রোকন রাইয়ান
বাংলাদেশ এক রূপময় দেশ। ফুল-ফলে শোভিত দৃষ্টিনন্দন এর প্রকৃতি। এখানে দোয়েল কোয়েল মুখরিত করে রাখে সারাবেলা। আছে টলটলে জলের পদ্মপুকুর আর অবিরাম ঝর্ণাধারা। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ হলো রূপের রাণী। এই রূপের রাণী ছয়বার পরিবর্তন হয় বিভিন্ন রূপে। আমরা বলি ঋতু বৈচিত্র্য। শীত শেষে এমনই গ্রীষ্ম এসেছে আমাদের কাছে। সামনেই বৈশাখ। বৈশাখ পুরাতনের বিদায় দেয়। আনে নতুন কাব্য। বৈশাখ আসে ঝড় নিয়ে। তাই বৈশাখ সাহসী, ক্ষ্যাপা, বৈরী, অশান্ত, অসীম, মারমুখো, নির্দয়। কিন্তু তার সৃজনক্ষমতা শিল্পীর সুনিপুন সৌকর্যকে হার মানায়। তার নতুন সৃষ্টি প্রকৃতির সকল পারক্ষমকে হার মানায়। বৈশাখের এমনই আজব রূপ দিয়েছেন কবি-
কাল-বৈশাখি আসিলে হেথায় ভাঙ্গিয়া পড়িত কোন সকাল,
ঘুণ-ধরা বাঁশে ঠেকা দেয়া ঐ সনাতন দাওয়া, ভগ্ন চাল।
এলে হেথা কাল-বৈশাখি
মরা গাঙে যেত বান ডাকি
বদ্ধ জাঙ্গাল যাইত ভাঙিয়া, দুলিত এ দেশ টালমাটাল।
বৈশাখকে নিয়ে অনেকেই লিখেছেন। লেখায় বৈচিত্র্য এসেছে। এসেছ নতুন ধারা। কিন্তু আমাদের জাতীয় কবি সেখানে একদমই ব্যতিক্রম। তার রেখে যাওয়া বৈশাখের ছন্দমালা এখনো দুলে বাতাসের ভেলায়। শিশুর কচি ঠোটে কিংবা গাঁয়ের কৃষকের ধানকাটা ব্যস্ত মুখে। নজরুল ছিলেন বৈশাখের প্রতীক। তিনি সাহিত্যে আবির্ভুত হয়েছেন কালবৈশাখীর মতো। তার বিদ্রোহী কবিতায় আমরা সেটাই দেখি বারবার
‘আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকালবৈশাখীর।
আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী সূত-বিশ্ব বিধাত্রির।’
প্রতি বছর ফিরে আসে বৈশাখ। নতুন বছর। নতুন সূর্যের আভায় বিচ্ছুরিত আলোকণা দুলে ওঠে হৃদয়ে। আর কবিমনে আলোড়ন জাগাতে আসে বৈশাখ। গাছে নতুন পাতা যোগ করার মতোই আমাদের মনকে নতুন করে বৈশাখ। নির্লিপ্ত আকাশ চুইয়ে গ্রীষ্মের দাবদাহ যখন জীবন মরুময় করে, চৈতালি রোদে যখন কাঁদামাটি ঠনঠনে, মাঠে-ঘাঠে কৃষক-কৃষাণীর যখন নাভিশ্বাস, তখনই বৈশাখ আনে ঝড়। সাথে নির্মল পানির ফোয়ারা। আনে প্রশান্তির শীতল বাতাস। ঘরময় তৈরি হয় এক নীরব আবহ।
সেই ঝড় শুষ্ক পাতা ঝড়িয়ে দেয়। নবীন জন্মকে তরান্নিত করে। তবে এই গড়ার মাঝে অনেককিছু ভেঙ্গেও দিয়ে যায়। বাড়ি ঘর তছনছ করে দিয়ে যায়। তার তীব্র স্রোতময় গতি দ্বারা। এজন্য ঝড়কে ধ্বংসেরও প্রতীক বলা হয়। তবে সেটা নিছক ধ্বংসই নয় এই ঝড় সৃষ্টিও করে অনেক কিছু। রাখে অফুরন্ত সম্ভাবনা। কবি নজরুল তাই ঝড় দেখে ভীত না হতেই উৎসাহিত করেছেন
ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবৈশাà¦