শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ।। ৮ ফাল্গুন ১৪৩২ ।। ৪ রমজান ১৪৪৭

শিরোনাম :
সর্বত্র বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে :পীর সাহেব চরমোনাই ফরজ গোসল না করে কি সেহরি খাওয়া যাবে? উলামা মাশায়েখ ও মাদরাসার ছাত্রদের সম্মানে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর ইফতার মাহফিল  খতমে নবুওয়াত বিরোধীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা : প্রধানমন্ত্রী ২ দিন বৃষ্টির আভাস জানিয়ে আবহাওয়া অফিসের বার্তা ১৫ ব্যবসায়ীকে জরিমানা করল ভ্রাম্যমাণ আদালত শেয়ার বাজারসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ বাড়বে: অর্থমন্ত্রী রমজান উপলক্ষে ৮২৩ খাদ্যপণ্যে বিশেষ ছাড় আরব আমিরাতে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের আটজনের দফতর বণ্টন কে কোন দফতরে?

আল্লাহর কাছে বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধির তিন আমল

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইসমাঈল আনিস
শিক্ষার্থী, দারুল উলুম দেওবন্দ, ভারত

তিনপ্রকারের আমলের মাধ্যমে মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়ে থাকে: ১. মেহমান ও দরিদ্রদের খাবার খাওয়ানো।  ২. সালামের ব্যাপক প্রসার করা এবং ৩. রাতে যখন সবাই ঘুমিয়ে পড়ে, তখন নামাজে মশগুল হয়ে যাওয়া (আলমু’জামুল আওসাত্ব: ৬/৩৫১)।

প্রথম বিষয়, মর্যাদাবৃদ্ধির প্রথম আমল হলো, অসহায়-দরিদ্র এবং মেহমানদের খাবার খাওয়ানো এবং সাথে সাথে এ ধারণাও রাখা যে, আমার কোন অনুগ্রহ তাদের ওপর নেই, যাদেরকে আমি খাবার খাওয়াচ্ছি। বরং আল্লাহর অশেষ কৃপা ও আমার মেহমানদারী গ্রহণকারিদের অনেক বড় অনুগ্রহ হয়েছে আমার উপর। এজন্যই আমি তাদের মেহমানদারি করাতে পারছি। কেননা, তাদের আহার্য তো আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির পূর্বক্ষণ হতেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। এসকল বিষয়কে স্বরণ রেখে যারা অন্যকে খাবার খাওয়াবে, আল্লাহ তায়ালা তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন।

রাসুল (সা.) বলেছেন, তিনপ্রকারের লোক বড় সৌভাগ্যবান হয়ে থাকে এবং আল্লাহর দরবারে তাদেরকে সীমাহীন প্রতিদানে ধন্য করা হবে: ১. কোন মুমিন বান্দা অপর মুমিনকে পিপাসাকাতর অবস্থায় পানীয় পান করাবে, কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তায়ালা তাকে এমন বিশেষ প্রজাতীয়- উত্তম পানীয় পান করাবেন, যার প্রতিটা পানপাত্র সিলমোহরকৃত থাকবে।  ২. কোন মুমিন অপর মুমিনকে ক্ষুধাকাতর অবস্থায় খাবার খাওয়ালে কেয়ামত দিবসে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের বিভিন্নপ্রকারের তুলনাহীন ফলমূল খাওয়াবেন।  ৩. কোন মুমিন অপর অভাবী- বস্ত্রহীন মুমিনের বস্ত্র- আচ্ছাদনের ব্যবস্থা করলে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতের দামী আচ্ছাদনে ধন্য করবেন। তা থেকে প্রতিয়মান হয়, অন্যের আহার্যের ব্যবস্থা করার অনেক ফযিলত রয়েছে এবং এমন ব্যক্তির জন্য সুখসংবাদের ঘোষনাও রয়েছে।

দ্বিতীয় বিষয়, সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটানো। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘সালামের ব্যাপক প্রসার করতে থাকো। এতে তোমাদের পারস্পরিক মেলবন্ধন তৈরি হবে।’ রাসুল (সা.) পারস্পরিক ঐক্য-সম্প্রীতি, ভালোবাসাকে  ইমানের শর্তরুপে নির্ধারণ করেছেন। এছাড়াও সালামের মাধ্যমে পারস্পরিক ভালোবাসা বৃদ্ধিই পেয়ে থাকে। সুতরাং সালামের ব্যাপক প্রসার ঘটানো উচিৎ। রাসুল (সা.) বলেন, ‘জান্নাতে প্রবেশের জন্য ইমান থাকা শর্ত।  আর পূর্ণাঙ্গ মুমিন হওয়ার জন্য পারস্পরিক জোগসাজেশ-ভালোবাসা ও সৌজন্যবোধ থাকা আবশ্যক। যদি তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা-সৌজন্যতা না থাকে, তাহলে তোমরা কখনোই পূর্ণাঙ্গ মুমিন হতে পারবে না। ’ অতপর তিনি বলেন, পারস্পরিক শত্রুতা-অহংবোধ ও বিদ্বেষ দূর করার সবচে কার্যকরী মাধ্যম হলো, ‘তোমরা সালামের ব্যাপক প্রচার-প্রসার করো।  কেননা, সালাম উল্লেখিত মন্দস্বভাবগুলো দূর করার ক্ষেত্রে সবচে উপকারী মাধ্যম। একই সঙ্গে পারস্পরিক ভালোবাসা-প্রীতির বন্ধন জুড়ে দেওয়ারও পরিক্ষিত আমল।’

তৃতীয় বিষয়, রাতের শেষাংশে তাহাজ্জুদে দাড়িয়ে কোরআন তিলাওয়াত করা, যখন সবাই সুখতন্দ্রায় ডুবে থাকে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তিকে আল্লাহ তায়ালা অনেক পছন্দ করে থাকেন: ১.যে ব্যক্তি রাতের শেষাংশে তাহাজ্জুদ ও নফল নামাজে দাঁড়িয়ে কোরআন হতে তিলাওয়াত করে; যখন সবাই ঘুমে বিভোর থাকে। ২. যে ব্যক্তি কোন লড়াইয়ের ময়দানে জমে লড়াই করতে থাকে; যখন তার অন্যান্য সাথীবৃন্দ পরাজয় বরণ করে রণাঙ্গনে পিঠ দেখিয়ে পালিয়ে যায় এবং ৩.যে ব্যক্তি এমন গোপনে-চুপিসারে দান-সদকা করে, তার বাঁহাতও টের পায়না যে, সে ডানহাতে কী দান করেছে।

[করুনা নয়; আলেমরা স্বীকৃতি পাচ্ছেন তাদের জ্ঞান ও দক্ষতায়]

[বিবিসি সংবাদের প্রতিবাদ জানালো হেফাজত]

এসএস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ