বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭

ads

হানাফি মাযহাবের বিতরের নামায কি সঠিক?

OURISLAM24.COM
আগস্ট ১৯, ২০১৬
news-image

 bitirউত্তর : হ্যাঁ, হানাফী মাযহাবের প্রচলিত বিতরের নামায সঠিক ও শুদ্ধ এবং শক্তিশালী হাদীসের আলোকে প্রমাণিত। সহীহ মুসলিম ও সহীহ বুখারী ছাড়াও হাদীসের বিভিন্ন কিতাবে হানাফী মাযহাবের বিতর নামায সম্পর্কিত হাদীস রয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সর্বাবস্থার সঙ্গী বিশিষ্ট ফকীহ সাহাবী হযরত আয়েশা, ইবনে আব্বাস, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর, উবাই ইবনে কা’ব, উমর ফারূক, আলী রাযি. প্রমুখ সাহাবীগণ তিন রাকাআত বিতর পড়তেন।

হযরত আলী ও হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. এর শিষ্যগণও বিতর নামায তিন রাকাআত পড়তেন। আবুয যিনায রহ. বলেন, আমি মদীনার বিখ্যাত সাত ফকীহ অর্থাৎ সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব, কাসিম, উরওয়া, আবূ বকর, খারিজা, উবাইদুল্লাহ ও সুলাইমানের যুগ পেয়েছি। তাছাড়া আরো অনেক শাইখকে পেয়েছি যারা ইলম ও তাকওয়ায় অনন্য ছিলেন, তারা সকলে একমত হয়েছেন- বিতর নামায তিন রাকাআত; আর শেষ রাকাআতেই কেবল সালাম ফিরাবে।এভাবে প্রতি যুগেই বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ, বিদগ্ধ মনীষী, ফকীহ ব্যক্তিবর্গ তিন রাকাআত বিতর নামায পড়েছেন। নিম্নে বিতর নামায সম্পর্কে বর্ণিত কয়েকটি হাদীস উল্লেখ করা হল-

১.       আবূ সালামা রহ. হযরত আয়েশা রাযি. কে জিজ্ঞেস করেন, রমাযানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নামায কেমন ছিল? হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযানে এবং রমাযানের বাইরে এগারো রাকাআতের বেশি পড়তেন না। প্রথমে চার রাকাআত পড়তেন। এর সৌন্দর্য্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করো না। তারপর আরো চার রাকাআত পড়তেন। এর সৌন্দর্য্য ও দীর্ঘতা সম্পর্কেও প্রশ্ন করো না। তারপর তিন রাকাআত (বিতর) পড়তেন। (সহীহ বুখারী; হা.নং ১১৪৭, সহীহ মুসলিম; হা.নং ৭৩৮)

২.      হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, ইশার নামায শেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে প্রবেশ করে দুই রাকাআত নামায পড়তেন। তারপর আরো দুই রাকাআত পড়তেন যা পূর্বাপেক্ষা দীর্ঘ হতো। তারপর তিন রাকাআত বিতর নামায পড়তেন তাতে মাঝে (অর্থাৎ দুই রাকাআত শেষে) সালাম ফিরাতেন না। (মুসনাদে আহমাদ; হা.নং ২৫২২৩)

৩.      হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে আট রাকাআত নামায পড়তেন। তারপর তিন রাকাআত বিতর পড়তেন। (সুনানে নাসায়ী; হা.নং ১৭০৭, সহীহ মুসলিম; হা.নং ৭৬৩)

৪.      হযরত উবাই ইবনে কাব রাযি. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাকাআত বিতর পড়তেন। প্রথম রাকাআতে সূরা আলা, দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা কাফিরূন, তৃতীয় রাকাআতে সূরা ইখলাস পড়তেন এবং রুকূর পূর্বে দুআ কুনূত পড়তেন।

(সুনানে নাসায়ী; হা.নং ১৬৯৯) এরূপ বর্ণনা হযরত ইবনে আব্বাস ও হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আবযা রাযি. থেকেও বর্ণিত আছে। (সুনানে নাসায়ী; হা.নং ১৪২৭, ১৭৩৩)

৫.      হযরত উমর রাযি. বলেন, আমি তিন রাকাআত বিতর পড়া ছাড়তে কখনোই পছন্দ করি না, যদিও এর বিনিময়ে আমাকে লাল উট উপহার দেয়া হয়। (মুআত্তা ইমাম মালেক; হা.নং ২৬০)

৬.      যামান রহ. বলেন, হযরত আলী রাযি. তিন রাকাআত বিতর পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা; হা.নং ৪৯১৪)

৭.       আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. তিন রাকাআত বিতর পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা; হা.নং ৬৮৯৪)

৮.      উবাই ইবনে কাব রাযি. তিন রাকাআত বিতর পড়তেন। (মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক; হা.নং ৪৬৬১)

৯.      হযরত আনাস রাযি. বলেছেন, বিতর নামায তিন রাকাআত। তিনি নিজেও তিন রাকাআত বিতর পড়তেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা; হা.নং ৬৮৯৩)

১০.    হযরত আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, হযরত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন রাকাআত বিতর পড়তেন এবং শেষ রাকাআতের পূর্বে সালাম ফিরাতের না। মুসতাদরাকে হাকেমের বর্ণনায় রয়েছে, আমীরুল মুমিনীন হযরত উমর রাযি.-ও বিতর এভাবে পড়তেন এবং তাঁর কাছ থেকেই মদীনাবাসী এ আমল গ্রহণ করেছেন। (আলমুসতাদরাক আলাস সহীহাইন; হা.নং ১১৮১)

১১.     আসিম আহওয়াল বলেন, আমি হযরত আনাস রাযি. কে কুনূত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, হ্যাঁ, কুনূত আছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, রুকূর আগে না, পরে? তিনি বললেন, রুকূর আগে। (সহীহ বুখারী; হা.নং ৪০৯৬)

১২.    মাসরুক, আসওয়াদ বলেন, হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. শুধু বিতর নামাযেই কুনূত পড়তেন। আর তা রুকূর পূর্বে কিরাআত শেষ করে তাকবীর বলে কুনূত শুরু করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা; হা.নং ৭০২১)

১৩.    আবূ আব্দুর রহমান বলেন, ইবনে মাসউদ রাযি. আমাদের শিক্ষা দিয়েছেন, আমরা যেন কুনূতে নিম্নোক্ত দুআটি পড়ি-

اللهم إنا نستعينك ونستغفرك ونثني عليك الخير ولا نكفرك ونخلع ونترك من يفجرك اللهم إياك نعبد ولك نصلي ونسجد وإليك نسعى ونحفد نرجو رحمتك ونخشى عذابك إن عذابك الجد بالكفار ملحق.

শব্দের সামান্য তারতম্যসহ অন্যান্য বর্ণনায়ও এ দুআ বর্ণিত হয়েছে। এক বর্ণনায় ونؤمن بك ونتوكل عليك এক বর্ণনায় ونشكرك শব্দটিও রয়েছে। এই বর্ণনাগুলোর আলোকে পূর্ণ দুআটি এভাবে পড়া যায়-

اللهم إنا نستعينك ونستغفرك ونؤمن بك ونتوكل عليك ونثني عليك الخير ونشكرك ولا نكفرك ونخلع ونترك من يفجرك اللهم إياك نعبد ولك نصلي ونسجد وإليك نسعى ونحفد نرجو رحمتك ونخشى عذابك إن عذابك الجد بالكفار ملحق.

হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. প্রতিদিন বিতর নামাযে এ দুআটি পড়তেন। (মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক; হা.নং ৪৯৬৯)

(সূত্র: সহীহ বুখারী; হা.নং ১১৪৭, ৪০৯৬, সহীহ মুসলিম; হা.নং ৭৩৮, সুনানে নাসায়ী; হা.নং ১৪২৭, ১৬৯৮, ১৭০৭, মুসনাদে আহমাদ; হা.নং ২৫২২৩, মুআত্তা ইমাম মুহাম্মাদ; হা.নং ২৬০, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা; হা.নং ৬৮৯৩, ৬৮৯৪, ৬৯০৮, ৬৯১১, ৬৯১২, ৭০২১, ৭০২৭, ২৯৭১৯, মুসান্নাফে আব্দুর রায্যাক; হা.নং ৪৬৬১, ৪৯৭৪, আলমুসতাদরাক আলাস সহীহাইন; হা.নং ১১৪০, শরহু মাআনিল আসার; হা.নং ১৬২৭)

সূত্র: মাহাদুল বুহুসিল ইসলামিয়া