বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

ads

সুন্নাত এর অনুসরণ করা ব্যতিত জান্নাতে যাওয়া অসম্ভব

OURISLAM24.COM
জুন ১৯, ২০১৭
news-image

মুনশি মহাম্মাদ আবু দারদা যশোরী
শিক্ষার্থী, দারুল উলুম দেওবন্দ, ভারত

আল্লাহ তা’য়ালা পৃথিবীতে অনেক মাখলুক সৃষ্টি করেছেন,তার মধ্যে সবচেয়ে প্রিয় হিসেবে  পছন্দ করেছেন মানুষ জাতিকে এবং তাদের জীবন চালানোর জন্য সুন্দর একটি নিয়ম-নীতি- শরীয়ত নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর এই শরীয়তের পথ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য পৃথিবীতে হাজারো নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন। তার মধ্যে সব থেকে প্রিয় এবং আখেরি নবী হিসেবে রহমাতুল্লিল আলামিন হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে পাঠিয়েছেন৷

কোরঅান ও হাদিস শরীফে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনেক আজমত এবং সম্মানের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে যে কথাটি সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হলো আল্লাহ তায়ালার ইরশাদ-যে রাসুলের অনুসরণ করলো আসলে সে যেন আমারই অনুসরণ করলো৷

عن ابي هريرة قال قال رسول الله صلي الله عليه وسلم من اطاعني فقد اطاع الله ومن عصاني فقد عصي الله
অর্থ- হযরত আবু হুরাইরা (রা:) থেকে বর্ণিত যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করলো সে যেন আল্লাহরই আনুগত্য করলো আর যে আমার নাফরমানি করলো সত্যিকারে সে যেন আল্লাহরই নাফরমানি করলো৷

হাদিসের সারমর্ম :
হাদিস শরীফের উদ্দেশ্য হলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ থেকে দূত হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে! সুতারাং আল্লাহ তা’য়ালার আনুগত্য করার বিষয়টি রাসুল স. এর সুন্নাতের উপর অনুসরণ করার উপর নির্ভর!

প্রথম যে ব্যক্তি সুন্নাতের উপর আমল করে এবং সুন্নাত অনুযায়ী নিজের জীবন পরিচালনা করে! এমনকি প্রত্যেক বিষয়ে প্রত্যেক কাজে আমার সুন্নাতের প্রতি খেয়াল রেখে চলে সত্যিকারে এসমস্ত ব্যক্তিই আল্লাহ তা’য়ালার প্রকৃত বান্দা এবং আনুগত্যশীল হিসেবে প্রমাণিত হয়।

দ্বিতীয়ত যে ব্যক্তি রাসুলের স. সুন্নাত থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছে, সুন্নাত অনুযায়ী চলে না  এবং সুন্নাতকে নিজের জীবন চালানোর পাথেয় বানায় না, এমনকি রাসুলে স. বিরুদ্ধাচরণ করে! সত্যিকারে সে যেন আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করলো!

বুখারি শরীফের হাদিসে হযরত আবু হুরাইরা (রা:) থেকে আরো স্পষ্ট ভাবে বর্ণিত আছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন –
قال رسول الله صلي الله عليه وسلم كل امة يدخلون الجنة الا من ابي قالوا من أبي يا رسول الله صلى الله عليه وسلم ؟ قال من اطاعني دخل الجنة ومن عصاني فقد ابي.

অর্থ: জনাবে রাসুলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত,  আমার সমস্ত উম্মত জান্নাতে যাবে কিন্তু যে উম্মত অস্বীকার করলো সে ব্যতিত। হযরত সাহাবা কেরাম (রা:) প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল কারা অস্বীকার করল? এরপরে রাসুল বললেন -যে আমার সুন্নাতের অনুসরণ করল সে জান্নাতে যাবে। এবং যে সুন্নাতে অনুসরণ করলো না সে অস্বীকার করলো।

অারো এক হাদিস কোরআনের আয়াত থেকে নেওয়া হয়ছে!
و من يطع الرسول فقد اطاع الله و من تولي بعد ذلك فما ارسلناك عليهم حفيظا
অর্থ: যে ব্যক্তি রাসুলের অনুস্বরণ করলো সে আল্লাহর অনুসরণ করলো! এবং যারা রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অনুসরণ করা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলো। তো আমি আল্লাহ রাসুল কে মানুষের নেগরান বানাইয়া পাঠাইনি যে যবরদস্তি করে তাদেরকে আমল করাবেন।

وما انت عليهم بمصيطر
হে রাসুল আপনাকে মানুষের রাখাল বানাইয়া প্রেরণ করা হয়নি যে যবরদস্তির সাথে তাদেরকে আমল করাবেন! আপনার কাজ শুধু তাদেরকে শরীয়াতের হুকুম আহকাম জানিয়ে দেওয়া আমল করা আর না করা তাদের ব্যাপার। আপনার চিন্তিত হওয়ার কোন কারণ নাই৷

হাদিস শরীফের সারমর্ম হলো যে ব্যক্তি রাসুলের অনুসরণ করলো সে আল্লাহর অনুসরণ করলো যে আল্লাহর অনুসরণ করলো সে জান্নাত কামাই করলো!  আর যে রাসুলের সুন্নাতের অস্বীকার করলো সে যেনো আমাকে অস্বীকার করলো আর যে আমাকে অস্বীকার করলো সে যেনো জাহান্নাম কামাই করলো৷

এসএস/