আবু আহমেদ
আমাদের বাড়ির সামনে একটি কওমি মাদরাসা ছিল, যেটি পরে সরকারের এমপিওভুক্ত হয়ে আধাসরকারি মাদরাসায় পরিণত হয়েছে। এখনো ওই মাদরাসাটি আছে, তবে আধাসরকারি হওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণ আগের মতো ওই মাদরাসার সঙ্গে আর একাত্মবোধ করে না।
আগে আশপাশের লোকজন ওই মাদরাসা চালানোর একটা গরজ অনুভব করত। এখন করে না। কারণ হলো, সরকারই যখন অর্থায়নের মূল দায়িত্বটি নিয়েছে তখন স্থানীয় জনগণ মনে করে এখন তো ওই মাদরাসা সরকারি নির্দেশেই চলছে, তাদের কাজ কী।
জানি না ওই মাদরাসা আগের মতো আলো ছড়ায় কি না। কারণ হলো সরকার হাত দিলে আলো ছড়ানোর কাজটি যেন ঝিমিয়ে পড়ে। যেমন করে পড়েছে আরো অন্য সরকারি মাদরাসাগুলোতে।
ওই মাদরাসা যখন কওমি ছিল তখন মাদরাসার একটা অংশে সকালে ‘মক্তব’ বসত। আমি নিজেও তিন বছর ওই মক্তবে পড়েছি।
আজ মনে হয় আমার বিদ্যা শিক্ষার মধ্যে ওই তিন বছর মক্তবে পড়াটাই আমার কাছে অধিক মূল্যবান। কারণ হলো, ওই শিক্ষা আমাকে কোরআন পড়তে শিখিয়েছে; ওই শিক্ষা আমাকে আমার সৃষ্টিকর্তাকে সিজদা করতে শিখিয়েছে।
মক্তব বসত সকাল ৭টায়, আমরা সকালে উঠে মক্তবের দিকে ছুটে যেতাম, ছুটি হতো সকাল ৯টায়। বাড়ি ফিরে গোসল করে কিছু খেয়ে সকাল ১০টায় ওই মাদরাসাসংলগ্ন সরকারি প্রাইমারি স্কুলে যেতাম। তাতে আমাদের জীবনে একটা নিয়ম-শৃঙ্খলা এসে গিয়েছিল।
একপর্যায়ে শুধুই প্রাইমারি স্কুলে যেতে লাগলাম, তারপর হাই স্কুলে, তারপর কলেজে। হাই স্কুল-কলেজে পড়তে কিছু অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। কিন্তু মক্তবের পড়াটা পূর্ণভাবে বিনা পয়সায়।
মক্তবের হুজুররা (শিক্ষকরা) দেওবন্দফেরত, তাঁরা দিনি কাজের অংশ হিসেবে বিনা অর্থে মক্তবে পড়াতেন। মৌসুমে তাঁদের কেউ সামান্য ধান দিয়ে সাহায্য করলে করত। আজ শুনি, প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা নাকি অর্থের জন্য কোচিং করান। কিন্তু সেই কালচার সেই সময় (১৯৫৭-৬০) ছিল না।
প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকরা সরকার থেকে সামান্য বেতন পেতেন। ওই নিয়েই তাঁরা সন্তুষ্ট ছিলেন। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খোঁজ নিতেন তাঁদের ছাত্ররা পড়ছে কি না। বৃত্তি পরীক্ষার জন্য ছাত্রদের প্রস্তুত করানোর জন্য কিছু স্পেশাল ক্লাস করানো হতো।
তবে বিনা পারিশ্রমিকে। ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে একটা শ্রদ্ধাবোধ ছিল। ছাত্রদের বাবারাও শিক্ষকদের অনেক সম্মান করতেন। সেই শিক্ষকদের থেকে আদর্শ শেখা যেত। যতটা তাঁরা জানতেন উজাড় করে ছাত্রদের দিতেন।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা শুরু থেকেই বিভিন্ন ধারায় চলে আসছে। ইংলিশ সাহেবরা ইংলিশ স্কুল স্থাপন করেছেন। পুরনো হাই স্কুলগুলো আগে হাই ইংলিশ স্কুল নামে পরিচিত ছিল। আবার তাঁদেরই সহায়তায় এক ধরনের ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে, সেসব শিক্