বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

ads

ইসলামিক খবরে ভরসার স্থান আওয়ার ইসলাম

OURISLAM24.COM
জুন ১৪, ২০১৭
news-image

মাওলানা মুফতি মাহমুদ হাসান

সংবাদ মাধ্যম জাতির চিন্তার খোরাক। একটি সভ্যতার আলোকবর্তিকা। পথ নির্দেশক। সংবাদমাধ্যম পারে একটি জাতিকে উন্নত শিখরে পৌঁছে দিতে। আবার এই সংবাদ মাধ্যমই পারে একটি জাতিকে পশ্চাৎপদ ও নিম্নমুখী করতে।

আজকের দিনে সংবাদ মাধ্যমের শক্তি কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে আমরা বোধ হয় তা ধারণাও করতে পারি না, তবে কোনো কোনো সময় হয়তো সেটা টের পাই তার চূড়ান্ত দায়িত্বহীন অপদার্থতা দেখে। কিন্তু এই মিডিয়াই কি পারে না গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে দেশ তথা দেশবাসীকে নতুন দিশা দেখাতে?

সংবাদ মাধ্যমের চরিত্র আজ অনেকটাই বদলে গেছে। এক সময় তারা ক্ষমতাবান শ্রেণির ওপর নজরদারি চালাত। তারপর ধীরে ধীরে তারা হয়ে ওঠে সেই শ্রেণির অনুগত, আর এখন দেখা যাচ্ছে এরা তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার খেলায় মেতেছে। শুধু তাই নয়, মিডিয়া এখন পুরোপুরি সেক্যুলার ভাবাপন্নদের হাতে। এর যথেষ্ট কারণও আছে। পুঁজিবাদী সভ্যতায় অঢেল সম্পদের মালিক হন সক্যুলারপন্থীরা। আর বর্তমান বিশ্বে ক্ষমতা চর্চা করেনও সেক্যুলারপন্থীরা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মিডিয়া তৈরিতে বিপুল পূঁজি খাটানো ও অনুমোদন পাওয়া কেবল সেক্যুলারদের দ্বারাই সম্ভব হচ্ছে।

বর্তমান মিডিয়া যুগে বেশ সাফল্য পেয়েছে অনলাইন মিডিয়া। নাগরিকদের স্বল্প খরচে দ্রুত সময়ের মধ্যে পৃথিবীর নানান প্রান্তে ঘটে যাওয়া সংবাদ জানানো যাচ্ছে এই ভার্চুয়াল মিডিয়ার মাধ্যমে।

বাংলাদেশ অনুন্নত ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হওয়ায় এ দেশে মিডিয়ার চাহিদা ব্যপাক। মানুষ প্রতিনিয়ত জানতে চায় দেশ ও জনতাকে। মানুষ খোঁজ নেয় তার অধিকারের। মানুষ সমুন্নত রাখতে চায় তার ধর্ম বিশ্বাসকে। কিন্তু ঐতিহাসিক ও দুর্ভাগ্যজনক কারণে আজ সব মিডিয়া এমন এক শ্রেণির হাতে বন্দি, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে না। তারা সেক্যুলারিজমে বিশ্বাসী। ফলে এ সকল মিডিয়া দ্বারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত উপেক্ষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনকি, এই স্বল্প সংখ্যক সেক্যুলার বুদ্ধিজীবীর মতামত অত্যন্ত সুক্ষ্মভাবে নির্মম কায়দায় চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে বিপুল সংখ্যক জনগণের মাঝে। মিডিয়া পাড়ার সেক্যুলার সম্প্রদায়ের মতান্ধতা ও নিজ দর্শনে একগুঁয়েমীর কারণে সমাজে প্রতক্ষ্যভাবে দুটি শ্রেণি এখন মুখোমুখি।

মিডিয়া কেন্দ্রিক এ দলাদলি ও জাতীয় পর্যায়ে বিভেদ সৃষ্টির এহেন মুহূর্তে গত বছরের পহেলা রমজান ৮ জুন ২০১৬ আত্মপ্রকাশ করে আওয়ার ইসলাম নামের একটি অনলাইন মিডিয়া। সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ জনতার মাঝে সত্য ও ন্যায়ের প্রদীপ জ্বালাতে স্বগর্বে আবির্ভূত হয় ourislam24.com । বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষ যখন সেক্যুলারপন্থী সংবাদ ও তার বিশ্লেষণে মর্মাহত, ক্ষুব্ধ। মানুষ যখন চাপিয়ে দেওয়া মতবাদ ও ইসলাম বিরোধী কর্মযজ্ঞে অতিষ্ঠ, ঠিক তখনই সমহিমায় আবির্ভূত হয় আওয়ার ইসলাম। উদার চিন্তাধারা ও নৈতিক মর্যাদা ঠিক রেখে যখন আওয়ার ইসলাম সংবাদ সংগ্রহ ও প্রচার শুরু করে, তখন শুধু ৯০ ভাগ মুসলমান নয়, এ দেশের সংখ্যালঘুদের মাঝেও প্রভাব বিস্তার ঘটাতে শুরু করে আওয়ার ইসলাম। যা আওয়ার ইসলামের পেজের লাইক, কমেন্ট দেখে প্রতীয়মান হওয়া যাচ্ছে। সবার সংবাদ জানার অধিকার সুরক্ষিত করছে এ অনলাইনটি।

আওয়ার ইসলাম উলামায়ে কেরামের পরামর্শে পরিচালিত

আস্থার প্রতীক হিসেবে এরই মধ্যে খ্যাতি পেয়েছে আওয়ার ইসলাম। যে সংবাদগুলোর হাত পা ছিল বাঁধা, যে সংবাদগুলোকে একেবারেই এড়িয়ে চলত সেক্যুলার মিডিয়া, এমনকি যে সংবাদগুলোকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হত, সেই সংবাদগুলোই অতি নিখাঁদভাবে সর্বোচ্চ বিশ্বাসযোগ্যভাবে উপস্থাপন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে আওয়ার ইসলাম। সারা দেশে অসংখ্য আমানতদার মিডিয়াকর্মীদের থেকে সংগৃহীত সংবাদগুলো নিষ্ঠার সাথে ছড়িয়ে দিচ্ছে আওয়ার ইসলাম। এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠের আবেগ-অনভূতি, বিশ্বাস, চেতনা, ভবিষ্যৎ মাথায় রেখে কোনো প্রভাবশালীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে সংবাদ ও তার সমসাময়িক বিশ্লেষণে এরই মধ্যে সুখ্যাতি পেয়েছে এ অনলাইন সংবাদ মাধ্যমটি। ফলে প্রতি মুহূর্তে লক্ষ লক্ষ পাঠক, সুভাকাঙ্ক্ষি থেকে পাচ্ছে ব্যাপক সমর্থন ও অনুপ্রেরণা।

যেখানে বাংলাদেশের কথিত নিরপেক্ষ মিডিয়াগুলোর এড়িয়ে যাওয়া ইসলামি পাড়ার অসংখ্য সংবাদ উপেক্ষা করছে, সে সংবাদগুলোই মুহূর্তের মধ্যেই উঠিয়ে আনছে আওয়ার ইসলাম। ফলে অবহেলিত ইসলামি সমাজ বিশেষ করে বিশাল জনগোষ্ঠীর কওমী অঙ্গন এখন অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে। যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমাজ আগে সত্য ও ন্যায় ভ্রষ্ট সংবাদে শুলিবিদ্ধ হচ্ছিল, যে সমাজ সেক্যুলার শ্রেণির ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডে অন্ধকারে ছিল। সে সমাজ এখন মুহূর্তেই পেয়ে যাচ্ছে ‘মতলবিদের’ ষড়যন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্য তথ্য।

আওয়ার ইসলামের তথ্য নির্ভর সংবাদে প্রতিনিয়ত হোঁচট খাচ্ছে ইসলামবিদ্বেষীরা। আবার স্বল্প সময়ে এর সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হতে দেখা যাচ্ছে ঘরের মানুষকেউ।

আমাদের কাছে এই বিষয়টি দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট, আওয়ার ইসলাম এর জাগ্রত সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে লক্ষ কোটি মানুষ পেয়েছে প্রাণের সঞ্চার। খুঁজে পেয়েছে নিজস্ব চেতনার বাতি। এগিয়ে যাক বাংলার মানুষের মুখপত্র আওয়ার ইসলাম। সঠিক পথ ও নির্দেশনা পাক ১৬ কোটি মানুষ। স্বাধীনতার স্বপক্ষে সত্য উন্মোচিত হোক। ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা সাম্য, ন্যায় বিচার, ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হোক এর মাধ্যমে। আমাদের সার্বক্ষণিক তাই কামনা। আপনাদের সঙ্গে স্বপ্ন দেখছে অযুত মানুষ।

লেখক: ভাইস প্রিন্সিপাল, ঢাকা আইডিয়াল ক্যাডেট মাদরাসা 

আওয়ার ইসলামের খেদমত স্মরণীয় হয়ে থাকবে যুগ যুগ