মঙ্গলবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৭

ads

ওড়না এবং ঢাক ঢোল তবলা

OURISLAM24.COM
জানুয়ারি ১০, ২০১৭
news-image

লাবীব আবদুল্লাহ
শিক্ষক ও কলামিস্ট

labib_abdullahসাধারণ শিক্ষার শিক্ষাবর্ষ শুরু জানুয়ারি মাস থেকে৷ উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী কওমি মাদরাসার শুরু শাওয়াল টু রামাযান৷ রমযান কুরআন নাযিলের মাস৷ মাদরাসার তালেবে ইলমরা তারাবিহ পড়ায় তাই রমযানে মাদরাসা বন্ধ থাকে৷ রমযানে সবার রোযা রাখার সুবিধার্থে রমযানে মাদরাসা বন্ধ থাকে৷ মাদরাসাগুলোর কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগুলো শাবানে হয় রমযানে পরীক্ষার ফলাফল তৈরি করতে হয় তাই মাদরাসার শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ থাকে৷ তবে মাদরাসাগুলোর হিফয বিভাগ খোলা থাকে৷ মাদরাসার শিক্ষা বর্ষ শুরু শেষের বৈচিত্র থাকতেই পারে এবং এটির শুরু শেষ পরিবর্তণও করা যেতে পারে পরামর্শক্রমে৷

দুই
সাধারণ শিক্ষায় নতুন বছরে নতুন বই পত্র৷ নতুন কালারের বই৷ নতুন বিষয়ের বই৷ ফ্রি বই বিতরণ৷ বই বিতরণ উৎসব৷ এইসব আবার আলিয়া মাদরাসার ক্ষেত্রেও৷ তবে আলিয়া মাদরাসা ও স্কুলের বই একই ধরনের হওয়া ঠিক নয়৷ মাদরাসার কিতাবগুলোর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে৷
আমাদের দেশের বুদ্ধিজীবীদের হাতে নতুন ইস্যু ও তে ওড়না থাকা৷ কলাম লিখছেন তাঁরা এবং তাহারা র তে রথ টানি নিয়ে চুপ৷ ওড়নায় সাম্প্রদায়্কতার ঘ্রাণ নাসিকায় লাগে কিন্তু রথে সাম্প্রদায়িকতার ঘ্রাণ নাকে লাগে না৷

সাধারণ শিক্ষা নানা ত্রুটি থাকার পরও মুসলিমরা সে শিক্ষাই অর্জন করছে৷ সাধারণ শিক্ষায় সবচে বড় অসম্পন্নতা হলো কুরআন সুন্নাহর আলো না থাকা৷ এই শিক্ষায় নানা অন্ধকার বিরাজ করছে৷ সেরা শিক্ষিতরা সেরা দুর্নীতিবাজ৷ স্বার্থ দেখে নিজের দেশ ও দশের নয়৷ কিছু ব্যাতিক্রম ছাড়া দেশের শিক্ষিত সমাজের মাঝে দুর্নীতির পরিমাণ বাড়ছে৷ উন্নয়ণের জন্য বরাদ্দের টাকা নিজের পকেটে রাখলে তো রাস্তা ঘাটে জনতার কষ্ট হয়৷ প্রতিদিন মানুষ দুর্নীতির প্রভাব অনুভব করেন আমজনতা৷ কুরআনী চেতনা ছাড়া সাধারণ শিক্ষা অসম্পন্নই থাকবে৷

তিন
মাদরাসা শিক্ষা মোগল আমলেও পূর্ণাঙ্গ শিক্ষাব্যবস্থা ছিলো৷ এর আগে মাদরাসার হাজার বছরের ইতিহাস বলে মাদরাসা শিক্ষাই ছিলো সম্পন্ন শিক্ষা৷ যিনি মসজিদের ইমাম তিনি প্রধান বিচারপতি হতে পারতেন৷ ইমাম আবু ইউসুফ রহ তো চীফ জাস্টিস ছিলেন৷ যিনি মাদরাসায় পড়েছেন তিনি আবার দেশের প্রধান রাষ্ট্রপতি হতেন৷ বাদশাহও হতে পারতেন৷ বাদশাহ আলমগীর রহ তো আলেম ছিলেন৷ পূর্বের যুগের রাজা বাদশাহরা ইলমদোস্ত ছিলেন৷ ইলমের সেবক ছিলেন৷ নিজেরা মসজিদ মাদরাসা তৈয়ার করতেন৷ নির্মাণ করতেন মসজিদ মাদরাসা৷ আলেম উলামা ও তালেবে ইলমদের সেবা করা নিজের জন্য সৌভাগ্য মনে করতেন উমাইয়া, আব্বাসীয়, ফাতেমী যুগে৷ মোগল আমলেও ছিলো এর ধারাবাহিকতা৷ কিন্তু সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশরা শিক্ষায় বিভাজন করেছে৷ তাদের শিক্ষাব্যবস্থা আমদানি করেছে উপমহাদেশে৷ ডিভাইড এন্ড রোল পলিসি প্রয়োগ করেছে শিক্ষানীতিতেও৷ আলিয়া কওমি ও জেনারেল শিক্ষার বিভাজন বৃটিশি চিন্তার ফল৷

মুসলিমরা নিজেরাই নিজেদের দুশমন৷ নিজেরাই বিরোধী কুরআন সুন্নাহর শিক্ষার৷ কথিত মুসলিম বুদ্ধিজীবীরাই ও তে ওড়নার প্রতিবাদ করছে৷ তাহারা আবার স্কুলে যৌন শিক্ষা অন্তর্ভুক্তের কথা বলেন কিন্তু ওড়নাতে এলার্জি তাহাদের৷ ওড়না শালীন পোশাক৷ ভদ্রদের পোশাক৷ বাঙ্গালীর ঐতিহ্যের পোশাক৷ মুসলিমদের নয় শুধু বাংলাদেশের হিন্দু মেয়েরাও ওড়নায় নিরাপদ বোধ করেন৷

উপজাতীয়রাও বুকে আলাদা একটি কাপড় রাখেন ওড়না জাতীয়৷ বোরকা হিজাবের কোনো নিয়ম কানুন তো আর স্কুলের বইয়ে অন্ত্রভুক্ত করা হয় নি তাহলে শুধু ওড়নাতেই এতো প্রতিবাদ কেন? ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে গণতান্ত্রিকভাবেই তো তাদের বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের আলোকে শিক্ষাক্রম পরিচালিত হবে৷ যারা বোরকা হিজাব ও ওড়না নিয়ে চিন্তিত তারা যদি নিজের পরিবারে একবার চেয়ে দেখেন তাহলে দেখবেন তাদের মা মেয়ে খালারা কত শালীন পোষাক পড়ছেন এবং অতীতে পরিধান করতেন৷ যদিও ভারতীয় হিন্দি সিরিয়ালের কুপ্রভাবে আমাদের নারীরা প্রভাবিত কিন্তু শত কিছুর পরও বোরকা ও হিজার সুরক্ষা তা মনে করে একজন নারী৷ ভদ্র মহিলাগণ৷

কোনো বুদ্ধিজীবী তো আর নিজের মেয়েকে ওড়না ও হিজাব ছাড়া চলতে দেন মনে হয় না৷ তাহলে ও তে ওড়নায় বিরোধিতা কেন?

বলছিলাম মাদরাসা শিক্ষা ধীরে ধীরে সংকোচন করা হচ্ছে৷ আরবি বিষয় সীমিত হয়ে যাচ্ছে আলিয়া মাদরাসার শিক্ষায়৷ কওমি মাদরাসাকে চেষ্টা চলছে নিয়ন্ত্রণের নানা উপায়ে৷ জঙ্গি তকমা দেওয়া হচ্ছে৷ তথ্যসন্ত্রাস চালানো হচ্ছে৷ সেই আগের যুগের রাজা বাদশাহদের ভালোবাসা আর পায় না এখন দীনি শিক্ষাকেন্দ্র মাদারিসে দীনিয়া বা কওমী মাদরাসা৷ তবে দেশের কোটি কোটি জনতা দীনি শিক্ষার ধারক বাহক৷ পৃষ্টপোষক৷ সহযোগী৷ সহমর্মী৷ বৃটিশও বিলুপ্ত করতে পারে নাই মাদরাসা শিক্ষা৷ পারবে না লর্ড ম্যাকলের অন্ধ অনুসারীরাও৷ কিন্তু কওমি মাদরাসা শিক্ষা আরও সমৃদ্ধ হতে হবে৷ সমন্বয় হতে হবে দীন ও দুনিয়ার বিষয়াবলীর৷

চার
ও তে ওড়না এটি সাম্প্রদায়িকতা এবং মৌলবাদী চেতনা৷ মেনে নিলাম কিন্তু কিছু প্রশ্ন আমাদের অসম্প্রদায়িক বুদ্ধিজীবীদের বিবেকের আদালতে৷

ঋ তে ঋষি
প্রথম শ্রেণির আমার বাংলা বইয়ে ঋ তে ঋষি কেন?

ঋষির ছবি বলছে ঋষি সাহেব অন্যধর্মের অনুসারী৷ বিজ্ঞানের যুগে শ্রমের যুগে ঋসি সাহেব আমাদের কী উপকার করবে? ছবিতে একটি ঘটিও আছে৷ জটাধারী ঋষি৷

এটি কি সাম্প্রদায়িকতা নয়?

এ তে একতারা
একতারা তো বাউলের হাতে থাকে৷ বৈরাগীদের হাতে থাকে৷ এই বাউলিপনা আমাদের পরিবারে কী উপকার করবে? ইসলামে বাউলিপনা নেই৷ নেই সংসারবিমুখিতা৷ একতারা নাগরিক জীবনেই বা কী প্রয়োজন? শিশুরা কি একতারা বাজায়?

জল
প্রথম শ্রেণির বাংলা বইয়ের ২৩ পৃষ্টায় জল লিখা আছে৷ বাংলাদেশের মানুষ দৈনন্দিন জীবনে তো জল বলে না৷ বলে পানি৷ ওপার বাংলায় কিন্তু পানি বলে না৷ বলে জল৷ এপার বাংলায় পানি৷ এটি শব্দ সংস্কৃতি৷ যদিও জল ও পানি একই৷ কিন্তু প্রথম শ্রেণির বইয়ে পানি নেই আছে জল৷

আমরা পানি পান করি৷ শিশুরা কিন্তু স্কুলে জল বললেও বাসায় পানি বলে ও বলবে৷ ওপার বাংলার পাঠ্য বইয়ে কি জলের জায়গায় পানি লিখবে? আমরা উদার তাই আমরা পানির জায়গায় জল লিখি৷ যৌক্তিক কারণে পানি হতে পারতো কিন্তু হয়েছে জল৷ যে জলে আগুন জ্বলে এই বাক্য পানি দিলে মিলবে না৷ তাই আমরা জল পানি সব বলি৷ কিন্তু অন্যরা কিন্তু পানি বলতে রাজি নয়৷ পাঠ্যবইয়ে এক জায়গায় পানিও থাকতে পারতো৷

ঢ ঢাক বাজাই
ঢাক বাজাই একটি ছবিতে ঢাক আছে৷ কতজন শিশু ঢাক বাজায় বাস্তবে? ঢ তে ঢাকা হলে সমস্যা কোথায়? ঢাক তো মুসলিম সংস্কৃতি নয়৷

ত তবলা
তবলা কতজন বাজায়? ঢাক তবলা তে তো কানের ক্ষতি হয়৷ উচ্চ আওয়াজ তো কানের জন্য ক্ষতি৷ ত তে তাল হলে সমস্যা কোথায়? তালগাছ তো আমাদের দেশের গাছ৷

র তে রথ টানি
হে বুদ্ধিজীবী সকল, আপনারা তো ওড়না নিয়ে প্রবলেমে আছেন৷ আছেন টেনশনে৷ রথে কি সাম্প্রদায়িকতা নেই? রথ কি ধর্মীয় উৎসবের বাহন নয়?এ নিয়ে নীরব কেন?

ভাত খায় গান গায়
বাংলাদেশের কয়টা পরিবারে ভাত খাওয়ার সময় গান গায়৷ কতটা বাস্তব চিত্র এটি? ভাত বা খাবারে মনযোগ দিতে হয়৷ গানটা উদাস করে৷ উদাসী হয়ে খেলে হতে পারে বদ হজম৷ গান গাওয়ার কথা থারতে পারে প্রথম শ্রেণির বইয়ে৷ কিন্তু ক তে কুরআন পড়ি থাকতে পারে না? এটি থাকলে 90% মানুষের কথা হতো কিন্তু গান, তবলা, ঢাক, একতারা কত পার্সেন্ট মানুষের চেতনা?

ঢোল হাতে খোকা হাসে
হাতে থাকবে ল্যাপটপ বা উন্নত প্রযুক্তির কিছু৷ কিন্তু শিশুর হাতে ঢোল?

বীনা আনি গীত শুনি
গীত কিন্তু উর্দু শব্দ৷ গীত হিন্দিতেও আছে৷ বিয়েতে গ্রামে গীত গাওয়া হয়৷ আমাদের শিশুরা একতারা, ঢাক, তবলা, ডোল, বীনা, গান সব শিখলো৷ গান বাজনা শিখতে শিখতেই তো বই শেষ৷ আমাদের শিশুদের মনে বিজ্ঞানের কিছু শব্দ বা মুসলিম হিসেবে কুরআন সুন্নাহর কিছু শব্দ শিখানোর দাবি কি অযৌক্তিক? সংখ্যাগরিষ্ট মানুষের চেতনা কি তবলা ও গীত? ভাত খাইতেও শীবের গীত?

অ তে অজ
বাংলা একাডেমীর অভিধান দেখে অজের অর্থ ছাগল পেলাম৷ আমাদের মুখের ভাষা ছাগল৷ ছাগলামি হলো অজ লিখা৷ কেউ কি অজ বলে? তবে ছবিতে ছাগল গাছে উঠে এটি ঠিক আছে৷ বুদ্ধিজীবীদের বলছি আপনি গ্রামে গেলে দেখবেন ছাগল গাছে লাফ দেয়৷ আমার কাছে গাছে উঠার একটি ভিডিও আছে৷ ছাগলের সাথে কথাও বলেছি৷ ছাগল বুদ্ধিজীবীদের প্রতিবাদ করে প্রমাণ করেছে গাছে উঠতে পারে৷

মৃগল মাছ
বাবা মৃগেল মাছ ধরেন ভাতে মাছে বাঙ্গালী৷কিন্তু কত মাছ আমাদের নদী ও পুকুরে কিন্তু মৃগল মাছটা আবার কি?
নামও শুনেন নাই অনেকে৷

যারা ওডনা নিয়ে টেনশনে আছেন তারা একটু ভাববেন যে এই ওড়নার চেতনার বিপরীত কত ঢোল তবলা আছে৷

আছে গীত গান৷ আপনারা ওড়না নিয়ে কথা বলবেন৷ কলাম লিখবেন৷ প্রতিবাদ করবেন৷ কিন্তু ঢোৱ তবলা একতারা জল নিয়ে কথা বললে মৌলবাদী খুঁজবেন এটি কেমন কথা? এটি কি আপনাদের উদারতা? বিজ্ঞানমনস্কতা?

অসম্প্রদায়িক চেতনা?

ধন্যবাদ ঋষি সাহেবগণ আপনাদের এই একমুখী চেতনাকে৷

আরআর