মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


ওয়াজের জন্য চুক্তি করা ও অতি মাত্রায় টাকা দাবি করা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মাওলানা মামুনুল হক

সাম্প্রতিক বহুল আলোচিত বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি কথা সংশ্লিষ্ট সকলের খেদমতে পেশ করছি-
এক.
তা'লীম, ইমামত, আযানসহ যে কোনো নেক কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহন করা জায়েয কিনা বিষয়টি নিয়ে ইসলামের মহামাণ্য ইমামদের মাঝে মতপার্থক্য আছে ৷ হানাফী ইমামদের মতে কোনো ধরনের পারিশ্রমিক গ্রহন করা না জায়েয ৷ অবশ্য পরবর্তি যুগের হানাফী ইমামগণ যুগের পরিবর্তন ও মানুষের হালাতের অধঃপতনের কারণে কিছু কিছু ক্ষেত্রে নেক কাজের বিনিময় গ্রহন করাকে জায়েয বলেছেন ৷ সেটাও কেবল এমন কাজের জন্য, যা ছাড়া ঈমান-ইসলাম টিকে থাকা কঠিন এবং পারিশ্রমিক দিয়ে লোক নিয়োগ না দিলে সে কাজ সুচারুরূপে আঞ্জাম পাবে না ৷ পরিণামে দ্বীনের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ার আশংকা দেখা দিবে ৷ যেমন, মসজিদের ইমাম, মুআজ্জিন প্রভৃতি দায়িত্ব ৷ দ্বীনের তা'লীমও এমনই এক জরূরী কাজ, যার জন্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে লোক নিয়োগ করা যেতে পারে ৷ এই মাসআলার আলোকেই মাদরাসায় বেতনভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কুরআন-সুন্নাহর শিক্ষাব্যবস্থা চালু রাখা হয়েছে ৷

দুই.
ওয়াজ-নসীহতের মাধ্যমে সমাজের দ্বীনী প্রয়োজন পুরন করাও দ্বীনের জরূরী একটি শাখা ৷ আমাদের অঞ্চলে আবহমান কাল থেকে এই খেদমতের মাধ্যমে ইসলামের বহুবিধ তাকাযা পুরা হচ্ছে ৷ বর্তমান এই অধঃপতনের সময়েও এই খেদমতের অপরিহার্যতা অনস্বীকার্য ৷ তা ছাড়া নিয়মিত শিক্ষকতার মত এটিও এক ভিন্ন খেদমতের ময়দান, যার জন্য উপযুক্ত ও যোগ্য লোক নিয়োজিত হওয়া চাই ৷ এই খেদমতে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গের প্রচূর সময়ও ব্যয় হয়, যে সময়ে ইচ্ছা করলে তারা জীবন-জীবিকা উপার্জন করতে পারতেন ৷ এই সময়দানের বিনিময়ে তাদেরকে পারিশ্রমিক দেয়া যেতেই পারে এবং দেয়াও উচিৎ ৷ নইলে এই ময়দানে শূণ্যতা সৃষ্টি হয়ে সমূহ সমস্যা দেখা দিতে পারে ৷

তিন.
আমাদের অনেক আকাবির ওলামায়ে কেরামকে ওয়াজের হাদিয়া দেয়া হলে তা গ্রহণ করতেন ৷ আবার অনেকে গ্রহন করতেন না ৷ এখনও অনেকে আছেন যারা ওয়াজের হাদিয়া নেন না ৷ তবে অনেককে আবার এমনও দেখা যায় যে, হাদিয়া নেন না ঠিক, কিন্তু তার যাতায়াতসহ অন্যান্য ব্যবস্থা করতে হয় ৷ আর এমন ব্যবস্থাই করতে হয় যে, সেই তুলনায় হাদিয়া নিলেই বরং আয়োজকদের সাশ্রয় হত ৷

সুতরাং সার্বিক বিবেচনায় ওয়াজের জন্য হাদিয়ার নামে পারিশ্রমিক আদান-প্রদান করাকে খারাপ নজরে দেখার সুযোগ নেই ৷ এই পারিশ্রমিকটা সময়দানের বিনিময় হবে ৷ আর যাতায়াতের ব্যয়ভার তো বহন করতেই হবে ৷

চার.
দ্বীনী কাজে দায়িত্ব পালনের জন্য যে পারিশ্রমিক দেয়া হয় সেটা এক দিকে কাজের বিনিময়, অন্য দিকে দ্বীনী কাজে আবদ্ধ থাকায় জীবিকা উপার্জন করতে না পারার কারণে তার প্রয়োজনà