাহ, নির্বাহী সদস্য আবদুল মালেক চৌধুরী ও মুফতি আবদুল হান্নান।

দলের একজন সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশে অনিচ্ছা জানিয়ে আওয়ার ইসলামকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের মধ্যে কিছু বিষয় নিয়ে অস্থিরতা চলছে, যা দলকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। এসব যেন দূর হয়ে যায় এবং জমিয়ত উলামায়ে কেরামের সার্বিক প্রত্যাশা পূরণ করে রাজনীতির মাঠে নির্মল অবদান রাখতে পারে সেই চেষ্টা আমরা করে যাচ্ছি।

সভাপতির কাছে প্রতিনিধি প্রেরণ প্রসঙ্গে সহ সভাপতি মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস আওয়ার ইসলামকে বলেন, হ্যা জমিয়তে কিছু অনিয়ম চলছে, এসব নিরসনের জন্যই সভাপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাবে প্রতিনিধি দল।

তিনি বলেন, আমরা চাই বিষয়টি সহজে সুরাহা হয়ে যাক। আকাবির ও আসলাফের দলটি যেন সমালোচনার উর্ধে থেকে নীরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারে সে চেষ্টাই আমরা করছি।

উপমহাদেশের ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রয়েছে গৌরবময় ইতিহাস।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর যাত্রা শুরু করে দলটি। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের শাখা হিসেবেই বাংলাদেশে গঠিত হয় দলটি।

দলটিতে বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের সমন্বয় ঘটেছিল শুরু থেকেই। এর সভাপতি ছিলেন পর্যায়ক্রমে মাওলানা তাজাম্মুল আলী রহ., শায়খুল হাদীস মাওলানা আজীজুল হক রহ., হাফেজ মাওলানা আব্দুল করীম শায়খে কৌড়িয়া রহ. মাওলানা শায়খ আশরাফ আলী বিশ্বনাথী রহ. ও মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রহ. মতো আলেমগণ।

বর্তমানে দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন খলিফায়ে মাদানী শায়খুল হাদীস আল্লামা আব্দুল মুমিন শায়েখে ইমামবাড়ী।

১৯৯১ সাল থেকে দলটির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শায়খুল হাদীস মুফতি মুহাম্মদ ওয়াক্কাস ।

সর্বশেষ, ৭ নভেম্ভর ২০১৫ সালের কাউন্সিলে দলটির মহাসচিব পদে শায়খুল হাদীস আল্লামা নূর হুসাইন কাসেমী নির্বাচিত হন।


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ