হুমায়ুন আইয়ুব
সম্পাদক, আওয়ার ইসলাম
আল্লামা শামসুল হক ফরীদপুরী রহ.-এর হাতে গড়া সন্তান মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার রহ. চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে। তার কর্মময় জীবনের উজ্জ্বল উদাহারণ বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক। লাখো আলেম উলামা মাদরাসা শিক্ষার্থীর আস্থা বিশ্বাস ও চেতনার মিনার এই বেফাক। বেফাক আকাবির ও আসলাফের চোখের পানির ফসল।
মনে রাখবার মতো বিষয় হলো, বেফাক একটি আমানত। ষোল কোটি বাঙালির ঈমান, আমল আখলাক ও ইসলামি মূল্যবোধের আজান হয় এই বেফাক থেকে। বেফাকের সন্তানরাই রাজপথের সিপাহসালার, খানকার পীর, মসজিদরে ঈমাম-খতিব, কালি ও কলমের জাদুঘর।
বেফাকের পতাকা নিয়ে দেশ-বিদেশে দাওয়াতের কাজ করেন আলেমরা। হাদিসের মসনদে কলা হাদ্দাসানার সুর, কুরআনের বাগানে শেষ রাতের তেওলাওয়াত করেন বেফাকের চেতনাধারীরাই।
মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ছিলেন এই বেফাকের মালি। এই বেফাকবাগের চাষি। ১৯৭৮ সালে শায়েস্তা খাঁ হল থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত তিনি শুধু বেফাকই লালন-যাপন করেছেন।
এই মহাসচিব হওয়ার জন্য কেউ লালায়িত বা লবিং করছেন এমন রাজনৈতিক বক্তব্যও অন্তত আমরা বিশ্বাস করতে চাই না। কারণ বেফাকের দায়িত্বশীলরা যাকেই মনোনিত করবেন, তিনি লাখো আলেম উলামা, শিক্ষার্থীর আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন এটাই স্বাভাবিক।
গত ১৮ নভেম্বর শুক্রবার তার চলে যাওয়ার মাধ্যমে একই সঙ্গে বেফাকের দুটিপদ শূন্য হয়েছে। একটি বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের মহাপরিচালক (ডিজি), অপরটি বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের মহাসচিব পদ। একই সঙ্গে দুটি পদ বহন করা মাওলানা আবদুল জব্বারের নিবেদিত মানসিকতার কারণেই সম্ভব হয়েছিল।
তার ইন্তেকালের শোক কাটিয়ে ওঠতে না ওঠতে জোর আলোচনা হচ্ছে কে হচ্ছেন বেফাকের পরবর্তী মহাসচিব। মহাসচিব কে হচ্ছেন বিষয়টি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ দেওবন্দি চেতনায় বিশ্বাসী, আকারির ও আসলাফের মন-মনন লালনকারী যে কউ বেফাকের মহাসচিব হতে পারেন। ব্যক্তিটা খুব মুখ্য নয়।
যারা আলোচনায় আছেন বা নেই তারা খুব কাছাকাছি মেজাজের মানুষ। পরস্পর আকাশ-পাতাল খুব পার্থক নেই। বেফাকের নীতি আদর্শের বাইরে গিয়ে কাজ করারও খুব একটা সুযোগ নেই। এই মহাসচিব হওয়ার জন্য কেউ লালায়িত বা লবিং করছেন এমন রাজনৈতিক বক্তব্যও অন্তত আমরা বিশ্বাস করতে চাই না। কারণ বেফাকের দায়িত্বশীলরা যাকেই মনোনিত করবেন, তিনি লাখো আলেম উলামা, শিক্ষ