২০১৭-০৬-২৭

বুধবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

হিন্দু পরিষদের দাবির প্রেক্ষিতে ভারতে বন্ধ হচ্ছে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়

OURISLAM24.COM
news-image

ভারত থেকে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয় ও সংখ্যালঘু কমিশন বাতিলের দাবিতে প্রস্তাব পাস করল বিশ্ব হিন্দু পরিষদ। গতকাল (সোমবার) বিশ্ব হিন্দু পরিষদ নেতা সুরেন্দ্র জৈন সংবাদ সম্মেলনে এ সংক্রান্ত দাবির কথা প্রকাশ করেন।

গুজরাটের খেদা জেলার বডতালে ২৪/২৫ জুন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের বৈঠক শেষে এ সংক্রান্ত প্রস্তাব পাস করে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশ্যে ওই দাবি জানানো হয়েছে।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু কমিশন ও সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ মানসিকতা উৎসাহ পায়।

তাদের দাবি, নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য মানবাধিকার কমিশনই যথেষ্ট।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে সংখ্যালঘু কমিশনের মাধ্যমে এ ধরণের পরিবেশ সৃষ্টি হয় যে ভারতে মুসলিম এবং খ্রিস্টান সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতে, ‘বাস্তবে এ সকল লোকেরা কেবল হিন্দু সমাজেরই নয়, বরং বৌদ্ধ এবং শিখ সমাজের মতো অন্য সংখ্যালঘুদের উপরে নির্মম অত্যাচার করে। এজন্য জেহাদি এবং মিশনারিরা ক্ষতিগ্রস্ত নয়, এরা অতাচারী। এরা সংখ্যালঘু কমিশনের মতো সংস্থার ফায়দা নিয়ে নিজেদের জন্য সহানুভূতি অর্জন করে থাকে। এভাবে তারা হিন্দুবিরোধী এবং দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র মসৃণভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।’

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের প্রস্তাবে সংসদে অবিলম্বে আইন তৈরি করে রাম মন্দির নির্মাণের লক্ষ্যে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

দক্ষিণপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ১৯৬২ সালের ১৯ আগস্ট তৈরি হয়। আরএসএসের তৎকালীন প্রধান এম এস গোলওয়ালকর, শিবরাম শঙ্কর আপ্তে এবং স্বামী চিন্ময়ানন্দ এটি তৈরি করেন। ৬০ লাখেরও বেশি সদস্য রয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি।

তাদের যুব শাখা ‘বজরং দল’ এবং নারী শাখা ‘দুর্গা বাহিনী’ বিভিন্ন কাজকর্মে এবং বিবৃতিতে প্রায়ই বিতর্কের মধ্যে থাকে।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদের হুঁশিয়ারি, গরুর গোশতের পার্টি বা গরু জবাইকারীরা গো-রক্ষক হিন্দু সমাজের বিশ্বাসকে অপমানিত করছে। এ ধরনের ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণে হিন্দু সমাজের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ওই সব অংশকে অবশ্যই এর পরিণাম ভোগ করতে হবে।

এদিকে, বিজেপি এমপি সাক্ষী মহারাজ গতকাল (সোমবার) গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আগামী নভেম্বরে কর্নাটকের উডুপিতে ‘ধর্ম সংসদ’ অনুষ্ঠিত হবে‘। ওই সংসদে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সাধু-সন্তরা যোগ দেবেন। সেখানেই মন্দির নির্মাণের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হবে।

‘মন্দির নির্মাণ নিয়ে এটাই শেষ কথা এবং পৃথিবীর কোনো শক্তিই তা থামাতে পারবে না’ বলেও সাক্ষী মহারাজ সাফ জানিয়েছেন।

সূত্র: পার্সটুডে