মাহফূযুল হক
কলামিস্ট
মিয়ানমারের উগ্রবাদী বোদ্ধ জঙ্গীদের ইন্ধনে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক রাখাইন রাজ্যে পরিচালিত রোহিঙ্গা মুসলিম জাতি নির্মূল অভিযান নতুন করে শুরু হওয়ার পর নির্যাতিত রোহিঙ্গারা আশ্রয়ের আশায় আমাদের দেশে প্রবেশের চেষ্টা করে। তিনটি কারণে তারা আমাদের দেশে আসতে চাচ্ছিল। ভৌগলিক অবস্থানে আমরা তাদের নিকটতম প্রতিবেশি, ধর্মবিশ্বাসে আমাদের ও তাদের জাতিয় পরিচয় অভিন্ন এবং ভাষার পরিচয়েও আমরা তাদের মতোই বাঙ্গালী।
উগ্র সাম্প্রদায়িক চেতনার নির্লজ্জ প্রকাশে এ পৃথিবীর মাটি অগণিত বার রঞ্জিত হয়েছে। নির্যাতিতের আহাজারিতে পৃথিবীর আকাশ-বাতাস বহুবার ভারি হয়েছে। কিন্তু এ বারে মিয়ানমার সেনাবাহিনী সে দেশের উগ্রবাদী জঙ্গী জনতাকে সাথে নিয়ে রোহিঙ্গা মুসলিম জনগণের উপর যে নির্যাতন করেছে তা বুঝানোর জন্য নির্যাতন শব্দও যথেষ্ট নয়। নির্যাতন শব্দ বললে তার কিছুই বুঝে আসবে না। কোন ভাষার কোন শব্দ দিয়েই তা বুঝানো সম্ভব নয়। কেউ যদি তা উপলব্ধি করতে চায় তার একমাত্র উপায় নির্যাতনের ভিডিওগুলো দেখা। সে ভয়াবহ নিষ্ঠুর দৃশ্যের বিবরণ লেখতে গেলেও চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠে, হাত কাঁপতে থাকে, মাথা ঘোরে বমি আসতে চায়। সম্ভবত পৃথিবীর অতীত ইতিহাসে ও বর্তমানে এভাবে কোন জাতিকে নির্যাতন করা হয় নি। জাতি নির্মূলের উদ্দেশ্যে বহুবার পৃথিবীতে হাজার হাজার, লক্ষ লক্ষ মানুষ মারা হয়েছে, রক্তের স্রোতে নদীর পানি লাল হয়ে গেছে কিন্তু সরকারের তত্তাবধনা বিশাল এক জনগোষ্ঠীর সাথে এরকম নিষ্ঠুর পৈশাচিক নির্যাতনের কোন রেকর্ড পৃথিবীতে নেই।
এতকিছুর পরেও আমাদের সরকার ও সাম্প্রদায়িক বামগোষ্ঠীগুলো রোহিঙ্গাদের আশ্রয়দানের ঘোর বিরোধী ছিল। কিন্তু মাবাধিকারের পতাকাবাহী ইসলামপন্থীদের জোরাল দাবি ও বিভিন্ন কর্মসূচিতে সরকার যথেষ্ট নমনীয় হয়েছে এবং কিছুটা দেরিতে হলেও সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রোহিঙ্গারা এখন আমাদের দেশে আসছে। তারা আমাদের ধর্মের ভাই-বোন। তারা আমাদের মুহাজির ভাই-বোন। আমাদের আসতে হবে মদীনার আনসার সাহাবীদের ভূমিকায়। যেহেতু ইসলামপন্থীদের জোরাল দাবির সুফলে তারা আশ্রয় পেয়েছে সেহেতু তাদের ব্যাপারে এ দেশের ইসলামপন্থীদের দায়িত্বটা সবচেয়ে বেশি। ইসলামপন্থীদের অনেকেই ঘ