বুধবার, ১৭ জানুয়ারি ২০১৮

ads

মহাসচিব, মহাপরিচালক এবং আগামী দিনের বেফাক

OURISLAM24.COM
নভেম্বর ২০, ২০১৬
news-image

হুমায়ুন আইয়ুব
সম্পাদক, আওয়ার ইসলাম

humaun_aiubআল্লামা শামসুল হক ফরীদপুরী রহ.-এর হাতে গড়া সন্তান মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জব্বার রহ. চলে গেছেন আমাদের ছেড়ে। তার কর্মময় জীবনের উজ্জ্বল উদাহারণ বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাক। লাখো আলেম উলামা মাদরাসা শিক্ষার্থীর আস্থা বিশ্বাস ও চেতনার মিনার এই বেফাক। বেফাক আকাবির ও আসলাফের চোখের পানির ফসল।

মনে রাখবার মতো বিষয় হলো, বেফাক একটি আমানত। ষোল কোটি বাঙালির ঈমান, আমল আখলাক ও ইসলামি মূল্যবোধের আজান হয় এই বেফাক থেকে। বেফাকের সন্তানরাই রাজপথের সিপাহসালার, খানকার পীর, মসজিদরে ঈমাম-খতিব, কালি ও কলমের জাদুঘর।

বেফাকের পতাকা নিয়ে দেশ-বিদেশে দাওয়াতের কাজ করেন  আলেমরা। হাদিসের মসনদে কলা হাদ্দাসানার সুর, কুরআনের বাগানে শেষ রাতের তেওলাওয়াত করেন বেফাকের চেতনাধারীরাই।

মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ছিলেন এই বেফাকের মালি। এই বেফাকবাগের চাষি। ১৯৭৮ সালে শায়েস্তা খাঁ হল থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত তিনি শুধু বেফাকই লালন-যাপন করেছেন।

এই মহাসচিব হওয়ার জন্য কেউ লালায়িত বা লবিং করছেন এমন রাজনৈতিক বক্তব্যও অন্তত আমরা বিশ্বাস করতে চাই না। কারণ বেফাকের দায়িত্বশীলরা যাকেই মনোনিত করবেন, তিনি লাখো আলেম উলামা, শিক্ষার্থীর আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন এটাই স্বাভাবিক।

গত ১৮ নভেম্বর শুক্রবার তার চলে যাওয়ার মাধ্যমে একই সঙ্গে বেফাকের দুটিপদ শূন্য হয়েছে। একটি বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের মহাপরিচালক (ডিজি), অপরটি বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের মহাসচিব পদ। একই সঙ্গে দুটি পদ বহন করা মাওলানা আবদুল জব্বারের নিবেদিত মানসিকতার কারণেই সম্ভব হয়েছিল।

তার ইন্তেকালের শোক কাটিয়ে ওঠতে না ওঠতে জোর আলোচনা হচ্ছে কে হচ্ছেন বেফাকের পরবর্তী মহাসচিব। মহাসচিব কে হচ্ছেন বিষয়টি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ দেওবন্দি চেতনায় বিশ্বাসী, আকারির ও আসলাফের মন-মনন লালনকারী যে কউ বেফাকের মহাসচিব হতে পারেন। ব্যক্তিটা খুব মুখ্য নয়।

যারা আলোচনায় আছেন বা নেই তারা খুব কাছাকাছি মেজাজের মানুষ। পরস্পর আকাশ-পাতাল খুব পার্থক নেই। বেফাকের নীতি আদর্শের বাইরে গিয়ে কাজ করারও খুব একটা সুযোগ নেই। এই মহাসচিব হওয়ার জন্য কেউ লালায়িত বা লবিং করছেন এমন রাজনৈতিক বক্তব্যও অন্তত আমরা বিশ্বাস করতে চাই না। কারণ বেফাকের দায়িত্বশীলরা যাকেই মনোনিত করবেন, তিনি লাখো আলেম উলামা, শিক্ষার্থীর আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবেন এটাই স্বাভাবিক। তবে যে জায়গাটায় মনযোগ দেওয়া দরকার বলে মনে করছি, তা হলো, দীর্ঘ ২৭ বছরের মহাসচিব এবং মহাপরিচালক পদে থাকা মাওলানা মুহাম্মদ আবদুল জব্বারের দুটি পদ। কাজের ভার এবং দায়িত্ব।

এই সময়ে এসে বেফাক একটি শিল্পালয়। অনেক রকমের কাজের প্রতিষ্ঠান। দায়িত্বশীলরা নিশ্চয় বিষয়টি অনুভব করছেন।

তাই মহাসচিব, মহাপরিচাল দুটি পদের জন্য দুজন ব্যক্তি মনোনিত হলে বেফাকের গতি এবং কর্ম পরিধি বিস্তৃত হবে বলে মনে করি।

মহাপরিচালক বা ডিজি যিনি হবেন, নিয়মিত অফিস করা, সুষ্টুভাবে অফিস পরিচালনা, রুটিং ওয়ার্ক, কমকথা, কর্মচারির সুখ দুখ, সাবিচিক দায়িত্ব এবং বেফাকের কমিটির নির্দেশ বাস্তবায়ন করা তার মৌলিক কা্জ। কমিটির সিদ্ধানের বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই। কাজের জবাবদিহিতাও শতভাব নিশ্চিত করা সম্ভব।

আর মহাসচিব থাকবেন বেফাকের শক্তিশালী ভিত্তি রচনার কাজে ব্যস্ত। দেশব্যাপী যোগাযোগ, সফর, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক তৈরি। দেশ-বিদেশের উচ্চতর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নানা চুক্তি করা। কওমি মাদরাসার শিক্ষার বিস্তার ও মান উন্নয়নে সমন্বয় ইত্যাদি। সংস্থা বা সংগঠনের সামাজিক রাষ্ট্রীয় এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদা বৃদ্ধিই হবে মহাসচিবের কাজ। নিয়মিত বা অনিয়মিত অফিস করলেও কোন সমস্যা হবে না। আর বেফাকের আমেলা ও শুরা সক্রিয় রাখাও মহাসচিবের  গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

বৃহত্তম এই শিল্পালয়ে দুই পদে দুজন ব্যক্তি থাকলে, অবশ্যই বেফাকের কাজে গতি আসবে, সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত হবে। জবাবদিহিতাটাও বাড়বে শতগুণ। ফুলে-ফসলে ভরা এই মাঠে কাক নয় কোকিলের গান শুনতে চাই। চোখভরা স্বপ্ন, মনভরা আশা আর বুকভরা সাহস নিয়ে এগিয়ে যাবে বেফাক। এগিয়ে যাবে পৃথিবীর নানা প্রান্তে।

আরআর

বেফাক অফিস; কী যেন নেই! কে যেন নেই!