মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ ।। ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৬-২৭ সালের অনুমোদিত ১২৮ ওমরাহ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ ​মুরাদনগরের ইউএনও সারওয়ার রাব্বী গুরুতর অসুস্থ: জমিয়তের দোয়ার আহ্বান জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ক্যাম্পাসে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান ছাত্র জমিয়তের স্মৃতির পাতায় ৫ আগস্ট ও নতুন স্বাধীনতার ভোর গুমের তদন্ত পুলিশের হাতে থাকলে ন্যায়বিচার মিলবে না: গাজী আতাউর রহমান জমিয়তের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে আমেলার শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত ছাত্রদল-শিবিরের হামলার নিন্দা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট বিভাগ দিয়ে শুরু হচ্ছে বেফাক বোর্ডের মাদরাসা পরিদর্শন বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সৌদি শুক্রবার আফতাবনগরের খতমে নবুওয়াত কনফারেন্সে বয়ান করবেন দেওবন্দের মুহতামিম

দেওবন্দের দ্বিতীয় মুহতামিম মাওলানা রফি উদ্দিন রহ.

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুহাম্মদ নাজমুল ইসলাম

মাওলানা রফি উদ্দিন রহ.। দারুল উলুম দেওবন্দের চার প্রতিষ্ঠাতার একজন এবং দারুল উলুম দেওবন্দ-এর দ্বিতীয় মুহতামি। মাওলানা শাহ আব্দুল গনি মুজাদ্দিদি রহ.-এর খলিফা অন্যতম এক খলিফা। ছিলেন খুব মুত্তাকী ও পরহেজগার।

হজরত রফি উদ্দিন রহ. ১৪৫২ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। ছিলেন উসমানি বংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। তার পিতার নাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন উসমানি দেওবন্দি রহ.। তার পিতাও শীর্ষ এক বরেণ্য আলেম ছিলেন। মাওলানা রফি উদ্দিন রহ. ছিলেন অনেক বড় এক হাকিম। সহজেই বেজাল ধরতে পারতেন।

একদিনের ঘটনা
হজরত মাওলানা রফী উদ্দীন রাহ. মুহতামিম থাকাবস্থায় একটা বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে। একবার এক ছাত্র মাদরাসার বোর্ডিং থেকে খাবার উঠিয়ে খানার পাত্রটি নিয়ে সোজা চলে আসে মাওলানার রফী উদ্দীন সাহেব’র কাছে। এসে বলতে শুরু করে এই শুরবা কি খাওয়ার জন্য বানানো হয়েছে? নাকি ওজু করার জন্য। এটা তো একদম খাবারের উপযোগীই নয়। শুধুই তো টাটকা পানি দেখা যাচ্ছে। এর দ্বারা তো ওজু করা যাবে!

তার এ অভিযোগ শোনার পর রফি উদ্দীন খুব দূরদৃষ্টি দিয়ে তার চেহারার দিকে অপলক কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলেন। তারপর বললেন, এই ব্যক্তি সত্যিকারার্থে দারুল উলূম দেওবন্দে’র রেজিস্টারভুক্ত ছাত্র না।

এরকম কথা শুনে উপস্থিত সবাই চমকে গেলো। আসলে বিষয়টা কী! হজরত কেমনে একটা ছেলেকে বিশ্বাসের সাথে মাদরাসার ছাত্রই-না বলে অস্বীকার করে বসলেন। কারণ কী?

সবাই কিছুটা উত্তেজিত হয়ে মাদরাসার রেজিস্টারবুকে তার নাম খুঁজাখুঁজি শুরু করলো। কিন্তু সত্যিকারই দেখা গেলো সে দারুল উলূমের ছাত্র না। ধোঁকাবাজি করে বোর্ডিং লিস্টে নিজের নাম লিখিয়ে খাবার খাচ্ছে।

এবার সব ছাত্র উস্তাদের কাছে এর রহস্য জানতে চাইলেন, কেমনে আপনি একদম বিশ্বাসের সাথে বললেন ও দারুল উলূমের ছাত্রই না।

তখন রফি উদ্দীন বললেন, আমি যে স্বপ্নে দেখেছিলাম হুজুর সা. নিজ হাতে দুধ বিতরণ করছেন আর ছাত্ররা নিজ পাত্র দিয়ে দুধ সংগ্রহ করছে। আলহামদুলিল্লাহ! সেদিন যারাই দুধ সংগ্রহ করেছে সবার চেহারাই আমার কাছে পরিচিতি। এমনকি যারাই দারুল উলূমে ভর্তি হয় সঙ্গে সঙ্গেই আমি তাদের চেহারাগুলি চিনে ফেলি। কিন্তু খানা সম্পর্কে ওর অভিযোগ করার পর আমি যখন গভীর দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকালাম মনে হলো তাকে তো সেদিন আমি রাসূল সা.’র হাত থেকে দুধ সংগ্রহ করতে দেখি নি। সুতরাং ও দারুল উলূমের ছাত্র না।

এজন্যই আমি পূর্ণ বিশ্বাসের সাথেই বলেছিলাম, সে প্রকৃতপক্ষে দারুল উলূমের রেজিস্টারভুক্ত ছাত্র না।

এছাড়াও আরো অনেক ঘটনা ও কারামত রয়েছে। যেগুলো থেকে আমরা অনেক খোরাক সংগ্রহ করতে পারি।

লেখক: শিক্ষার্থী, দারুল উলুম দেওবন্দ

১. মাওলনা কাসিম নানুতবি রহ.


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ