জাকির মাহদিন; আওয়ার ইসলাম
প্রথমেই ‘শিক্ষা’ সম্পর্কে কিছু বলা দরকার। ‘শিক্ষা’ বিষয়টা এতটাই মৌলিক, গভীর, ব্যাপক, সহজ, সর্বজনীন, তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রভাববিস্তারকারী যে এটা নিয়ে আমি খুব একটা বলতে পারব বলে মনে হয় না। প্রকৃত শিক্ষার সঙ্গে আজকের তথাকথিত শিক্ষার পার্থক্য আকাশ-পাতালের চেয়েও বেশি। শিক্ষার কোনো নাম-গন্ধ বর্তমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আছে বলে অন্তত আমার জানা নেই। সেটা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কওমি-আলিয়া মাদরাসা যাই হোক না কেন। মূল শিক্ষা বাদ দিয়ে বা শিক্ষার মূল লক্ষ-উদ্দেশ্য ভুলে গিয়ে এর গৌণ ও আনুষঙ্গিক বিষয়গুলোকেই শিক্ষা নামে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে। এক বা একাধিক ভাষা শিক্ষা, বৈষয়িক শিক্ষা ও কারিগরী শিক্ষার চাপে মনুষ্যত্বের শিক্ষা, মানসিক শক্তি অনুসন্ধান ও বিকাশের শিক্ষা, সৃষ্টিগত প্রাপ্ত শিক্ষা সম্পূর্ণই হারিয়ে গেছে। জানি, এখানের কিছু কথা বা পরিভাষা পাঠকের কাছে কঠিন ঠেকবে। কারণ সেই বিষয়গুলো আমাদের চিন্তা-চেতনা এমনকি ধ্যান-ধারণা থেকেও একেবারেই হারিয়ে গেছে। যে কারণে জেনারেল শিক্ষায় দূরের কথা, মাদরাসা শিক্ষায়ও ‘সৃষ্টিগত প্রাপ্ত শিক্ষা’র কোনো অনুসন্ধান পর্যালোচনা নেই। মহান আল্লাহ কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় বলেছেন, ‘আমি মানুষকে কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছি; এমনকিছু যা সে জানত না’। -সূরা আলাক। ‘তিনি অসীম দয়ালু। শিখিয়েছেন কোরআন। মানুষকে তিনি সৃষ্টি করেছেন। ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও শিখিয়েছেন। -সূরা রাহমান। এমনকি মহান আল্লাহ আমাদের পরীক্ষাও নিয়েছেন। জিজ্ঞেস করেছেন, আমি কি তোমাদের পালনকর্তা নই? এর সঠিক উত্তর দিতে আমরা সমর্থ হয়েছি। বলেছি, নিশ্চয়। অথচ এখন ধর্মীয় শিক্ষা হয়ে পড়েছে বিনিময়নির্ভর, ‘জী হুজুর’মার্কা, সার্টিফিকেটমুখী, স্বীকৃতিমুখী।
আবার সার্টিফিকেট একটা হলেও চলে না, অনেকগুলো চাই, অনেক প্রকারের চাই। এসব পাবার মূল উদ্দেশ্যই ধর্মবিরোধী। কারণ এসবের প্রতি আকর্ষণ, দুর্বলতা, ব্যস্ততা, পেরেশানি ¯্রষ্টাপ্রদত্ত শিক্ষাকে ভুলিয়ে দেয়। সৃষ্টিগত প্রাপ্ত শিক্ষা নষ্ট করে ফেলে। বর্তমান শিক্ষা, শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাপদ্ধতি মানুষের মানসিক সুপ্ত শিক্ষা ও শক্তি বিকাশের পক্ষে সহায়ক নয় বরং উল্টো। তাই এসব যাদের ভাগ্যে জোটে তারাও অন্তরে শান্তি বোধ করেন না। আরও অধিক আশা, বিভিন্ন ব্যক্তি-দল-প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মানসিক দ্বন্দ্ব, পারিবারিক-সামাজিক সম্পর্কের অবনতি, জাগতিক সুখ ও প্রাপ্তিতে উচ্ছ্বাস বা কথিত তৃপ্তি আর দশজন সাধারণ মানুষ বা উচ্চাকাঙ্ক্ষী শিক্ষিত শ্রেণির মতোই তারা ধারণ করেন। জেনারেল শিক্ষায় বাংলা-ইংরেজি প্রাধান্য, মাদরাসা শিক্ষায় আরবির প্রাধান্য। এসবই ভাষা। জ্ঞান (ইলম) আর ভাষা এক কথা নয়। সাধারণ ও ধর্মীয় শিক্ষায় ভাষাগত ও অন্যান্য বাহ্যিক কিছু পার্থক্য থাকলেও মূল লক্ষ-উদ্দেশ্যের দিক থেকে কোনো পার্থক্য নেই। কওমি অঙ্গনের যারা বড় গলায় কথা বলছেন অসংখ্য সমস্যায় জর্জ