সোমবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৭

ads

সন্ত্রাসী কারা? আমরা না ওরা?

OURISLAM24.COM
সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৭
news-image

মুফতি মুহাম্মাদ শোয়াইব

ইসলামোফোবিয়া পশ্চিমা বিশ্বের শিরা-উপশিরায় ব্লাড-ক্যান্সারের মতো প্রবাহিত হচ্ছে। বিশ্বের যে কোনো দেশে হামলা হচ্ছে, তাকে ‘জঙ্গি’, ‘সন্ত্রাসী’, ‘মৌলবাদি’ ইত্যাদি নামে পরোক্ষভাবে কুকৌশলে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিচালনা করছে। এ কাজে নিয়োজিত আছে তাদের সেবাদাস-মিডিয়া।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ হামলার মধ্য দিয়ে এ ক্যান্সারের যাত্রা শুরু। শুরুতে ব্রেইন ক্যান্সার। তারপর দেহ। এখন শিরা-উপশিরায়। এখনও তা চলছে। শেষ টানার আলামত আপাতত দেখা যাচ্ছে না।

নাইন ইলেভেনের হামলা মুসলিম জাতির ইতিহাসে এক নতুন ট্রাডেজির সূচনা। এই একটি ঘটনা বদলে দিয়েছে পুরো বিশ্ব। মুসলিমদের অভিধানে তৈরি হয়েছে নানা শব্দ। যা তাদের পীড়ন করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। তারা এখন, সন্ত্রাসী, জঙ্গী, উগ্রবাদী ও মৌলবাদী। অথচ এই ঘটনার আগে তারা এমন ছিল না।

আগুনের লেলিহান শিখা ভস্মিভূত করেছে বিশ্বের বৃহত্তর গগণচুম্বী দুটি প্রাসাদকে। কিন্তু নির্মাণ করে গেছে কলংকময় ইতিহাসের ইমারত। কারা ছিল এই ঘটনার নেপথ্যে? নিউইয়র্কের নির্মল আকাশকে কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করার উদ্দেশ্যই বা কী ছিল?

আহ! এই এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিভাবে ক্ষতবিক্ষত করল মুসলিম জাতির দেহক? কিভাবে বিশ্বের অধিকাংশ লোকের মানসপটে ধারাবাহিক হচ্ছে ঘৃণা আর নিন্দা শুধু মুসলমানদের প্রতি। আর সেই ধারাবাহিকতায় সৃষ্টি হলো সিরিয়া, মিশর, ফিলিস্তিন, আফগানিস্তান, ইরাক ও সর্বশেষ মিয়ানমারের রোহিঙ্গা।

কারও কারও ধারণা, এটা সাম্রাজ্যবাদী মার্কিনীদেরই সাবোট্যাজ। তাদেরই মস্তিষ্ক প্রসূত কুটচালের অংশ। কেউ বলেন, উগ্রবাদী মুসলমানদের সন্ত্রাসী কর্মকা-। কেউ ভাবছেন, অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় এখানেও নেপথ্যে রয়েছে ইহুদিবাদী গোষ্ঠী, যাদের টার্গেট ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও মুসলিম দেশগুলোকে চূড়ান্তভাবে মুখোমূখী দাঁড় করিয়ে দেয়া।

নাইন ইলেভেনের পর ইসলামভীতি দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে পুরো বিশ্বে। বছর কয়েক আগে প্যারিস হামলার মধ্য দিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব আরও একবার ইসলামভীতির ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়।

ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলক বিষোদগারের সংস্কৃতি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে চলেছে।

ইসলামকে সন্ত্রাস ও উগ্রবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি, দাড়ি-টুপি, হিজাব-নিকাব ও ইসলামি বিধি-বিধানের প্রতি যুবকদেরকে ভীতশ্রদ্ধ করে তোলা হচ্ছে। এখন পশ্চিমা যুবকরা তো বটেই, এমনকি মুসলিম যুবকরাও সব সমস্যা-সংকট, দুঃখ-দুন্দশা, দুর্নীতি, বিচারহীনতা, প্রশাসনিক জুলুম-নির্যাতন, হত্যা, ধর্ষণ, খুন, গুম, রাজনৈতিক ও সামাজিক সব সংকটের জন্য ইসলাম ও মুসলিমদেরকেই দায়ী করছে।

মুসলমানদের তুচ্ছ মনে করছে। পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘদিনের মিডিয়া কারসাজিতে যুবকদেরকে এই পর্যায়ে আনা সম্ভব হয়েছে। নাইন-ইলেভেনের মতো প্যারিস ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের বিচরণ সঙ্কীর্ণ করে দেওয়া হয়েছে।

এখন পশ্চিমা দেশগুলোতে কোনো ব্যক্তির মুসলমান অথবা ইসলামি ঐতিহ্যের ধারক হওয়া অপরাধ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। পশ্চিমা ও বিশ্ব মিডিয়া মুসলমানদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে প্রপাগাণ্ডা চালাচ্ছে। উগ্রপন্থী ও সন্ত্রাসী জাতি হিসেবে মুসলমানদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে ইসলামের।

পশ্চিমা সংস্কৃতির জন্য ইসলামকে সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সোস্যাল মিডিয়াতে ইসলাম ও মুসলমানদের সবচেয়ে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে। একই রকম ঘটনা মুসলমানরা ঘটালে তাদের বলা হচ্ছে জঙ্গী, উগ্রবাদী বা সন্ত্রাসী। অন্যরা করলে বলা হয় বন্দুকধারী।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মুসলমানদের ইতিহাসে বড় দুটি ঘটনা ঘটেছে। আমেরিকার টেক্সাসে ও কানাডার কুইবেক সিটিতে।

একটিতে মুসলমানদের মসজিদে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে, অন্যটিতে আগুন দেওয়া হয়েছে একটি ইসলামিক সেন্টারে। কিন্তু এই জগন্য ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তারা ছিল খৃস্টান। বিশ্ব মিডিয়া তাদের বেলায় শব্দটাকে নরম করে দিয়ে বলেছে বন্দুকধারীদের গুলিতে এত জন নিহত।

প্রিয় পাঠক! ঘটনাটা যদি ঘটাত কোনো মুসলমান তাহলে কি বিশ্ব মিডিয়া বন্দুকধারী বলত না সন্ত্রাসী বলত? শব্দের এই সামান্য পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে এক ভয়ংকর মানসিক পরিবর্তন। এটা কৌশলে মানসিকতাকে পরিবর্তন করার অপপ্রয়াস।

পাশ্চাত্যে ক্রম বর্ধমান ইসলামভীতি সম্পর্কে ওই সময় পূর্ণ ধারণা লাভ করি, যখন ইউটিউবে বিখ্যাত মার্কিন চ্যানেল সিএনএনের একটি ভিডিওতে আমি কমেন্ট করেছিলাম, ‘আমেরিকা বর্তমান বিশ্বের জন্য ক্যান্সার’। ওই কমেন্টে তিরিশের বেশি খৃস্টান জবাব দিয়েছেন। এগুলোতে ইসলামকে চরম নোংরা ও কঠিন শব্দ ব্যবহারে আঘাত করা হয়েছিল।

এই কমেন্ট চরমপন্থা ও সন্ত্রাসের চেয়েও জঘন্য আখ্যা দেওয়া হয়। কেউ কেউ এই ফাঁকেই আমাকে খৃস্টধর্মের দিকে দাওয়াতও দিয়েছেন।

আমেরিকার নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভোট ব্যাংকের জন্য ইসলামকে আরও করুণভাবে চিত্রায়ন করেছেন। বক্তৃতা-বিবৃতির মাধ্যমে ইসলামভীতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন। একের পর এক মসজিদ বন্ধ করে দেওয়া এবং মুসলমানদের সে দেশ থেকে বহিষ্কার করার হুমকি-ধমকি দিয়েছেন। তার আশপাশে চরম ইসলামবিদ্বেষীদেরকেই জায়গা করে দিচ্ছেন।

কিছু দিন আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ইনডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আকার ইঙ্গিতে ইসলামের সঙ্গে সন্ত্রাসের সম্পর্ক জুড়ে দিয়েছেন। পশ্চিমা বিশ্বসহ ইনডিয়া ও অন্যান্য দেশের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদেরাও ইসলামকে সন্ত্রাসের চশমা দিয়ে দেখতে শুরু করেছেন।

ইনডিয়ার খ্যাতনামা ইংরেজি পত্রিকা ইনডিয়ান এক্সপ্রেস-এ তাভলিন সিংও এমনই কিছু কথা বলেছেন, যার আদৌ ভিত্তি ছিল না।

২২ নভেম্বর সংখ্যায় লিখেছেন, কোরআন সন্ত্রাসের শিক্ষা দেয় এবং সন্ত্রাসের সঙ্গে মুসলমানদের স্পষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। যারা এ ধরনের কথা বলে, সন্ত্রাসকে কোনো ধর্মের সঙ্গে মেলানো যাবে না, তারা মিথ্যার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।

সত্য হলো, নাইন-ইলেভেন, প্যারিস হামলা ও অন্য সব দৃশ্যপটও একটি নাটক। এর নেপথ্য উদ্দেশ্য, মধ্যপ্রাচ্যের তেল দখল, ইসরায়েলকে শক্তিশালী এবং বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করা।

এ জন্য আজ ইতিহাসের কয়েকটি পাতা উল্টিয়ে বিশ্বকে এ কথা জানাতে চাই, আসল সন্ত্রাসী কারা? কারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা নষ্ট করছে? কোন ধর্মের অনুসারীরা উগ্রবাদ ও সহিংসতার ইতিহাস রচনা করেছে? মুসলমান না অন্যরা?

ইতিহাস বলে, ওই সব লোকই মানুষের মাথার খুলি দিয়ে মিনার নির্মাণ করেছিল, যারা আজ মুসলমানদের উগ্রপন্থী বলে অভিযুক্ত করছে। এই ফ্রান্স ১৯১২ সালে মুসলমানদের মাথা কেটে চিত্র তৈরি করেছিল এবং তা দিয়ে ডাকটিকিট জারি করেছিল।

এসব কথিত শান্তির ঠিকাদাররা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করে মুহূর্তেই লাখ লাখ নিরপরাধ মানুষকে দুনিয়ার ওপারে পাঠিয়ে দিয়েছিল। ওই সব নামসর্বস্ব চিন্তাবিদদের কেউ জিজ্ঞেস করেছেন কি?

১৮৫৭ সালের আজাদি লড়াইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর যাদের তোপের মুখে বেঁধে শূন্যে নিক্ষেপ করা হয়, ওই সব মানুষের কী অপরাধ ছিল?

খোদ ইংরেজ ঐতিহাসিকেরা এ কথা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন, দিল্লির আশপাশে এমন কোনো গাছ ছিল না, যাতে কোনো মুসলমান আলেমে দীনের লাশ তখন ঝুলানো ছিল না।

মুসলমানদের ফুটন্ত তেলের মধ্যে ফেলে কয়লা বানানো হয়েছে। শূকরের চামড়ার মধ্যে বন্দি করে তাদের ওপর কুকুর লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের কি কেউ জিজ্ঞেস করেছেন? যে অন্যায় মুলমানদের সঙ্গে তারা করেছে তাতে কি তারা সন্ত্রাসীদের আওতায় আসে কিনা?

নাৎসি ক্যাম্পে ৬০ লাখ ইহুদির ঘাতক হিটলার কে ছিলেন? রেশমি রুমাল আন্দোলনের সময় মুসলমানদের কালাপানি ও আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে বন্দি করে ভয়াবহ নির্যাতনকারী কারা ছিল?

অতীতের পাতা বন্ধ করে সাম্প্রতিক ঘটনাবলির পৃষ্ঠা উল্টান। নিকট অতীতে বসনিয়াতে শুধু খৃস্টানেরা এক সংক্ষিপ্ত সময়কালে ১৪ লাখ মুসলমানকে পাইকারিভাবে হত্যা করেছে। রাশিয়া আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে ১০ লাখ মানুষ মেরে ফেলেছে। এর চেয়ে অধিকসংখ্যক লোককে চির দিনের জন্য পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।

১৯৮২ সালে লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ১৭ হাজার ৫০০ নিরপরাধ বেসামরিক লোক শহীদ হয়েছেন।

আমেরিকা ইরাক ও আফগানিস্তানের সম্পদ পাওয়ার জন্য জোর দখল করে এ অঞ্চলের মানুষ ও মানবতাকে পিষে দিয়ে পীড়াদায়ক জুলুমের নিষ্ঠুর কাহিনি রচনা করেছে। দোষ প্রমাণ হওয়ার আগেই আফগানিস্তানকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

এক উসামা বিন লাদেন-এর খোঁজে ১২ লাখ নিরপরাধ মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। ১০ লাখের বেশি ইরাকি মুসলমানকে মেরে ফেলার পর নির্লজ্জভাবে স্বীকার করা হচ্ছে, ইরাকে হামলা বড় ধরনের ‘ভুল’ ছিল।

লিবিয়ায় হামলা করে সেখানকার প্রতিষ্ঠিত সরকারকে উৎখাত করে গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দেওয়া হয়েছে। ড্রোন হামলার নামে পাকিস্তানে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এখন একদিকে আইএসের নামে সিরিয়ায় বোমাবর্ষণ চলছে। প্রতিদিন হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশু, বুড়ো, যুবক ও মহিলাকে আইএস দমনের নামে মেরে ফেলা হচ্ছে। অপর দিকে ওপর থেকে ফ্রান্স ও রাশিয়ার বোমাবর্ষণও চলছে।

মিয়ানমারের মুসলমানদের ওপর কেয়ামতের বিভীষিকা নেমে এসেছে। দেশটির রাখাইন প্রদেশে মাজলুম রোহিঙ্গা মুসলমানের কান্নায় পৃথিবীর আকাশ-বাতাশ ভারী হয়ে উঠেছে। সাম্প্রদায়িক বৌদ্ধদের নির্মম নির্যাতনের শিকার এসব অসহায় মুসলমান প্রতিবেশী দেশেও আশ্রয় নিচ্ছে। মোট কথা দেশটির মুসলমানদের ওপর কেয়ামতের বিভীষিকা আপতিত হয়েছে।

কিন্তু মজলুম মুসলমানের আহাজারি শোনার মতো কোনো মানবাধিকার সংস্থাকে তাদের পাশে পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু মুসলমান হওয়ার অপরাধেই এই নিরপরাধ, নিরস্ত্র মুসলমানরা নির্মম নির্যাতন-নিপীড়ন ও গণহত্যার শিকার হচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে তাদের ওপর পরিচালনা করা হচ্ছে মর্মান্তিক নির্মূল অভিযান।

ফিলিসতিনে আমেরিকার মদদে ইসরায়েলের সন্ত্রাস ও সেনা আক্রমণের খবর দেখলে শরীরের সব লোম দাঁড়িয়ে যায়।

ইনডিয়ায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও সন্ত্রাসী ঘটনাগুলোর তালিকাও বেশ দীর্ঘ। সেখানে হাজার হাজার মুসলমানকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে। মুসলমানদের পারস্পরিক মতভেদকে কেন্দ্র করে যারা মুসলমানদের উগ্রবাদী বা সন্ত্রাসী আখ্যা দেয়, তাদের মনে রাখা উচিত, পশ্চিমা বিশ্ব ও ইহুদি-খৃস্টানদের কৃতকর্মের সামনে এ রকম বিচ্ছিন্ন ঘটনা সূর্যের সামনে বিন্দুস্বরূপ।

এমন ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউকে সন্ত্রাসী বলা হলে পশ্চিমাদের এ কথা মেনে নিতে হবে, বড় সন্ত্রাসী তারা নিজেরাই। একজন ব্যক্তির আদেশে তারা অগণিত মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মেরেছে। ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট সম্প্রদায়ের মাঝে, খৃস্টানদের পরস্পরের লড়াইয়ে লাখ লাখ খৃস্টান মারা গেছে।

এসব ঘটনার সঙ্গে কোনো মুসলমান সম্পৃক্ত ছিলেন না। তাদের এ লড়াই-দাঙ্গা ইসলামের নামেও হয়নি। ধর্মের নামে এ লড়াই এমন সম্প্রদায়গুলোর মাঝে হয়েছে, যারা নিজেরা নিজেদের মধ্যমপন্থা ও শান্তির পতাকাবাহী বলতে পঞ্চমুখ। ইউরোপ ও পশ্চিমা বিশ্বের উগ্রবাদ ও সহিংসতার সামান্য নমুনা উপস্থাপন করা হলো।

ইসলামের মহান শিক্ষার আলোয় মানুষ ও পশু দূরের কথা, একটি সামান্য গাছ কাটতেও সতর্ক করা হয়েছে।

ইসলামের ইতিহাসে এমন কোনো নজির নেই, মুসলমানরা অপর ধর্মের নিরপরাধ অনুসারীকে গণহত্যা করেছে। বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকা- ও উগ্রবাদের জন্য একমাত্র দায়ী মার্কিন মুল্লুক ও তার সহচরেরা। আমেরিকা ও ইসরায়েল বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই দানব-সন্ত্রাসী। যেদিন এ দুই দেশ জ্বলেপুড়ে ছাড়খার হয়ে যাবে, সে দিন পুরো বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।

নোট: প্রখ্যাত ইনডিয়ান সাংবাদিক ও কলামিস্ট শামস তাবরিজ কাসেমি’র একটি লেখা অবলম্বনে