সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
রিয়াদে হামলায় নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের শোক-প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হিরার সাফল্যে বিএনপির অভিনন্দন ‘পবিত্র ভূমিতে হামলা মুসলিম উম্মাহর জন্য গভীর উদ্বেগের’ আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন পরিদর্শনে জামিয়া ইমদাদিয়ার শায়খুল হাদিস চাঁদ দেখা যায়নি, জমাদিউল আউয়াল মাস শুরু মঙ্গলবার বরাদ্দকৃত অর্থের প্রতিটি পয়সা দেশ ও জনগণের স্বার্থে ব্যয় করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী গণরায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: আমিরে মজলিস ‘হে কাবার মালিক! মক্কা-মদিনাকে হেফাজত করো’ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় প্রাণহানি, জমিয়তের শোক ও নিন্দা মালয়েশিয়ায় কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হাফেজ হিরাকে সংবর্ধনা দেবে সরকার

ঈদ না ইদ : একটি অপরাজিত লড়াকু বর্ণের ভালোবাসা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর 
কবি ও কলামিস্ট

প্রথমেই বলে নিই, ঐতিহ্যগতভাবে আমি ঈদ-এর পক্ষে। নৈতিক দিক থেকে ঈদ বা ইদ— কোনোটাতেই আমার আপত্তি নেই। তবে ভাষা নিয়ে উল্টো পথের যাত্রী হওয়াটাকে আমি কিছুটা নাপছন্দ করি।

মূল কথায় প্রবেশ করি। মোক্ষম প্রশ্ন যেটা হতে পারে— ঈদ-এর মধ্যে যে দীর্ঘ ই-কার রয়েছে, সেটা কি সত্যিকার অর্থেই আরবি বর্ণ ‘আইন’-এর প্রতিনিধিত্ব করে? আমার যতোদূর অবজার্ভেশন, বাংলাদেশের কেউ ঈদ উচ্চারণের সময় আরবি বর্ণ ‘আইন’ উচ্চারণ করে না। আজ পর্যন্ত আমি কাউকে বলতে শুনিনি। না করারই কথা। বাংলা ভাষায় কি আইন নামের কোনো বর্ণ আছে? নাকি বাংলা বর্ণের ধ্বনিতে আইনের কোনো ব্যবহার আছে? নেই। তাহলে কেন শুধু শুধু বাংলাভাষার একটি শব্দে আরবি ফ্লেভার কামনা করছেন?

আপনি যখন আরবি পড়বেন তখন ঈদকে আচ্ছারকম মাখরাজ আদায় করে পড়ুন— হলকের শেষভাগ হইতে উচ্চারিত হয়— আইন - হা...। যখন ‘আসসালামু আলায়কুম’ বলবেন তখন আইন উচ্চারণ করে বলুন। কেননা এটা পুরোটাই একটি আরবি বাক্য। আরবি বাক্যকে আরবির মতো করেই বলুন। ‘রহমাতুল্লাহি আলায়হি’তে আইন উচ্চারণ করুন। কে আপনাকে বাধা দেবে? কিন্তু আপনি যদি বলেন— ‘আলেম’ বলার সময় গলা খিঁচে ধরে নিচের দিকে টানতে হবে, সেটা তো বাংলাভাষার বিকৃতিসাধন ছাড়া আর কিছুই নয়। আরবি ‘আলেম’ শব্দ বাংলাভাষায় প্রচলিত হয়ে গেছে। অভিধানে তার স্থান দৃঢ় করে নিয়েছে। সুতরাং এক ভাষার মধ্যে আরেক ভাষার ব্যকরণ ব্যবহারের গুরুচণ্ডালি কায়দা কানুন আপনাকে হাসির পাত্র বানাবে কেবল।

ভাষার ব্যাপারে একটি মূলকথা জেনে রাখা প্রয়োজন:
অন্য ভাষার কোনো শব্দ যখন আপনার ভাষায় প্রচলিত হয়ে পড়ে, তখন সেটাকে আপনার ভাষার ব্যকরণ মেনেই ভাষার ভেতরবাড়িতে ঢুকতে হয়। তখন আর সেটা তার সত্ত্বাগত ভাষার ব্যকরণকে অনুসরণ করার অধিকার রাখে না। তাই যদি না হতো তবে আমাদের বলতে হতো— ঈদুন মুবারাকুন! কিন্তু আমরা বলি ঈদ মুবারক। এখানে আরবি কোনো ব্যকরণ মানা হয়নি, মানা হয়েছে বাংলা ব্যকরণ। যেমন আমরা বলি— শুভ বিবাহ, শুভ হালখাতা...!

একবার চিন্তা করেন, ঈদ যদি ঈ দিয়ে লেখার গোঁ ধরে থাকেন তাহলে ‘আবদুল্লাহ’ লেখার সময় কী করবেন? আ-এর তো কোনো আইন ভার্সন নেই। আবার ‘আল্লাহ’ও লেখা হয় আ দিয়েই। অথচ আরবিতে এটা হামজা দিয়ে লেখা হয়। আইন আর হামজা এক আ-এর মাঝে একাকার হয়ে যেতে পারলে ঈদ কেন ই-এর মাঝে বিলীন হতে পারবে না?

ধরলাম বাংলা ভাষায় ঈদকে ‘ইদ’ বলতে আপনি নারাজ, কারণ সেটি মূল আরবির সঠিক প্রতিনিধিত্ব করে না। তাহলে যারা ইংরেজি ভাষাভাষ