বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

ads

কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস ব্যবহারের বিধান

OURISLAM24.COM
জুলাই ১৮, ২০১৭
news-image

জামিল আহমদ

মসজিদে হারানো জুতো: কোন ব্যক্তি মসজিদে নামাজ শেষ করে যদি তার জুতা না পায় এবং তার পরিবর্তে অন্য ব্যক্তির জুতা বক্সে পায়, তাহলে সে কি এই জুতা ব্যবহার করতে পারবে?

ইচ্ছাকৃত এরূপ জুতা পরিবর্তন করা কবিরা গুনাহ। তবে যদি নিজের জুতা না পাওয়া যায় এবং জুতা কয়েকদিন পড়ে থাকে; যা এখন ফেলে দেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকে না, তাহলে এমন জুতা পড়ার অবকাশ আছে।-ফাতাওয়ায়ে শামি : ৬/৪৪৬, বাহরুর রায়েক : ৫/২৫৬, আলমগিরি :২/২৮৯, পাতহুল কাদির : ৫/৩৪৯

গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল: কোন গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল কুড়িয়ে খাওয়া বৈধ কি?

না, গাছের নিচে পড়ে থাকা ফল মালিকের অনুমতি ছাড়া কাওয়া বৈধ হবে না। যদি অনুমতি থাকে তাহলে খাওয়া বৈধ। চাই অনুমতি প্রত্যক্ষভাবে থাকুক বা পরোক্ষভাবে।-রদ্দুল মুহতার : ৬/৪৪৪, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ৫/৩৯৩, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া মাজমাউল আনহুর : ২/২৫৬, ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া : ২৩/৩৭৯

নদীতে ভেসে আসা লাকড়ি ব্যবহার: নদীতে ভেসে আসা ফলমূল বা জ্বালানি লাকড়ি, কাঠ ইত্যাদি কুড়িয়ে ব্যবহার করা যাবে কি?

নদীতে ভেসে আসা ফলমূল বা জ্বালানি লাকড়ি, কাঠ ইত্যাদি যদি এমন ছোট হয় যার তেমন কোনো মূল্য নেই এবং মালিকও খুঁজতে আসবে না, তাহলে সেগুলো জমা করে ব্যবহার করা যাবে। এমনিভাবে ভেসে আসা ফলমূল বা জ্বালানি লাকড়ি, কাঠ ইত্যাদি যত বেশিই হোক না কেন তা আটকিয়ে ব্যবহার করা যাবে। কেননা তা আটকানো না হলে নষ্ট হয়ে যাবে।-ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৫/৩৪০

ভেসে আসা পাট ব্যবহার: বর্ষাকালে নদীতে ভেসে আসা পাটের জাগ আটকে নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারবে কি?

না, বর্ষাকালে নদীতে পাটের জাগ ভেসে আসে তাহলে তা কেউ আটকিয়ে নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। কারণ পাট মূল্যবান জিনিস এবং এটির জন্য মালিক খোঁজাখুঁজি করতে পারেন।

মূল্যবান জিনিস কুড়িয়ে পাওয়ার পর তা ব্যবহারে নিয়ম নিম্নরূপ : মূল্যবান জিনিস কুড়িয়ে পাওয়ার পর মনের সংশয় দূর হওয়া পর্যন্ত ঘোষণা করবে। এরপর যদি দৃঢ় বিশ্বাস হয় মালিক তা আর খুঁজতে আসবে না, তাহলে তা গরিবদের মাঝে সদকা করে দিবে। নিজে গরিব হলে প্রয়োজনে নিজেও ব্যবহার করতে পারবে। তবে যদি কোন সময় মালিক এসে খুঁজে তাহলে তাকে ফিরিয়ে দিতে হবে। মাল বিদ্যমান না থাকলে এর মূল্য ফেরত দিতে হবে।-ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ৬/৪৪৪, ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়া :৯/১৯৩ 

ছাত্রদের ফেলে রাখা জিনিস ব্যবহার: মাদরাসর বার্ষিক পরীক্ষার পর ছাত্ররা অনেক বস্তু হেফাজত না করে বাড়িতে চলে যায়। ঐ সমস্ত বস্তু ব্যবহার করা যাবে কি না?

ফিক্বাহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাবাদি অধ্যয়নে প্রমাণিত হয়, যে সমস্ত বস্তু কুড়িয়ে পাওয়া যায় তা দুই ধরনের হয়।

প্রথম প্রকার কুড়ানো বস্তুটি এমন, যা সাধারণত মানুষ তালাশ করে না। এটার হুকুম হলো, কুড়ানেওয়ালা ব্যবহার করতে পারবে।

দ্বিতীয় প্রকার কুড়ানো বস্তুটি এমন, যা সাধারণত মানুষ তালাশ করে। এই প্রকারের হুকুম হলো, কুড়িয়ে পেলো সে তা সংরক্ষণ করে এ পরিমাণ সময় পর্যন্ত ঘোষণা করতে হবে যে, এরপর মালিককে পাওয়ার আশা থাকে না।

যদি মালিককে না পাওয়া যায় এবং যে কুড়িয়ে পেয়েছে সে নিজে মুখাপেক্ষী হয়, তাহলে সে নিজে ব্যবহার করতে পারবে। আর সে ধনী হলে, মালিকের নামে সদকা করে দিতে হবে এবং পরতবর্তীতে মালিক এসে দাবি করলে তাকে উক্ত বস্তু ফেরত দিতে হবে।-ফাতাওয়ায়ে আলমগিরি- ২/২৯৯-৩০০, আল-মুহিতে বুরহানি- ৮/৮৬৬, ফাতাওয়ায়ে সিরাজিয়া- ২৪১

-আরআর