বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ ।। ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ২২ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
২০২৬-২৭ সালের অনুমোদিত ১২৮ ওমরাহ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ ​মুরাদনগরের ইউএনও সারওয়ার রাব্বী গুরুতর অসুস্থ: জমিয়তের দোয়ার আহ্বান জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ক্যাম্পাসে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান ছাত্র জমিয়তের স্মৃতির পাতায় ৫ আগস্ট ও নতুন স্বাধীনতার ভোর গুমের তদন্ত পুলিশের হাতে থাকলে ন্যায়বিচার মিলবে না: গাজী আতাউর রহমান জমিয়তের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মজলিসে আমেলার শেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত ছাত্রদল-শিবিরের হামলার নিন্দা ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের সিলেট বিভাগ দিয়ে শুরু হচ্ছে বেফাক বোর্ডের মাদরাসা পরিদর্শন বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় সৌদি শুক্রবার আফতাবনগরের খতমে নবুওয়াত কনফারেন্সে বয়ান করবেন দেওবন্দের মুহতামিম

বেনাপোল সীমান্ত চেকপোস্টে ছেলের শোকে মারা গেলেন বাবা!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া একমাত্র ছেলের মরদেহ ভারত থেকে নিয়ে আসার সময় শোকে মারা গেলেন বাবাও। তাও আবার ভারতের মাটিতেই ।

সোমবার সন্ধ্যায় পেট্রাপোল সীমান্ত চেকপোস্টে! হৃদয়বিদারক এ ঘটনাটি ঘটেছে । মঙ্গলবার সকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছেলের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর শেষে বাবার মরদেহ হস্তান্তরে আইনি প্রক্রিয়া চলছিল।

বেনাপোল সীমান্তে স্বজনদের করুণ আহাজারিতে বেদনার্ত হয়েছেন উৎসুক মানুষরাও। হতভাগ্য বাবা রফিক ছিলেন গাজীপুর মহানগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দবাড়ির বাসিন্দা। ছেলে আসাদ (১৪) ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল। বেনাপোল চেকপোস্টের নো-ম্যান্‌সল্যান্ডে বাবা-ছেলের মরদেহ নিতে আসা মৃত রফিকের চাচা খন্দকার আলী জানান কষ্টের এ গল্প। তিনি জানান, একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে দেশেই আপ্রাণ চেষ্টা করছিলেন বাবা রফিক। সব জমিজমা বিক্রি করে ডাক্তারের পরামর্শমতো ৪ মাস ধরে ছেলের চিকিৎসার পেছনে অর্থ খরচ করেছেন।

ডাক্তারও আশ্বস্ত করে আসছিলেন, ছেলে আসাদ সুস্থ হয়ে উঠবে। কিন্তু দিন দিন ছেলের শারীরিক অবস্থা উন্নতির বদলে খারাপের দিকে যাওয়ায় বাবার মন ভালো বলছিল না। তাই তিনি আত্মীয়র পরামর্শে ছেলেকে উন্নত চিকিৎসা করাতে গত ১৪ এপ্রিল ছোটেন ভারতে। কিন্তু সেখানেও কোনো কাজ হয়নি। ভারতের ডাক্তার বলে দেন, ছেলের যে হাল করে এনেছেন, তাতে বাঁচানোর কোনো সুযোগ নেই। অযথা টাকা খরচ না করে বাড়িতে ফেরত নিয়ে যান। ছেলের নিশ্চিত মৃত্যু জেনে ১৭ এপ্রিল তাকে নিয়ে সোমবার বাড়িতে ফিরছিলেন বাবা রফিক। এরই মধ্যে হঠাৎ বেশি অসুস্থ হয়ে পথিমধ্যে মারা যায় ছেলে আসাদ।

আবার কলকাতা ফিরে গিয়ে সরকারি নিয়ম অনুসারে পাসপোর্টের কাজ শেষ করে ছেলের মরদেহ নিয়ে ফিরছিলেন। সন্ধ্যায় বাংলাদেশে ঢোকার আগ মুহূর্তে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্টে হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে ছেলের কফিনের পাশেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন রফিক। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ভারতের পেট্রাপোল থানার পুলিশ বাবার মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়ার জন্য পাঠিয়েছে। আর ছেলের মরদেহ মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশে তার স্বজনদের কাছে ফেরত দেন। বাবা-ছেলের এমন মৃত্যুর খবর শুনে একনজর দেখতে চেকপোস্টে উৎসুক মানুষের ভিড় জমেছে। তাদের সবার চোখেও বেদনার ছাপ। সীমান্তের বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, এমন খবর এর আগে কখনো শুনিনি। তাই দেখতে এসেছি।

[ভুটানে গেলেন প্রধানমন্ত্রী; হবে ৬ চুক্তি]

[যাত্রাবাড়ী মাদরাসার খতমে বুখারি ১৩ মে]

এসএস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ