সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭

ads

রোহিঙ্গা শিবিরের হিরো ৫ : মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ

OURISLAM24.COM
সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৭
news-image

হাওলাদার জহিরুল ইসলাম
বিশেষ প্রতিবেদক, আওয়ার ইসলাম

পাহাড়ি ঢালু পথ ধরে এগোচ্ছিলাম৷ সামনের কয়েকটি পাহাড়ে নতুন শরণার্থীদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করবো৷ পেছন থেকে সফর সঙ্গীদের একজন থামিয়ে দিয়ে বললেন, হজরত উপরের দিকে তাকান৷ দেখলাম তিনজন বোরকাবৃত নারী পাহাড় থেকে নেমে আসছে৷ এমনিতেই নেমে আসছে মনে করে সামনে হাঁটা ধরলাম৷ এবার সফরসঙ্গী বিষয়টি খোলাসা করে বললেন, তারা আমাদের দেখেই নিচে নেমে আসছে মনে হয়৷ আমাদের একটু অপেক্ষা করা উচিত৷

একজনের কোলে ৩/৪ বছরের শিশু৷ আর দুজনকে যুবতী মনে হলো৷ তারা নতুন এসেছে৷ পথঘাট কিছুই চেনে না৷ ত্রাণ কোথায় দেয়া হচ্ছে, কীভাবে তা সংগ্রহ করতে হবে তাও জানে না৷ প্রায় সপ্তাহখানেক পায়ে হেঁটে আসায় তারা বেশ ক্লান্ত-বিধ্বস্ত৷ শিশুটির হাতে নগদ টাকা তুলে দিলাম৷ অমনি শিশুর মা হাউমাউ করে কেঁদে ফেললেন৷ জানালেন, শিশুর বাবাকে মায়ানমারের বর্বর সেনা সদস্যরা হত্যা করেছে৷

পাশের দুই যুবতীকেও কিছু অর্থ দিলাম৷ তাদের চোখ অশ্রুভেজা৷ মুখে ভয় ও হাতাশার ছাপ স্পষ্ট৷ এদের মধ্যে নিজের প্রিয়তমা স্ত্রী আর কলিজার টুকরো সন্তানদের মুখচ্ছবি দেখতে পেলাম৷ নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না৷ অঝোরে কান্না আসতে লাগলো এদের অসহায়ত্ব দেখে৷

উপরের কথাগুলো বলছিলেন মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ৷ গত ১৮তারিখে ‘মারকাযুত তাকওয়া ত্রাণ টিম’ নিয়ে টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নগদ অর্থ বিতরণ ও অস্থায়ী মসজিদ মাদরাসা নির্মাণের উদ্দেশে গিয়েছিলেন৷

ত্রাণ বিতরণের অভিজ্ঞতার কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন, অনেকেই ব্যক্তি উদ্যোগে, প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ত্রাণ বিতরণে গিয়েছেন৷ কিন্তু রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো এলোমেলো ছড়ানো ছিটানো হওয়ায় ত্রাণ ঠিকমতো পৌঁছাতে পারছে না৷ ফলে কেউ বার বার ত্রাণ পেলেও বহু মানুষ একবারও পায় না৷ আবার কেউ মেইন রোডেই গাড়ি থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু করে দেয়৷

এখানের অধিকাংশই পুরাতন রোহিঙ্গা বা স্থানীয় সুবিধাবাদী লোকের ভিড় দেখা গেছে৷ আলহামদু লিল্লাহ! আমরা প্রথম একদিন কেবল প্রকৃত বা বেশি অসহায়দের খোঁজ করেছি৷ দুর্গম পথে যেখানে সাধারণত ত্রাণদাতারা যায় না প্রায় তিন কিলোমিটার পানি কাদা মাড়িয়ে ভেতরে গিয়ে নদগ অর্থ তুলে দিয়েছি৷ আমাদের প্রতিটি সহযোগিতাই যাতে উপযুক্ত ব্যক্তির হাতে পৌঁছে সে জন্য স্থানীয় এক ব্যক্তির সার্বক্ষণিক সহায়তা নিয়েছি৷ তিনি আমাদের খুব সুন্দর রাহবারি করেছেন৷

জানতে চাই, ক্যাম্পগুলোতে মানুষ কতোটা অসহায়? কেমন কাটছে তাদের অনিশ্চয়তার জীবন? বলেন,  ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীরা মানবেতর জীবন যাপন করছে৷ খাওয়া, ঘুমানো কোনো কিছুই ঠিকমতো হচ্ছে না৷ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটছে বহু মানুষের৷ বহু পরিবার এমন আছে যাদের একজন পুরুষও জীবিত নেই৷ তাদের অসহায়ত্বের কথা বলে বুঝানো যাবে না৷ অসংখ্য নারী মিয়ানমার সেনা সদস্যদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছে৷ লোক লজ্জার ভয় আর অপর্যাপ্ত মেডিকেল ক্যাম্পের ফলে তাদের অবস্থা খুবই গুরুতর৷

খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি গণধর্ষণের শিকার অনেক নারীর জরায়ুতে ঘা হয়ে গেছে৷ তাদের যে কেউ উন্নত চিকিৎসা দেবে সে মানুষটি নেই৷ এছাড়াও অনেক যুবক বৃদ্ধ আহত অবস্থায় আছে৷ একজন মুরুব্বী দীর্ঘ ১২দিন হেঁটে টেকনাফে এসেছেন৷ তার দুই পা ফুলে গেছে৷ তিনি কোনোভাবেই দাঁড়াতে পারছেন না৷ চোখে মুখে হতাশ ভাব৷ উদাস চাহনি৷ কেমন আছেন জিজ্ঞেস করতেই শিশুর মতো কেঁদে উঠেন৷ তাদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা দরকার৷’

আমি লক্ষ্য করলাম কথাগুলো বলার সময় মিছবাহ সাহেবের চোখ ছলছল করছে৷

কথায় কথায় জানালেন, ‘কিছু অসাধু-টাউট বাটপার রোহিঙ্গাদের অসহায়ত্বের ফায়দা নিচ্ছে৷ এ ক্ষেত্রে নারী ও শিশু পাচারকারী চক্র খুব ভয়ংকর৷ এরা যুবতী নারীদের টার্গেট করে কাজ করছে৷ তাদেরকে আশ্রয় দেয়ার কথা বলে পাচার করে দিচ্ছে কিংবা কোনো পতিতালয়ে পাঠিয়ে দিচ্ছে৷ পারাপারকালে রোহিঙ্গাদের নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, গরু-ছাগল ও জরুরি জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় একটি সিন্ডিকেট। শেষতক পূর্ণ খালি হাতেই বাংলাদেশে প্রবেশ করে মাজলূমরা। চারিদিক সূর্যের আলোয় আলোকিত থাকলেও ওদের কাছে পৃথিবীটা একেবারেই অন্ধকার।

অপরিচিত দেশ। মানুষজনও পরিচিত নয়। ভিন্ন সংস্কৃতি। মাথা গোঁজার সামান্যতম ঠাঁই নেই। পরিধেয় ব্যতিত পোশাকশূন্য প্রতিটি মানুষ। এপারে আসা এ সমস্ত রোহিঙ্গাদের জন্য ক্যাম্প তৈরি হয় টেকনাফের বিভিন্ন অঞ্চলে।

দু’জনের তাবুতে পাঁচ-ছয়জন গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে তাদের। খাবার নেই। পানির সংকট। শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। মায়ের বুকেও দুধ নেই। অসহায় চাহনী। কাঁদতে কাঁদতে হয়তো চোখের পানি শুকিয়ে গেছে, তাই কাঁদে না। নয়তো অধিক শোকে পাথর হয়ে বসে আছে ওরা। এ এক করুণ দৃশ্য। এদিকে এ অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ!

রোহিঙ্গাদের সেবায় আলেমদের অবদান অবিস্মরণীয়৷ হকপন্থী উলামায়ে দেওবন্দ আলেম উলামা যতোটা মমতা, সহানুভূতি, ভালোবাসা নিয়ে খেদমত করে যাচ্ছে তা আর কারো থেকে হচ্ছে বলে মনে হয় না৷ এরা প্রকৃত সমস্যাগুলো খুঁজে বের করে তার সমাধানের জন্য নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কাজ করছে৷ সংগঠনের দিক থেকে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় দীর্ঘ মেয়াদি কাজ করছে৷ এদের প্রায় ১০হাজার কর্মী কাজ করছে বলে জানতে পেরেছি৷ মিডিয়াগুলো যদি ‘হলুদ মিডিয়া’ না হতো, যদি আলেমদের অবদান তুলে ধরতো তাহালে তারা সবার শীর্ষে অবস্থানকারী হিসেবে সারা দেশে প্রচার পেতেন৷ কথিত সুশীলদের চোখ মুখে ছাই পড়তো৷

মুফতী হাবিবুর রহমান মিছবাহ৷ বাংলাদেশের সর্বজন পরিচিত একজন ওয়ায়েজ৷ যিনি সারাদেশে বছরজুড়ে প্রায় ৫০০ মাহফিল করে থাকেন৷ ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলায় ‘মারকাযুত তাকওয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার’ নামে তার নিজস্ব মাদরাসা রয়েছে৷ এর প্রতিষ্ঠাতা প্রিন্সিপাল তিনি নিজেই৷ মিডিয়া জগতেও বেশ সরব এই তরুণ আলেম৷ সোশ্যাল মিডিয়ায়ও তিনি একজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব৷

রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে ফিরে কেমন অনুভূতি, কেমন সময় পার করছেন, আগামীতে আরো কর্মসূচি আছে কিনা এ নিয়েও আলাপ হয় দীর্ঘক্ষণ৷ বললেন, টেকনাফ থেকে ফিরে কেমন যেনো ঘোরের মধ্যে সময় কাটছে৷

কেবলই অসহায় রোহিঙ্গাদের বিধ্বস্ত চেহারাগুলো চোখের তারায় ভেসে ওঠে৷ নড়বড়ে সামান্য তাবুর নিচে শিশুদের উদাস চেহারাগুলো আমায় বার বার ভাবিয়ে তোলে৷ বাসায় কোনো ভালো খাবারের আয়োজন করতে পারছি না৷ বিবেক সে অনুমতি দিচ্ছে না৷ আফিফা রহমান (বড় মেয়ে) বিরিয়ানি খাওয়ার বায়না ধরলেও কিনি দিতে পারিনি৷

কি এক আজীব সমস্যায় ভুগছি আমি! মাজলূম ক্যাম্পের শিশুদের দেখলেই আমার সন্তানদের খুঁজি ওদের মাঝে। মনে হয় আমার কলিজার টুকরারাই যেনো আমার দিকে অসহায় নজরে তাকিয়ে আছে। দু:খে কলিজাটা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হয়। আবার আমার সন্তানের দিকে তাকিয়ে মাজলূম শিশুদের খুঁজে বেড়াই।

হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় তখন, যখন ভাবি আমার স্ত্রী-সন্তান কিংবা মা-বা যদি সব হারিয়ে আজ ওদের অবস্থানে থাকতো, তাহলে কেমন করতো! ওরা কি পারতো মানুষের কাছে হাত বাড়াতে? আমার স্ত্রী কি সন্তান নিয়ে এভাবে রাস্তার দাঁড়িয়ে থাকতো এক মুঠো ত্রাণের আশায়?

মন চায় জীবনে যা কিছু অর্জন করেছি সব রেহিঙ্গাদের জন্য বিলিয়ে দেই৷ আগামী মাসের ৭ তারিখে প্রায় ১৮ লাখ টাকার ত্রাণ নিয়ে ২য় বারের মতো রেহিঙ্গা ভাইদের দেখতে যাবো৷ ইতোপূর্বে সেখানে আমার তত্ববধানে একটি মসজিদ নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে৷ সাথে পুরুষ মহিলার জন্য পৃথক পৃথক একাধিক টিউবওয়েল ও স্যানেটারী বাথরুমের কাজ শেষ হয়েছে৷

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষার আলো দিতে ইতোমধ্যেই একটি মকতব উদ্বোধন করে এসেছি৷ এবার কাজের সুবিধা ও অধিক উপকারিতার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন প্যাকেজ ঘোষণা করেছি৷ যা ১হাজার পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হবে৷

প্যাকেজ-০১ (শিশুখাদ্য, ২০০ পরিবার)
০১। ল্যাকটোজেন-১ ১১০,০০০/- (প্রতি পিছ ৫৫০টাকা)
০২। ফিডার ১০,০০০/- (প্রতি পিছ ৫০টাকা)
০৩। ওরস্যালাইন ৫,০০০/- (প্রতি পিছ ৫টাকা)
০৪। গুড়া কৃমি ও কৃমির ঔষধ ৪,০০০/- (প্রতি কোর্স ২০টাকা)
০৫। সর্দির সিরাপ ৬,০০০/- (প্রতি বোতল ৩০টাকা)
০৬। চকলেট ১০,০০০/- (প্রতি প্যাকেট ৫০টাকা)

প্রতি পরিবার যা পাবে-
১টি ল্যাকটোজেন * ১টি ফিডার * ৫টি ওরস্যালাইন * গুড়া কৃমি ও কৃমির ঔষধ ফুল কোর্স * সর্দির সিরাপ ১টি * চকলেট ১প্যাকেট। ফ্যামিলি প্রতি খরচ ৭২৫টাকা। ২০০ পরিবারের জন্য শিশুখাদ্যে মোট খরচ হবে ১,৪৫,০০০/- (এক লক্ষ পয়তাল্লিশ হাজার টাকা মাত্র)।

প্যাকেজ-০২ (ফ্যামিলি খাবার, ২০০ পরিবার)
০১। চাল ১০০,০০০/- (প্রতি কেজি ৫০টাকা)
০২। ডাল ৮,০০০/- (প্রতি কেজি ৮০টাকা)
০৩। সয়াবিন তেল ৪৪,০০০/- (প্রতি কেজি ১১০টাকা)
০৪। লবন ৫,০০০/- (প্রতি কেজি ২৫টাকা)
০৫। হলুদ-মরিচের গুড়া ৪০,০০০/-
০৬। পিয়াজ ৪,০০০/- (প্রতি কেজি ৪০টাকা)

প্রতি পরিবার যা পাবে-
চাল ৫ কেজি * ডাল ৫০০গ্রাম * সয়াবিন তেল ২ কেজি * লবন ১ কেজি * হলুদ-মরিচের গুড়া ২০০ টাকার * পিয়াজ ৫০০গ্রাম। ফ্যামিলি প্রতি খরচ ৭৫৫টাকা। ২০০ পরিবারের জন্য ফ্যামিলি খাবারে মোট খরচ হবে ১,৫১,০০০/- (এক লক্ষ একান্ন হাজার টাকা মাত্র)।

প্যাকেজ-০৩ (মহিলাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, ২০০ পরিবার)
০১। সেনোঁরা ২০,০০০/- (প্রতি প্যাকেট ১০০টাকা)
০২। ওড়না ৩০,০০০/- (প্রতি পিছ ১৫০টাকা)
০৩। ডেটল সাবান ৯,০০০/- (প্রতি পিছ ৪৫টাকা)
০৪। শ্যাম্পু ২০,০০০/- (প্রতি বোতল ১০০টাকা)
০৫। প্যারাস্যূট তেল ১১,০০০/- (প্রতি বোতল ৫৫টাকা)
০৬। মশারী ৪০,০০০/- (প্রতি পিছ ২০০টাকা)

প্রতি পরিবার যা পাবে-
সেনোঁরা ১টি * ওড়না ১টি * ডেটল সাবান ১টি * শ্যাম্পু ১টি * প্যারাস্যূট তেল ১টি * মশারী ১টি। ফ্যামিলি প্রতি খরচ ৬৫০টাকা। ২০০ পরিবারের জন্য মহিলাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে মোট খরচ হবে ১,৩০,০০০/- (এক লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা মাত্র)।

প্যাকেজ-০৪ (সাংসারিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র-১, ২০০ পরিবার)
০১। প্রতি পরিবারের জন্য ২টি করে সিলভারের পাতিল, চামচ ও প্লাষ্টিকের বাটি (ভাত-তরকারী)। এতে পরিবার প্রতি খরচ হবে ৫০০টাকা এবং ২০০ পরিবারের জন্য মোট খরচ হবে ১,০০,০০০/- (এক লক্ষ টাকা মাত্র)।

প্যাকেজ-০৫ (সাংসারিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র-২, ২০০ পরিবার)
০১। প্লাস্টিকের বালতি (১০লিটার) ২৮,০০০/- (প্রতি পিছ ১৪০টাকা)
০২। প্লাস্টিকের মগ ৬,০০০/- (প্রতি পিছ ৩০টাকা)
০৩। বদনা ৪,০০০/- (প্রতি পিছ ২০টাকা)
০৪। ডিটারজেন্ট পাউডার ২৬,০০০/- (প্রতি কেজি ১০০টাকা)
০৫। রান্নার চুলা (স্টোভ/কুকার) ১১,০০০/- (প্রতি পিছ ১৩০টাকা)
০৬। কেরোসিন (একটি বোতলসহ) ৩৬,০০০/- (প্রতি লিটার বোতলসহ ৯০টাকা)

প্রতি পরিবার যা পাবে-
প্লাষ্টিকের বালতি ১টি * প্লাষ্টিকের মগ ১টি * বদনা ১টি * ডিটারজেন্ট পাউডার ৫০০গ্রাম * রান্নার চুলা ১টি কেরোসিন ২লিটার। ফ্যামিলি প্রতি খরচ ৫৪০টাকা। ২০০ পরিবারের জন্য মোট খরচ হবে ১,০৮,০০০/- (এক লক্ষ আট হাজার টাকা মাত্র)।

প্যাকেজ-০৬ (সাংসারিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র-৩, ১০০০ পরিবার)
০১। মোমবাতি ও ম্যাচ ১,০০,০০০/- (১০০টাকা করে)
০২। টর্চলাইট দুটি ব্যাটারীসহ ১,০০,০০০/- (১০০টাকা করে)
০৩। মেসওয়াক ১০,০০০/- (প্রতি পিছ ১০টাকা)
০৪। টুথ পাউডার (ম্যাজিক) ১২,০০০/- (প্রতি পিছ ১২টাকা)
০৫। টয়লেট টিস্যূ ২৫,০০০/- (প্রতিটি ২৫টাকা)
০৬। টোস্ট বিস্কুট ৮০,০০০/- (প্রতি কেজি ৮০টাকা)
০৭। স্যাভলন ৫০,০০০/- (প্রতি বোতল ৫০টাকা)

প্রতি পরিবার যা পাবে-
মোমবাতি ও ম্যাচ ১প্যাকেট করে * টর্চলাইট ১টি দুটি ব্যাটারীসহ * মেসওয়াক ১টি * টুথ পাউডার ১টি * টয়লেট টিস্যূ ১টি * টোস্ট বিস্কুট ১কেজি* স্যাভলন ১টি। ফ্যামিলি প্রতি খরচ ৩৭৭টাকা। ১০০০ পরিবারের জন্য মোট খরচ হবে ৩,৭৭,০০০/- (তিন লক্ষ সাতাত্তর হাজার টাকা মাত্র)।

প্যাকেজ-০৭ (পাবলিক প্লেস)
০১। পাবলিক টিউবওয়েল ৫টি। প্রতিটি ১০,০০০/- করে। মোট ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার টাকা)
০২। পাবলিক টয়লেট ১০টি। প্রতিটি ৩,০০০/- করে। মোট ৩০,০০০/- (ত্রিশ হাজার টাকা)

প্যাকেজ-০৮ (মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত)
০১। মহিলাদের জন্য টিউবওয়েল (গোসলখানাসহ) ৫টি। প্রতিটি ১২,০০০/- করে। মোট ৬০,০০০/- (ষাট হাজার টাকা)
০২। মহিলা টয়লেট ৫টি (টিন দিয়ে)। প্রতিটি ৫,০০০/- করে। মোট ২৫,০০০/- (পচিশ হাজার টাকা)

* এতিম শিশু, বিধবা মহিলা ও আলেম/শিক্ষিত পরিবারের জন্য কলোনী বাবদ (আনুমানিক) ৫,০০,০০০/- (পাঁচ লক্ষ) টাকা খরচ হবে। সর্বমোট ১৬,৭৬,০০০/- (ষোল লক্ষ ছিয়াত্তর হাজার) টাকা আপাতত টার্গেট ইনশাআল্লাহ।

মারকাজুত তাকওয়া টিম খোঁজ নিয়েছে মাজলুম আরাকানি আলেমদেরও৷ তাদেরই একজন আল্লামা নজীর আহমদ ইবনে জমীর আহমদ সদর সাহেব হুজুর, দারুল উলূম মে’জানপুর আরাকান৷ ৭০ উর্ধ্ব এ বয়সে ৮দিন পর্যন্ত পায়ে হেঁটে হিযরত করে এসেছেন বাংলাদেশে। শুধু নদীগুলো নৌকায় পার হয়েছেন। তাঁর ছাত্রের তালিকায় বহু মুহাদ্দিস ও শায়খুল হাদিসও রয়েছেন। যিনি দারুল উলূম মে’জানপুর আরাকান-এ দীর্ঘ ২৫ বছর বুখারী শরীফ সানী’র দরস দিয়েছেন। ৩০ বছর পড়িয়েছেন মিশকাত শরীফ ১ম-২য় দু’খন্ডই।

তিনি আরাকানে নিজ নামের চেয়ে ‘সদর সাহেব হুজুর’ হিসেবেই ছিলেন অধিক প্রসিদ্ধ। সহধর্মীনিসহ পরিবারের কিছু সদস্য তাঁর সাথে আছে, বাকিরা কে কোথায় তা তিনি জানেন না। কথা বলতে বলতে দেখি তাঁর চোখের কোণে পানি জমে গেছে। নিজেকে সামলাতে না পেরে আমিও অযুহাত দেখিয়ে হুজুর থেকে বিদায় নেই।

আরো জানালেন, মাজলূম মুহাজির ভাইদের মেহমানদারি অতুলনীয়৷ তাদের ব্যবহারে দারুণসমুগ্ধ হয়েছি৷ আমি মসজিদ নির্মাণের জন্য বাঁশ কিনতে বাজারে গিয়েছি। টিমের বাকি সদস্যরা মুহাজির আলেম-হাফেজগণের সাথে মতবিনিময় করছিলো। এর ফাঁকে মুহাজিররা পুরোদস্তুর মেজবান বনে গেলেন। যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে চা-বিস্কুট ও আরাকান থেকে নিয়ে আসা শুকনো পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন!

বাঁশ নিয়ে এসে জানতে পেরে শুধু ভেবেছি, যে লোকগুলো এই পরিস্থিতিতেও সামাজিকতা ও এমন দায়বদ্ধতার কথা ভুলে যায়নি, সে মানুষরা কখনো উশৃংখল হতে পারে না। পারে না কোনো দাঙ্গা বাজাতে। মানুষগুলো কিছুটা চিন্তিত থাকলেও এদের চোখে-মুখে ছিলো ধৈর্যের স্পষ্ট ছাপ। যে কোনো পরিস্থিতির নিজেদের মানিয়ে নিয়ে আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করার দৃঢ় প্রত্যয়।

মুফতি মিছবাহ’র সাথে কথা হয় আরো অনেক৷ কিন্তু ইতিহাসের ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার অসহায় রোহিঙ্গাদের দুঃখ কষ্টের উপাখ্যান যেনো শেষ হয় না৷ ‘মানবতা’ শব্দটিও যেনো মনুষ্যত্ব খুঁজে বেড়ায় লজ্জায় মুখ লুকিয়ে৷ তবু কথা থেকে যায়, ‘মানুষের জন্য মানুষ’ এর দৃষ্টান্ত আজো বিদ্যমান পৃথীবির দিকে দিকে৷ সে জন্যই টিকে আছে আজকের এই দানবে ভরা পৃথীবি৷ আজও মানব মন কাঁদে মানুষের জন্য৷ নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেয় মাজলুমের তরে৷

মানবতার মহান কাণ্ডারীর উত্তরসূরি আলেম সমাজই চরম মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন ইতিহাসের করুণ বাঁকে বাঁকে৷ এবারের রোহিঙ্গা শিবিরেও তারই ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন তারুণ্যের আইডল মুফতী হাবিবুর রহমনা মিছবাহ৷

এরাই আমাদের প্রেরণার বাতিঘর৷ এরাই আমাদের রিয়েল হিরো৷

আগের পর্বগুলো

রোহিঙ্গা শিবিরের হিরো : গাজী ইয়াকুব

রোহিঙ্গা শিবিরের হিরো : সালাহুদ্দীন মাসউদ

রোহিঙ্গা শিবিরের হিরো ৩ : দেলাওয়ার হোসাইন সাকী

রোহিঙ্গা শিবিরের হিরো ৪: মুফতি শামছুদ্দোহা আশরাফী

এ জাতীয় আরও খবর