মুফতি মুহাম্মাদ রাশিদুল হক
অতিথি লেখক
হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রা. তখন মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলীফা। কিছু সাথী নিয়ে মদীনার একটি পথ ধরে চলছেন। পথের পাশেই একটি দোকান চোখে পড়লো তাঁর। দোকানটি অগ্নি উপাসক আবু লুলুর।
খলীফা প্রবেশ করলেন দোকানটিতে। আবু লুলুকে প্রশ্ন করলেন তোমার পেশা কী? আবু লুলুর উত্তর- আমি লৌহকার এবং ছুতার। পেষণযন্ত্রও (জাঁতা) তৈরি করি।
আমীরুল মুমিনীন তাকে লক্ষ করে বললেন, আমি শুনেছি তুমি নাকি বলেছো, আমি এমন পেষণযন্ত্র তৈরি করতে সক্ষম যা বাতাসে চলবে। শুনে অগ্নি উপাসক বলল, আমি আপনার জন্য এমন কিছু করব যা সারা দুনিয়ার মানুষ জানবে।
হযরত উমর রা. এবার সঙ্গীদেকে লক্ষ করে বললেন, দেখ সে কিন্তু আমার সাথে অঙ্গীকার করেছে। এ কথা বলে তিনি দোকান থেকে বেরিয়ে পড়লেন।
কিছু দিন পর আবু লুলু একটি খঞ্জর তৈরি করল। সেটির হাতল ছিলো মাঝখানে, ফলা দুইপাশে। উভয় দিকে ধারালো সেই খঞ্জরটি সে পুরো এক মাস বিষের মধ্যে ডুবিয়ে রাখলো। যেন সেটি দিয়ে কাউকে আঘাত করলে সল্প আঘাতেও বিষক্রিয়া রক্তে ছড়িয়ে পড়ে এবং আঘাত মামুলি হলেও যেন আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তি মৃত্যুর হাত থেকে রেহাই না পায়।
এরপর কোনো এক রাতের আঁধারে সে মসজিদে নববীতে সবার অগোচরে প্রবেশ করে মেহরাবের ভেতরে লুকিয়ে রইল।
হযরত উমর রা. অন্যান্য দিনের মত সেদিনও ফজরের নামজের জন্য মসজিদের প্রবেশ করেন এবং মসজিদে অবস্থানরত ব্যক্তিদের জাগিয়ে দিতে ‘আসসালাত’ ‘আসসালাত’ বলতে লাগলেন। জামাতে জন্য মুসল্লিবৃন্দ প্রস্তুত হলেন।
তখনকার দিনে বর্তমান সময়ের মত মসজিদে এত আলোর ব্যবস্থা ছিলো না। সারা মসজিদে একটি বা দুটি বাতি জ্বলতো। হযরত উমর রা. নামাজ শুরু করলেন। আবু লুলু তখনো মেহরাবে লুকিয়ে। সে মোক্ষম সুযোগের অপেক্ষায়।
আমিরুল মুমিনীনকে আঘাত করার সে দ্বিতীয় রাকাতকে বেছে নিলো। যেন মহল্লার সবাই জামাতে থাকে এবং তার পালিয়ে যেতে সহজ হয়।
আমিরুল মুমিনীন দ্বিতীয় রাকাত শুরু করলেন। সুরা ফাতিহা পড়ছেন- আলহামদু লিল্লাহি রব্বিল আলামীন।... ইয়াকা নাসতাঈনু’ পর্যন্ত পৌঁছতেই আবু লুলু হায়েনার মত ঝাপিয়ে পড়লো তাঁর উপরে।
মুহূর্তেই আঘাতে আঘাতে জর্জতিক করল তাঁকে। একটি বুকে, অপরটি পার্শ্বদেশে এবং শরীরের বিভন্ন স্থানে আরো কয়েকটি।
সবচেয়ে গুরুতর আঘাতটি ছিলো তাঁর তলপেটে। নাভির নিচের অংশে পুরো খঞ্জরটি ঢুকিয়ে হেচকা টানে ফেঁড়ে ফেলে দিয়ে ছিলো পেট। জখম এতটাই বড় হয় যে, এতে আমীরুল মুমিনীনের অন্ত্রের কিছু অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। তিনি একটি চিৎকার দিয়ে à¦