মুফতি মুহাম্মাদ রাশিদুল হক
অতিথি লেখক, আওয়ার ইসলাম
এক. মানুষে মানুষে বৈষম্য আবহমানকাল থেকেই চলে আসছে। বিভিন্ন পেশা, শ্রেণি, ভাষা, লিঙ্গ, বর্ণ নানা কারণে এই বৈষম্য। ইসলামপূর্ব যুগে শ্রমজীবী মানুষ ছিল সবচেয়ে উপেক্ষিত। অনেকটা বাজারের পণ্য হিসেবে গণ্য হতো তারা। সমাজে চালু ছিল দাসপ্রথা। হাটবাজারে গরু-ছাগলের মতো তাদেরও বেচাকেনা হতো। কাজ করার সময় তাদের পায়ে শিকল পরিয়ে দেওয়া হতো, যেন পালিয়ে যেতে না পারে। প্রাণ রক্ষা ও পরিশ্রমের উপযোগী রাখার জন্য যতটুকু খাদ্যের প্রয়োজন দাস-ভৃত্য বা শ্রমজীবী মানুষের জন্য শুধু সেই পরিমাণ খাবারের ব্যবস্থাই থাকত বর্বর সমাজে। কাজে সামান্য ভুলের অপরাধে পশুর মতো চাবুক অঘাত সইতে হতো তাদের। বাসস্থানের জন্য ভালো কোনো ব্যবস্থা করা হতো না। গোয়ালের গরু বা আস্তাবলের ঘোড়া-গাধার সাথেই হতো তাদের রাত-যাপন। অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণের অধিকারটুকুও ছিলো না মেহনতি মানুষের।
তলোয়ার ও বর্শা হাতে দাসদেরকে প্রভুর আঙিনায় লড়াই করার জন্য লাগিয়ে দেয়া হতো। খেলার চরম মুহূর্তে কোনো দাস তার ভাইকে হত্যা করলে মালিকশ্রেণি দর্শক হাততালি, অট্টহাসি ও চরম আনন্দ-উল্লাসে হত্যাকারীকে বাহবা দিতো। প্রভুরা দাসদের নির্দয়ভাবে হত্যা ও শোষণ-শাসন করার একক অধিকার লাভ করেছিলো। সব দেশে সব যুগে ছিলো একই চিত্র। প্রাচীন মিসরে তো রাজা-বাদশাহদের মৃত্যু হলে দাস-ভৃত্যদেরকে হত্য করে পিরামিডে তাদের সঙ্গী করে দেয়া হতো। মৃত্যুর পর রাজা-বাদশাহদের সেবার জন্যই প্রচলিত ছিলো এই জঘণ্য প্রথা।
দুই. অন্যদিকে ইসলামের স্বর্ণযুগ অতিবাহিত হওয়ার পর অষ্টাদশ শতকের শিল্প বিপ্লবের ফলে উৎপাদনের সব উপায়-উপকরণ পুঁজিপতিদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ে। ফলে তারা সর্বহারা মজুর জনতার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তাদের মনিবের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় এবং তাদের নিজেদের দাস মনে করতে থাকে। মৌলিক চাহিদাটুকু লাভ করার জন্য সে সমাজব্যবস্থায় শ্রমিকের কী মূল্য দিতে হয়েছে তার একটি খ-চিত্র দেখতে আসুন ফিরে যাই ১৮৮৬ ঈসাব্দের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে।
“১৮৮৬ সালের ১ মে। সর্বোচ্চ আটঘণ্টা শ্রমসহ শ্রমিকদের অন্যান্য মৌলিক দাবি আদয়ের লক্ষ্যে শ্রমিক সংগঠন এবং প্রতিবাদী শ্রমিকদের আহবানে আমেরিকাজুড়ে চলছে হরতাল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি। টানা তিনদিনের মিছিল আর বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে আমেরিকার শিকাগো শহর। ৪ মে সন্ধ্যায় হালকা বৃষ্টি উপেক্ষা করে মিছিল বের করে আন্দোলনত শ্রমিকরা। শিকাগো শহরের ‘হে’ মার্কেট চত্বরে চলতে থাক