বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

ads

শায়েস্তা খাঁ থেকে হলি ফ্যামিলি; ইতিহাসে আগামী প্রজন্মের শপথ

OURISLAM24.COM
নভেম্বর ১৭, ২০১৬
news-image
হুমায়ুন আইয়ুব

abdul_jabbar2ঢাকার মগবাজারের হলি ফ্যামিলিতে শেষ সময় পার করছেন কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড  বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আবদুল জব্বার। অবশ্য শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি এখনও ক্ষীণ ক্ষীণ আছেন। তার শেষ ইচ্ছা, বেফাকের জমিনেই হবে তার কবর। জানি না ইতহাস কীভাবে চিত্রায়ণ করবে এই কাণ্ডারিকে।

তবুও বলি, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে আলেম-উলামা ও ইসলামপন্থীদের যত সংগঠন, সংস্থা, কার্যক্রম ও প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেছে এর মধ্যে প্রধানতম বড় সংস্থাটির নাম বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাক। বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন কারও মতও থাকতে পারে। তবে উদাহারণ দেওয়া কঠিন হবে।

দেশব্যাপী বিস্তৃত এই সংস্থা মানে বেফাকের শুরুর দিন শায়েস্তা খাঁ হল থেকে আজকের এই মুহূর্ত (হলি ফ্যিামিলি পর্যন্ত) বেফাককে কোলে পিঠে যত্ন করে, নানা ঘাত প্রতিঘাত থেকে রক্ষা করে গৌরবময় উজ্জ্বল ইতিহাসে স্থান করেছেন মাওলানা আব্দুল জব্বার।অফিস ছিল না, আজ বেফাকের শত শত কর্মচারি কর্মকর্তা। জায়গা ছিল না, আজ কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক বেফাক।
এই গতিময়তার মহান কাণ্ডারি মাওলানা আবদুল জব্বার।
 
মাত্র আড়াই বছর এই বটবৃক্ষের পাশে থেকে ছায়ার মতো কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার।
 

আমার জানা মতে, ঢাকা বা ঢাকার বাইরে মাওলানা আবদুল জব্বারের নামে কোন ব্যাংক একাউন্টও নেই। চা রুটি আর ‍নুনতা বিস্কুট খেয়ে যিনি বেফাক ধরে রেখেছেন এই কওমির সন্তানরা কী তার যথাযথ মর্যাদা রক্ষা করতে পারবে? পারবে কি সময়ে অসময়ে তার সমাধীর পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ? তিনি বেফাক অধ্যায়ের সঙ্গে গায়ে গতরে কাল-মহাকাল ধরে লেগে থাকুক এটা আমাদের প্রত্যাশা। বেফাকের ইতিহাসে আবদ্ধ থাকুক তার স্বশরীরি উপস্থিতি।

অাগামী প্রজন্ম বেফাকের ইতিহাস পড়বে, মাওলানা আবদুল জব্বারকে জানবে। ঢাকায় বেফাকের অফিসে তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে নিস্বার্থ দ্বীনের কাজের অঙ্গীকার নিবে। সবুজ দুর্বা ঘাসে, ফুল বিচানো পরিবেশে তিনি শুয়ে থাকবেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শপৎ নিবে ইলমে ওহির সুরক্ষার।
আমাদের চর্চাটুকু সত্তিই আগামীর ইতিহাসে সাহস যোগাবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম শপথ করে বেড়াবে দীনের পতাকা নিয়ে আমরণ পথ চলতে…

লেখক: সম্পাদক, আওয়ার ইসলাম টোয়েন্টিফোর ডটকম

আরো পড়ুন
বেফাক মহাসচিবের শেষ ইচ্ছে পূরণ করা আমাদের দায়িত্ব
বেফাক মহাসচিবের শেষ ইচ্ছা