মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮


কে ঐ শোনালো মোরে আযানের ধ্বনি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

লুৎফুর রহমান তোফায়েল

কে ঐ শোনালো মোরে আযানের ধ্বনি,
মর্মে মর্মে সেই সুর,
বাজিলো কি সুমধুৃর,
আকুল হইলো প্রাণ, নাচিলো ধ্বমনি।
কি-মধুর আযানের ধ্বনি।

ছোটবেলায় পড়া মহাকবি কায়কোবাদের অমর এই কবিতাটি আজ খুব মনে পড়ছে, কানে বাজছে। মর্মে মর্মে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে সেই সুমধুর সুর।

পৃথীবিতে দিন-রাতের ২৪ ঘণ্টায় এমন কোনো একটি মুহূর্ত নেই যে আযানের সুর ছাড়া। অর্থাৎ আহ্নিক গতির প্রভাবে যে দিন-রাত হয় এবং গোলাকার পৃথিবী আর সূর্য যখন নিজ নিজ কক্ষপথ অতিক্রম করে তখন পৃথিবীর এক প্রান্তে দিন হলে অপর প্রান্তে রাত। এমনি করে ঘুরতে থাকে সারাক্ষণ। এদিকে সূর্যের উদয়-অস্তের সাথে নামাজের সময় নির্ধারিত। এভাবে সূর্যের পরিভ্রমণের সাথে সাথে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় আবর্তিত হয় পৃথিবীতে। সে হিসেবে দেখা যায় দিনের ২৪ ঘণ্টাই অর্থাৎ প্রতিটি ক্ষণই পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রান্তে কোনো না কোনো ওয়াক্তের নামাজের আযান হচ্ছে। এছাড়া মুসলিমদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী নবজাততের জন্মের পরই তার কানে আযান দিতে হয়।

এবার একটু পরিসংখ্যানের দিকে নজর দেই- প্রতি মিনিটে পৃথিবীতে ২৫০ শিশু জন্মগ্রহণ করে। ২০১৫ সালের ৭ জুলাই প্রকাশিত জাতিসংঘের বিশ্ব জনসংখ্যা সমীক্ষা-২০১৫-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের জনসংখ্যা ৭৩০ কোটি। বর্তমানে এই সংখ্যা আরও বেশি। আর উইকিপিডিয়ার তথ্য মতে, বিশ্বে মোট জনসংখ্যার প্রায় চার ভাগের এক ভাগ মুসলমান। এখন ৭৩০ কোটি জনসংখ্যা ধরে যদি হিসাব করি তবুও বর্তমান বিশ্বে ১৮২.৫ কোটি মুসলমান (এরই মধ্যে জনসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে)। সুতরাং সহজেই বুঝা যাচ্ছে, প্রতি মিনিটে জন্ম নেওয়া ২৫০ শিশুর চার ভাগের একভাগ অর্থাৎ ৬২.৫ জনের কানে আযান দেওয়া হচ্ছে প্রতি মিনিটে। সেটা দিন-রাতের যেকেনো সময়।

উপরের দুই পরিসংখ্যান থেকে পরিষ্কার হলো, এই আযানের ধ্বনি পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে প্রতিটি মুহূর্ত ধ্বনিত-প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

গত ১৭ এপ্রিল সোমবার ভারতের বিতর্কিত গায়ক সনু নিগম টুইটারে লেখেন, ‘সৃষ্টিকর্তা সবার ভালো করুন। আমি মুসলিম না, তা-ও আমাকে আজান শুনে ঘুম থেকে উঠতে হয়। ভারতে কবে এই জোর করে চাপিয়ে দেওয়া ধর্মভার শেষ হবে।’

আরেকটি পোস্টে সনু লেখেন, ‘মুহাম্মদ সা. যখন ইসলাম তৈরি করেছিলেন, তখন তো বিদ্যুৎ ছিল না। তাহলে এডিসনের পর থেকে কেন আমাদের এই কর্কশ শব্দ সহ্য করতে হবে?’

এরপর থেকে ভারত ও বাংলাদেশে শুরু হয় ব্যাপক প্রতিবাদ। প্রতিবাদে শামিল হন ভারত ও বাংলাদেশের বিখ্যাত শিল্পীরাও। মুসলিমদের পাশাপাশি বাংলাদেশসহ ভারতীয় বেশ ক’জন হিন্দু অভিনেতা-অভিনেত্রী-শিল্পীও আযানের প্রত