মঙ্গলবার, ২৭ জুন ২০১৭

কারো হক নষ্ট করবেন না

OURISLAM24.COM
জুন ৬, ২০১৬
news-image

monjurul islamমাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম : আমরা সবাই নামাজ পড়ি। নিজেদের মুসলমান দাবি করি। কিন্তু হক্কুল ইবাদাতের প্রতি আমাদের কোন নজর নেই। ভ্রুক্ষেপ নেই। অন্যের হক নষ্ট করাকে কোন অপরাধ মনে করি না।অন্যের অধিকার হরণ করায় আমাদের মনে ‘পাপবোধ ও চিত্তে অস্বস্তি ’ অনুভূত হচ্ছে না। দীন মেনে না-চলা, নীতি-নৈতিকতা বর্জিত ক্ষয়ে-যাওয়া সমাজ বোদ্ধামহলে ঘৃণিত। অধিকার হরণকারী পাপিষ্ঠ। এ চেতনা ও অনুভূতি যেন আজ লুপ্তপ্রায় । অন্যের অধিকার হরণও করছে, নামাজও পড়ছে। এমন নামাজি ব্যক্তির নামাজের সওয়াব হকদারদের নিকট চলে যাবে। এই জন্য ভাই, ভাল করে দীন বুঝার চেষ্টা করুন।ধর্ম শাসিত জীবন গড়–ন। দেনা-পাওনার ব্যাপারে সচেতন হোন।

আজকে আমরা অনেকেই আছি খুব ভাল নামাজ পড়ি কিন্তু নিজের আপনজনকে আঘাত করি। কষ্ট দিই। অধিকার বঞ্চিত করি। আমরা ধর্ম থেকে দূরে ছিটকে পড়েছি। তাই অন্যের অধিকার সংরক্ষণ ও পাওনা আদায়ে অভাবিত শিথিলতা প্রদর্শন করছি। যা মোটেই ঠিক নয়। আমরা নষ্ট সমাজরীতি অনুসরণ করছি। ধর্মের মিরাস নীতির বাস্তব প্রয়োগ না করে এ সম্পর্কে অনবগতই থেকে যাচ্ছি। আমাদের এ অজ্ঞতা পাপের দ্বার উন্মোচিত করে। ফলে আমরা পৈতৃক সম্পত্তিতে সুষম বণ্টনে ব্যর্থ হই। বণ্টন বৈষম্যের শিকার হই। বঞ্চিত করি বোনকে। বোন লজ্জায় কিংবা সম্মান রক্ষার্থে তার পাওনা দাবি করছেন না। ভাইদের প্রতি সদয় আচরণ দেখালেন। কিংবা তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করলে ভাইদের সঙ্গে ‘সম্পর্ক ছিন্নের ভয়ে’ শঙ্কিত। তাই বলেন,‘ বাপের সম্পত্তিতে আমার কোনও দাবি নেই।’ ব্যস, ভাইয়েরা পার পেয়ে গেলেন! আর আনন্দে গদগদ করে জাবর কাটলেন ‘ আমি তো দিতে চেয়েছি , বোনই তো নেয়নি।’ না, ভাইদের এমন দায়িত্বহীনতা ও লোলুপ মানসিকতা কাম্য নয়।

একটু ভেবে দেখুন । বোন সম্পত্তি নিতে মৌখিক অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বটে, কিন্তু নিজেকে একটু জিজ্ঞেস করুন।লক্ষ করুন এতে তার চেহারা ও হৃদয়ে আনন্দ না বেদনার ছাপ পড়েছে? তার হৃদয়ে আনন্দের ঢেউ বইছে না রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে? চাপা-বেদনায় তার হৃদয় ফেটে চৌচির হচ্ছে না তো? যাতনাক্লিষ্ট হয়ে আড়ালে চোখের অশ্রু মুছছেন না তো? তার এ অস্বীকৃতি কি সন্তুষ্ট চিত্তে হয়েছে না সমাজরীতির ভয়ে? আপনি ভাই হয়ে বোনের চোখের জল মুছে দিতে পারলেন না। বরং বোনকে অধিকার বঞ্চিত করে কাঁদালেন। নিজ থেকে আপনি বোনের জন্য কী করলেন? পৈতৃক সম্পত্তিতে বোনের অধিকার হরণ করার তো কোনও অধিকার আপনার নেই। ভুলে যাবেন না। এটা বোনের অধিকার। তার প্রতি আপনার অনুগ্রহ নয়। আপনার যেমন পিতার সম্পত্তিতে অধিকার আছে তেমনি তারও আছে। আপনি তার হক তাকে বুঝিয়ে দিন।পিতার স্থাবর-অস্থাবর সকল সম্পদে মেয়ের অধিকার আছে। আপনি ভাই হিসেবে বোনের শরিয়তমাফিক অধিকারগুলো আদায় করুন।এটা আপনার দায়িত্ব। দায়িত্বে হেলা করলে কেয়ামতের মাঠে ফেসে যাবেন। ঘৃণা করুন সেই সমাজরীতিকে । যেখানে বোনের অধিকার লুণ্ঠিত হয়।

আপনি ভাই হয়ে বোনের চোখের জল মুছে দিতে পারলেন না। বরং বোনকে অধিকার বঞ্চিত করে কাঁদালেন। নিজ থেকে আপনি বোনের জন্য কী করলেন? পৈতৃক সম্পত্তিতে বোনের অধিকার হরণ করার তো কোনও অধিকার আপনার নেই।

বোনের মুখের হাসি কেঁড়ে নেয়। ইসলামকে জানুন। ইসলামে উত্তরাধিকার স্বত্ব তথা মিরাস বিধান সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন করুন।মিরাস বিধান অনুযায়ী বোনকে তার পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে নিজে দায়মুক্ত হোন। দায়িত্ব সচেতনতার পরিচয় দিন। নিঃস্বার্থভাবে ভাই-বোনের সম্পর্ক আজীবন ধরে রাখুন। বোনের সম্পত্তি ভোগ-দখল করার জন্য মিকি ভালবাসা আর সম্পর্কের কী মূল্য আছে? বোনকে তার অধিকার বুঝিয়ে দেওয়াই তো ভাইবোনের সুসম্পর্কের বহিঃপ্রকাশ। বর্জন করুন সেই সমাজরীতি ও মানসিকতাকে ।যেখানে বোন তার অংশ নিয়ে নিলে আর বাপের বাড়ি আসতে পারে না। সম্পর্কের টানাপোড়েন চলে।

আলোচক: খতিব, ইসলামবাগ বড় মসজিদ, প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদিস, জামিয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ, চকবাজার , ঢাকা।