সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৭ রবিউস সানি ১৪৪৮


ঈদের সময় বাবা আমাদের সব যন্ত্রণা সহ্য করতেন

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

জাতির আধ্যাত্মিক রাহবার উলামায়ে কেরামকে আমরা শুধু একজন দাঈ হিসেবেই চিনি। তাদের বিস্তৃত জীবনের বাইরের অংশটুকুই আমরা জানি। কিন্তু একজন বাবা হিসেবেও তারা যে ছিলেন অতুলনীয় এবং পরিবার গঠনেও যে তারা আমাদের আদর্শ হতে পারেন তা হয়তো কখনো ভেবে দেখিনি। আমাদের ভাবনার আড়ালে থাকা সেসব শ্রেষ্ঠ বাবাদের পাঠকের সামনে তুলে ধরছে ourislam24.com।

ধারাবাহিক স্মৃতিচারণের ষষ্ট পর্বে থাকছেন সাবেক বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের জমিদার, মাসিক মদীনা’র সম্পাদক, সীরাত গবেষক মাওলানা মুহীউদ্দীন খান। প্রিয় বাবাকে নিয়ে আওয়ার ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন তারই ছেলে মাসিক মদীনার বর্তমান সম্পাদক আহমদ বদরুদ্দিন খান।

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন, আতাউর রহমান খসরু ।

আমার বাবা মাওলানা মুহিউদ্দীন খান। তার কাজের ক্ষেত্র ছিলো অনেক বিস্তৃত। তিনি অনেকগুলো সেক্টরে কাজ করতেন। তারপরও তিনি আমাদের নিয়মিত সময় দিতেন। আমরা তাকে সকালে ও রাতে খাবার টেবিলে পেতাম। তিনি আমাদের নিয়ে এক সাথে খেতেন। কেউ যদি খেতে নাও চাইতো, তবুও তাকে ডেকে পাশে বসিয়ে রাখতেন। এ দুই সময় তিনি পরিবারের সব সদস্যকে পাশে পেতে চাইতেন। তিনি খেয়াল করতেন সবাইকে। কারো যদি শরীর খারাপ থাকতো, মন খারাপ থাকতো তিনি চেহারা দেখে বুঝতে পারতেন এবং আলাদাভাবে কাছে ডেকে কারণ জানতে চাইতেন।

বাবা আমাদের পরিবারের সবচেয়ে দরদি অভিভাবক ছিলেন। আমি নিজে অনেক সময় আব্বার সঙ্গে কোথাও যেতে ইচ্ছে না করলে বলতাম আমার শরীর ভালো নেই। তখন আব্বা বলতেন, তোমার কাজে যাওয়া লাগবে না। আমার পাশে বস। তিনি পাশে বসিয়ে আমার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেখতেন। আমাদের প্রতি তার আদরটাই প্রবল ছিলো। এমনকি আমাদের বাচ্চাগুলোর স্কুলে অভিভাবক হিসেবে আমাদের পরিবর্তে তিনি নিজের নাম ব্যবহার করতেন।

শুধু আমি না পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের খোঁজ খবর তিনি আলাদা করে রাখতেন। কেউ কোনো বিপদে পড়লে, কারো অসুখ হলে তার মতো উদ্বিগ্ন হতে আমি আর কাউকে দেখি নি।

বাবা গত বছর রমজানে ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর পর আমরা অনুভব করি, তার প্রতি পরিবারের কারো কোনো অভিযোগ নেই; বরং তার শূন্যতা সবাই অনুভব করে। এমনকি আমাদের সন্তান যারা আছে তারা এখনো দাদার কথা মনে করে কাঁদে। বলে দাদার মতো কেউ আমাদের আদর করে না। কেউ তার মতো আমাদেরকে জোর করে খাওয়াবে না।

পরিবারে আব্বা খুবই স্বাভাবিক একজন মানুষ ছিলেন। হাসি-কৌতুকও করতেন। কারো মন খারাপ দেখলে তিনি এমন কিছু বলতেন যাতে তার মন ভালো হয়ে যায়। হাসতো। নাতি-পুতির কাছে তিনি খà§